শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

নির্বাচন করতে জেল বদলাতেই লেগেছিল ১০ লাখ টাকা: মেয়র ডা. শাহাদাত

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ | ৫:০৭ অপরাহ্ন


বিগত সরকারের আমলে নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা কী ধরণের বাধার সম্মুখীন হয়েছেন, তার বর্ণনা দিতে গিয়ে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তখন নির্বাচনী এলাকায় ফিরতে জেল বদলানোর জন্যই তাকে ১০ লাখ টাকা খরচ করতে হয়েছিল।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিকদের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার শেষ দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) ‘চট্টগ্রাম জেলার সাংবাদিকদের নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা’ বিষয়ক এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় আমাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তখন কাশিমপুর কারাগারে ছিলাম। নির্বাচন করতে আমাকে চট্টগ্রাম কারাগারে আসতে হবে। সেই জেল বদল করে কাশিমপুর থেকে চট্টগ্রাম কারাগারে আসতেই আমার ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। সেই সময় নির্বাচনকে একটি নির্যাতনের জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

গত দেড় দশকের নির্বাচনী ব্যবস্থার সমালোচনা করে মেয়র বলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে সাজানো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক আনা হয়েছিল। বিদেশ থেকে কিছু ‘মাদকাসক্ত টাইপের’ লোক এনে পর্যবেক্ষক সাজিয়ে ইংরেজি বলানো হয়েছিল, যাতে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য দেখানো যায়। ২০২১ সালের নির্বাচনে সাংবাদিক সোমার উপস্থিতিতে আমার নারী এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সাংবাদিকরা সব দেখলেও উপস্থাপনের সময় নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য হিসেবেই তুলে ধরেছিলেন।

অতীতের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ছিল। তখন নির্বাচনে কারচুপি নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলেনি। ১৯৯৪ সালের চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের সময় ক্ষমতায় বিএনপি থাকলেও স্বচ্ছতার কারণে আওয়ামী লীগের এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী জয়ী হয়েছিলেন। যা গত ১৬ বছরে রেজাউল করিম বা আ জ ম নাছির উদ্দীনের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি।

সাংবাদিকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সবাই মনে করেছিল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু সাংবাদিকরা বেগম খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন নেতৃত্ব’কে প্রমোট করার ফলে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল। আশির দশকে সাংবাদিকরা ছাত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক রাজনীতিকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিতেন। তিনি সাহসী ও নৈতিক সাংবাদিকতার চর্চা এবং ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ বা শুধু ‘ভিউ’ পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রচারের সমালোচনা করেন।

বর্তমান প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ডা. শাহাদাত জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় তিনি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং তাকে সরিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিমধ্যে ৫০-৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য খালের ওপরের অবৈধ ঘরবাড়ি ভাঙার কাজ সেনাবাহিনী করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আগামীতে ১৯৯১ সালের মতো একটি উৎসবমুখর ও স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মেয়র।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের সঞ্চালনায় সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিআইবির পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ তোহিদুল আনোয়ার।

অনুষ্ঠানে বক্তারা সুষ্ঠু গণতন্ত্রের স্বার্থে সাংবাদিকতাকে আয়নার মতো স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত রাখার আহ্বান জানান।