শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

চট্টগ্রামে প্রথম কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাওয়ার্ড, ৩৮৮ প্রতিযোগীকে টপকে সেরা ১৪

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৮ জানুয়ারী ২০২৬ | ১১:২৭ অপরাহ্ন


ডিজিটাল কনটেন্ট অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করতে চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাওয়ার্ড’। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর রেডিসন ব্লু হোটেলের মেজবান হলে বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে ১৪টি ক্যাটাগরিতে সেরা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

‘হোন্ডা প্রেজেন্টস চট্টগ্রাম কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে সহযোগিতায় ছিল ডেল্টা এলপি গ্যাস ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। আয়োজক প্রতিষ্ঠান মিডিয়াগ্রাফির এই উদ্যোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের পাশাপাশি শিল্পপতি, নীতিনির্ধারক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় রেড কার্পেট আয়োজনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এবং সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয় মূল পর্ব। আয়োজকরা জানান, পুরস্কারের জন্য চট্টগ্রামের ৩৮৮ জন কনটেন্ট ক্রিয়েটর আবেদন করেছিলেন। বিচারক প্যানেলের যাচাই-বাছাই শেষে বিজয়ীদের চূড়ান্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল কনটেন্ট এখন সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং তরুণদের ইতিবাচক সৃজনশীলতায় উৎসাহ দিচ্ছে। সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে কাজ করে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ চট্টগ্রাম গড়তে তিনি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিনের সংগীতজীবনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও গীতিকার নকিব খান এবং আসিফ ইকবালকে ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। এছাড়া ধারাবাহিক ও প্রভাবশালী কাজের জন্য ফাহাদ লোকমান ও এলিজা বিনতে এলাহীকে ‘স্পেশাল রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়।

বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীরা হলেন—শিক্ষা ক্যাটাগরিতে উথিয়ই মারমা, বিনোদন ও কমেডিতে শামীম আহমেদ মোনা, ফুড ও রেসিপিতে রোহিত চাকমা, হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিইং বা স্বাস্থ্য বিভাগে হুরিল জান্নাত, ফ্যাশন অ্যান্ড বিউটিতে সানজিদা ইসলাম সায়মা এবং সোশ্যাল কজ বা সামাজিক দায়বদ্ধতা ক্যাটাগরিতে রবিউল ইসলাম। সংগীত ও পরিবেশনা বিভাগে নারী কণ্ঠশিল্পী হিসেবে বৃষ্টি দে এবং পুরুষ কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আরিয়ান চৌধুরী সেরা নির্বাচিত হন। মিউজিক ক্যাটাগরিতে আকাশ দে ও শিপন বিশ্বাস এবং ড্যান্স অ্যান্ড পারফরম্যান্স বিভাগে প্রিয়াঙ্কা বড়ুয়া সম্মাননা পান। স্পোর্টস ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে পুরস্কার পান সাজ্জাদ ও মিনহাজ এবং আবদুর রহিম। ট্রাভেল ভ্লগ বিভাগে সেরা হন মোহাম্মদ ফাহেম শরিয়ার। এছাড়া ‘বেস্ট ব্র্যান্ড প্রোমোটার’ ও ‘বেস্ট পপুলার কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ হিসেবে জোড়া স্বীকৃতি পান স্মিতা চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পিএইচপি গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মহসিন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব, কেএসআরএম গ্রুপ ও এসআর শিপিংয়ের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) সরওয়ার জাহান, হোসাইন প্যাকেজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়ন ওসমান গনি এবং রেনকন প্রপার্টিজের সিইও তানভির শাহরিয়ার রিমন।

এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তরুণ রাজনীতিবিদ ইসরাফিল খসরু ও জুবাইরুল আরিফ, বারকোড রেস্টুরেন্ট গ্রুপের মঞ্জুরুল হক, মেরিডিয়ান গ্রুপের ডিরেক্টর আদিব কামাল, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. সোমেন পালিত এবং ইপসার (ওয়াইপিএসএ) অ্যাডভোকেসি প্রধান মুহাম্মদ আলী শাহিন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাওয়ার্ডের আহ্বায়ক রওশন আরা চৌধুরী। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর ডেপুটি এডিটর সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ঢাকার বাইরে এমন উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল মিডিয়া সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করবে। পত্রিকাটির চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান শামসুদ্দিন ইলিয়াস আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই উদ্যোগ নির্মাতাদের সমাজের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হতে উৎসাহিত করবে। মিডিয়াগ্রাফির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আয়োজক মিল্টন দাশ বিজয় বলেন, এই অ্যাওয়ার্ড চট্টগ্রামে সৃজনশীলতার স্বীকৃতিতে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে এবং জাতীয় পর্যায়ে শহরের ডিজিটাল কনটেন্ট ইকোসিস্টেমকে তুলে ধরতে ভূমিকা রাখবে।