
একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেছেন, অতীতে চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত অনেক নেতা জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেও নির্বাচনের পর তাঁদের আর চট্টগ্রামে খুব একটা পাওয়া যায় না। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, সাবেক হুইপ আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী যেন নিজেকে চট্টগ্রামের নেতা হিসেবেই গড়ে তোলেন এবং চট্টগ্রামের উন্নয়ন, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আরও বেশি করে ভাবেন ও কাজ করেন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে সাবেক সংসদ সদস্য ও সংসদীয় দলের হুইপ আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীর অষ্টম জাতীয় সংসদে দেওয়া ভাষণের সংকলন ‘সংসদীয় ভাষণ’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এম এ মালেক বলেন, শাহজাহান চৌধুরী একজন আদর্শবাদী নেতা। তিনি অতীতেও সংসদে চট্টগ্রামের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন। নির্বাচিত হলে ভবিষ্যতেও তিনি চট্টগ্রামের বিষয়গুলো আরও জোরালোভাবে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন, এমনটাই সবার প্রত্যাশা। সংসদে দেওয়া তাঁর বক্তব্য আজ বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে। এতে করে আগামী প্রজন্ম জানতে পারবে তিনি সংসদে কী বলেছিলেন। বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জানার কোনো শেষ নেই। একটি ভালো বই একজন বন্ধুর মতো, আর একজন ভালো বন্ধু একটি লাইব্রেরির সমান। তিনি আরও বলেন, ব্যক্তি হিসেবে প্রত্যেকে যদি নিজেকে সৎ, দায়িত্ববান ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে, তাহলে সম্মিলিতভাবে একটি আদর্শ সমাজ গড়া সম্ভব।
অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, তিনি আজীবন চট্টগ্রামের মানুষের সঙ্গেই থাকতে চান। চট্টগ্রামের বাইরে তাঁর কোনো ঠিকানা নেই। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতেও তিনি চট্টগ্রামের বাইরে কোথাও থাকবেন না এবং চট্টগ্রামের মানুষের জন্য কাজ করে যাবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে সংসদে তিনি শুধু নিজ নির্বাচনী এলাকা সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার উন্নয়ন নয়, বরং চট্টগ্রামের বড় বড় সমস্যা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও কথা বলেছেন, যা এই বইতে স্থান পেয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও পরিবেশ বিজ্ঞানী নজরুল ইসলাম বলেন, শাহজাহান চৌধুরী যেভাবে বাংলাদেশ ও নিজ এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি পায়ে হেঁটে এলাকায় ঘুরে সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝার চেষ্টা করেন। নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ভিন্নমত থাকলেও চট্টগ্রামের উন্নয়নের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি জুলাই বিপ্লবের শহীদ ফারুক হোসেন, ফয়সাল আহমেদ শান্ত, হৃদয় তরুয়া ও শহীদ তানভিরসহ সারাদেশে নিহত দুই হাজার শহীদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানান।
তাফহীম পাবলিকেশনের সত্ত্বাধিকারী মুহাম্মদ আবু সুফিয়ানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ, দৈনিক কালের কণ্ঠের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান মোস্তফা নঈম, দৈনিক ইনকিলাবের সিনিয়র রিপোর্টার রফিকুল ইসলাম সেলিম এবং এটিএন বাংলার ব্যুরো প্রধান আবুল হাসনাত প্রমুখ।