শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

অস্ত্রসহ ছবির জেরে গ্রেপ্তার, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এল আসল রহস্য

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ | ১২:০১ অপরাহ্ন


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অস্ত্র হাতে ছবি দেখেই চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ছাত্রদল নেতা শওকত আলীকে গ্রেপ্তার করেছিল যৌথ বাহিনী। তবে ডিজিটাল অনুসন্ধানী গণমাধ্যম ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ছড়িয়ে পড়া ওই ছবিগুলো ছিল ভুয়া ও এডিট করা। গ্রেপ্তারের পর পুলিশও তাঁর কাছ থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি।

গত ৭ জানুয়ারি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি শওকত আলীকে আটক করে যৌথ বাহিনী। তখন সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, যুগান্তর ও সিপ্লাস টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়েছিল, অস্ত্র হাতে ছবি ভাইরাল হওয়ার জেরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তবে ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শওকত আলীর ফেসবুক প্রোফাইলে থাকা পুরোনো দুটি সাধারণ ছবিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে অস্ত্র যুক্ত করে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোর একটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শওকত আলী নিজেই পোস্ট করেছিলেন, যার ক্যাপশন ছিল ‘স্বাধীন বাংলা হয়েছে স্বাধীন ২০২৪.০৮.০৫’। অন্য ছবিটি একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর পোস্ট করা। এই দুটি ছবিকেই সম্পাদনা করে তার হাতে অস্ত্র জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী শওকত আলী বলেন, “এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমার ছবিতে অস্ত্র যুক্ত করা হয়েছে। অন্তত ১০টি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে পরিকল্পিতভাবে এগুলো ছড়ানো হয়।”

তাঁর দাবি, বালুমহল ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার কারণেই একটি চক্র তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে। বিষয়টি নজরে আসার পর গত ১২ নভেম্বর তিনি রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন এবং সেনাবাহিনীকেও লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন।

রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান হোসেন বলেন, “সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে প্রাথমিক তথ্য ও সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছিল। তবে অভিযানের সময় তাঁর কাছ থেকে কোনো অস্ত্র, গোলাবারুদ বা অবৈধ কিছু উদ্ধার হয়নি।”

ওসি আরও জানান, তখন তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা না থাকায় তাকে ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালত থেকে তিনি মুক্তি পান।