
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে খতমে কুরআন, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা করেছে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এই শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকালে খতমে কুরআন ও দোয়া মাহফিল শেষে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে আয়োজিত শোকসভাটি সঞ্চালনা করেন ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মো. আরিফ।
শোকসভায় বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের চরম দুঃসময়ে ১৫ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেছিলেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বিগত সময়ের ক্লাব নেতৃবৃন্দ কখনোই এই অবদানের কথা স্বীকার করেননি। তবে বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটি যার যতটুকু অবদান, তার স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের কার্পণ্য করবে না বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।
এছাড়া সাংবাদিকদের আবাসনের ক্ষেত্রে জিয়া পরিবারের অবদানের কথা স্মরণ করে বক্তারা জানান, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর কল্পলোক আবাসিক এলাকায় সাংবাদিকদের আবাসনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় প্লট বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছিলেন। এর আগে ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের আবাসিক সংকট দূর করার জন্য নগরীর বায়েজিদ এলাকায় নামমাত্র মূল্যে ১৬ একর জায়গা বরাদ্দ দিয়েছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় তাঁর ত্যাগ ও অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় তিনি আজীবন আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও নিপীড়নের মধ্যেও তিনি কখনো আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি, যা তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে।
শোকসভায় আলোচনায় অংশ নেন এবং উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলি পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র সদস্য মইনুদ্দিন কাদেরী শওকত, ক্লাবের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শামসুল হক হায়দরী, ড্যাবের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ডা. সারোয়ার আলম, সিনিয়র সহসভাপতি মুস্তফা নঈম, সহসভাপতি ডেইজি মওদুদ, কার্যকরী সদস্য ও মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, সিনিয়র সদস্য ড. আব্দুল ওয়াজেদ, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, ক্রীড়া সম্পাদক রুবেল খান, গ্রন্থাগার সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ ও সদস্য মুহাম্মদ আজাদ। এছাড়া কার্যকরী সদস্যদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম সেলিম, সাইফুল ইসলাম শিল্পী ও আরিচ আহমেদ শাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।