রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

কৃতিত্বটা মুমিনুল-লিটনের : মাহমুদুল্লাহ

| প্রকাশিতঃ ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ৮:৪৮ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম : শ্রীলংকার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে হারের শংকায় পড়েও শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে মুমিনুলের ১০৫ ও লিটন দাসের ৯৪ রানের কল্যানে ড্র করতে পেরেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। তাই মোমিনুল-লিটনের ইনিংস দু’টির প্রশংসা না করে পারলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দু’জনের এমন লড়াকু ইনিংসের কারনে বাংলাদেশ ভালো ফল পেয়েছে বলে মনে করেন মাহমুদুল্লাহ।

ম্যাচ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের দলীয় কথা ছিলো, ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে খেলা। উইকেট আজও খুব ভালো ছিলো। মুমিনুল ও লিটন কষ্ট করে করে ব্যাটিং করেছে। তাদের কষ্টের ফল আমরা সবাই পেয়েছি। সুতরাং মূল কৃতিত্বটা তাদেরই দিতে হবে।’

প্রথম ইনিংসে ৫১৩ রান করেও ২০০ রানে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। কারণ প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ৭১৩ রান করে শ্রীলংকা। তাই ২শ’ রানে পিছিয়ে থেকে চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে নেমেই বিপদে পড়ে টাইগাররা। স্কোরবোর্ডে ৮১ রান উঠতেই ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ হারের শংকায় পড়ে যায় বাংলাদেশ। এই শংকা নিয়ে পঞ্চম ও শেষদিনে ম্যাচ বাচাঁনোর লড়াই শুরু করেন মুমিনুল ও লিটন। তবে শেষ দিন নিয়ে দলের পরিকল্পনা কি ছিলো, এ ব্যাপারে মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘পরিকল্পনা শুধু একটা জিনিসই ছিলো, আমরা জানি প্রথমেই আমরা তিনটা উইকেট হারিয়েছিলাম, আমাদের মধ্যে যাতে ওই বিশ্বাসটা থাকে যে আমরা বাংলাদেশ দলকে প্রতিনিধিত্ব করছি এবং ওইভাবেই যেনো আমরা রিঅ্যাক্ট করি, আমাদের অ্যাকশনগুলো যেনো ওই রকম হয়। আলহামদুলিল্লাহ মুমিনুল ও লিটন আজ খুব ভালো ইনিংস খেলেছে। আমার মনে হয় যে, ওদের ইনিংস খুবই ফাইটিং নক ছিলো। খুব ভালো লেগেছে। ওদের পারফরমেন্সে আমি খুবই খুশি।’

চতুর্থ উইকেটে মোমিনুল-লিটনের রেকর্ড ১৮০ রানের জুটিতে ড্র’র পথ পেয়ে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি শ্রীলংকার বোলাররা। তাই ম্যাচ শেষ হবার ১ ঘন্টা ১০ মিনিট ও ১৭ ওভার আগেই নিজ থেকে শ্রীলংকা ড্র মেনে নেয় বলে জানান মাহমুুদুল্লাহ, ‘গতকাল আমরা যে অবস্থায় ছিলাম, আপনি যেটা বললেন যে, হারের আশঙ্কা উঁকি দিচ্ছিলো। কিন্তু আমি যেটা বললাম যে, আমাদের মধ্যে বিশ্বাস থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। আমাদের যে দায়িত্ব তা মনে রেখে ব্যাটিং করা উচিত ছিলো। আমাদের স্কিলেও আমাদের বিশ্বাস ছিলো। আমাদের শুধু একটা জুটির দরকার ছিলো। যেটা মুমিনুল ও লিটন করেছে। আর ড্র’র কলটা ওদের (শ্রীলংকার) তরফ থেকেই আসে। যেহেতু রেজাল্ট হচ্ছে না, তো তাড়াতাড়ি শেষ করে ফেললেই ভালো।’

চট্টগ্রামের প্রথম টেস্টে রানের ফুলঝুড়ি ফুটিয়েছেন বাংলাদেশ-শ্রীলংকার ব্যাটসম্যানরা। তারপরও মাহমুদুল্লাহ মনে করেন এমন উইকেটে কষ্ট করেই রান করতে হয়েছে ব্যাটসম্যানদের। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি গতানুগতিক চট্টগ্রামের উইকেট দেখেন বিগত অনেকগুলো টেস্ট ম্যাচে প্রথম কয়েকদিন স্পিন হয়, পরে ভালো হতে থাকে। এবার আমার মনে হয়, প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত এই উইকেট ভালো ছিলো। একটা দুইটা বল এদিক সেদিক ছিলো। তারপরও ব্যাটিং সহায়ক ছিলো। ভালো ছিলো। এতোটা প্রত্যাশা করিনি। ভেবেছিলাম প্রথম দিন স্পিন হয়নি হয়তো দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিন, বা চতুর্থ বা পঞ্চম দিনে স্পিন হতে পারে। কিন্তু আহামরি স্পিন হয়নি। ব্যাটসম্যানদের জন্য তুলনামূলক ভালো উইকেট ছিলো। তারপরও বলবো সব ব্যাটসম্যানকে কষ্ট করে রান করতে হয়েছে।’

নিজের অধিনায়কত্ব ও দলের পারফরমেন্স নিয়ে বলতে গিয়ে মাহমুদুুল্লাহ বলেন, ‘ব্যাটসম্যনরা সবাই রান পেয়েছে। কিন্তু মুশফিক ও লিটন সেঞ্চুরি পায়নি। ওদের সেঞ্চুরির প্রাপ্য ছিলো। তারপরও মুমিনুল ভালো করেছে। তামিম ভালো করেছে। ইমরুল ভালো শুরু করতে পেরেছে। সবাই কমবেশি ভালো ব্যাটিং করেছি। ইতিবাচক ব্যপারগুলো আমরা নিবো এবং দ্বিতীয় ম্যাচে তা কাজে লাগাবো। বোলারদের জন্য ধৈর্য্যটা গুরুত্বপূর্ণ। পরেও যদি এমন পরিস্থিতি হয়। কখনো কখনো আমরা খুব ভালো বোলিং করেছি। কখনো লুজ বল দিয়েছি। বাউন্ডারি হয়েছে। বোলাররা আরো একটু ধৈর্য ধরলে হয়তো ভালো হবে। আর খুব গভীরভাবে চিন্তা করিনি। তবে সম্মানের ব্যাপার। প্রতিটি ক্রিকেটারেরই ইচ্ছে থাকে। পরের ম্যাচে সাকিব সুস্থ হয়ে গেলে ফিরবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করবো ভালো কিছু করার।’

পুরো টেস্টে ২৮১ রান করে ম্যাচ সেরা হয়েছেন বাংলাদেশের মুমিনুল হক। এই টেস্টে দু’টি বিরল রেকর্ডও স্পর্শ করেছেন তিনি। তাই মুমিনুলকে নিয়ে আলাদা প্রশংসাও করেছেন মাহমুদুল্লাহ, ‘মানুষ ছোট, কিন্তু কাজ বড় করে। একট কথা বলবো তাকে নিয়ে। ওর হার্টটা খুব বড়। হি ইজ আ বিগ হার্টেট ম্যান এবং এ জন্যই আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের জন্য ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে। দোয়া করি সামনে ও আরো ভালো করবে।’