শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

বাবার ঠাঁই কারাগারে, উদ্ধার হওয়া ছোট শিশুটি চলে গেল না ফেরার দেশে

আনোয়ারা-কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৫ জানুয়ারী ২০২৬ | ৭:০১ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের আনোয়ারায় হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া দুই ভাই-বোনের মধ্যে ছোট শিশুটি মারা গেছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বেলা তিনটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই বছর বয়সী ওই ছেলেশিশুটির মৃত্যু হয়।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মারা যাওয়া শিশুটির লাশ নিতে তার দাদি ইতিমধ্যে চট্টগ্রামে এসেছেন। খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার ইউএনও’র সঙ্গে কথা বলে লাশ হস্তান্তরের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের মাজারগেট এলাকা থেকে শিশু দুটিকে উদ্ধার করেছিলেন মহিম উদ্দিন নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। অন্য শিশুটি চার বছর বয়সী কন্যাসন্তান। তীব্র শীতের রাতে সড়কের পাশে অযত্নে পড়ে থাকা শিশু দুটিকে উদ্ধার করে মহিম উদ্দিন প্রথমে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা প্রশাসন তাদের দায়িত্ব নেয়।

গত মঙ্গলবার দুপুরে ওই দুই শিশুকে নিয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়েছিলেন ইউএনও তাহমিনা আক্তার। তখন জেলা প্রশাসক তাদের চিকিৎসা ও যাবতীয় খরচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দুই শিশুর মধ্যে মেয়েশিশুটিকে উদ্ধারকারী অটোরিকশাচালক মহিম উদ্দিনের জিম্মায় দেওয়া হয় এবং গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় দুই বছর বয়সী ছেলেশিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে সোমবার শিশুটি মারা গেল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশু দুটির বাবার নাম খোরশেদ আলম। তাঁর বাড়ি খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় হলেও তিনি জীবিকার তাগিদে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার মিয়ারবাজার এলাকায় রিকশা চালাতেন। তাঁর স্ত্রীর বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়। জানা যায়, ছয় মাস আগে খোরশেদ আলমের স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যান এবং আর ফিরে আসেননি। এরপরই শিশু দুটিকে রাস্তায় পাওয়া যায়।

এদিকে দুই শিশুকে উদ্ধারের ঘটনাটি গণমাধ্যমে আসার পর গত ৩১ ডিসেম্বর আদালত বিষয়টি আমলে নেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাখাওয়াত হোসেনের আদালত আনোয়ারা থানায় এ বিষয়ে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ‘শিশু আইন ২০১৩’ অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা ৫ জানুয়ারির মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের ওই আদেশ পাওয়ার পর আনোয়ারা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিশুদের বাবা খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করে।