
চট্টগ্রাম নগরীর চন্দনপুরা এলাকায় চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান সিআইপির বাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে চন্দনপুরার ভুঁইয়াগলিতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। মাইক্রোবাসে চড়ে আসা একদল মুখোশধারী সন্ত্রাসী বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে এই তাণ্ডব চালায়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার ভোরে ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল মাইক্রোবাসে করে এসে মুজিবুর রহমানের বাড়ির সামনে ও পেছনে অবস্থান নেয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, জ্যাকেট ও মাস্ক পরা চার যুবক অস্ত্র হাতে বাড়ির সামনে এসে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে এবং এরপর প্রায় ২২ রাউন্ড গুলি চালায়। গুলিবর্ষণের পর তারা স্বাভাবিকভাবেই হেঁটে চলে যায়। ঘটনার সময় সাবেক এমপি মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতেই ছিলেন। তবে ভাগ্যক্রমে কেউ হতাহত হননি।
ঘটনার পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, একটি মাইক্রোবাসে করে এসে আটজনের একটি দল মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করে। তাদের মুখে মাস্ক ছিল। বাড়ির গেটে ও পেছনের দেয়ালে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং অপরাধীদের শনাক্তে কাজ চলছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
চকবাজার থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র ধারণা করছে, চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে হামলার নেপথ্যে দুবাইয়ে অবস্থানরত চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর বা ‘সাজ্জাদ বাহিনী’র সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে মুজিবুর রহমান সিআইপি জানান, মাস দেড়েক আগে ‘বড় সাজ্জাদ’ পরিচয়ে একটি বিদেশি নম্বর থেকে দুই দফা ফোন করে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল। তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। হামলার সময় তিনি ঘুমাচ্ছিলেন এবং হঠাৎ গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
পুলিশ জানিয়েছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী দীর্ঘ দুই দশক ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করে চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিস্তৃত একটি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছেন। ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। নগরের চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ এবং জেলার হাটহাজারী ও রাউজানসহ অন্তত পাঁচটি থানা এলাকায় তাঁর নেটওয়ার্ক সক্রিয়। চাঁদা না পেলে তাঁর অনুসারীরা নিয়মিত গুলিবর্ষণ ও সহিংসতায় জড়ায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সরকার পরিবর্তনের পর সিআইপি মুজিবুর রহমানের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছিল। তবে তিনি কৌশলে সম্প্রতি নতুন একটি নিয়মিত পাসপোর্ট তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টায় আছেন এমন গুঞ্জনের মধ্যেই সাজ্জাদ বাহিনী চাঁদা না পেয়ে তাঁর বাড়িতে এই হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মুজিবুর রহমান ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে বাঁশখালী থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। তাঁর মালিকানাধীন স্মার্ট গ্রুপ দেশের একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী, যার পোশাক, টেক্সটাইল, রিয়েল এস্টেট ও জ্বালানি খাতে বড় বিনিয়োগ রয়েছে। গুলিবর্ষণের ঘটনার পর চন্দনপুরা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।