শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

‘কাপ্তাই রাস্তা নাই !’

| প্রকাশিতঃ ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ১১:৪৫ অপরাহ্ন

আজাদ তালুকদার : সময়টা ‘৯০ দশকের গোড়ার দিকে। লম্বা চুল, হালকা গড়নের ফর্সা মতন এক তরুণ ক্যামেরা কাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন চট্টগ্রামের অলি-গলি, রাজপথ। হলুদ রঙ-এর ব্যতিক্রমী এক মটর সাইকেল। হরিণীয় কাঠামোর সেই মটর সাইকেলে ছুটে যেতেন দুর্যোগ-দুর্বিপাকে, ঘটন-অঘটনের সাক্ষী হতে।

ক্লিক ক্লিক শব্দে কত ইতিহাসের সাক্ষী যে হয়েছেন, কত অপরাধী-সন্ত্রাসীর শেকড় উপড়ে ফেলেছেন- সেই এক অনবদ্য ইতিহাস, অনন্য সাধারণ গল্প। এই গল্পের ফেড়িওলার নাম তাপস বড়ুয়া, হ্যাঁ আজাদীর তাপস বড়ুয়ার কথা বলছি; যিনি অনুসন্ধিৎসু, দুঃসাহসী, মানবিক ফটো সাংবাদিকতা করে চট্টগ্রামের মানুষের কাছে ‘তাপসদা’ হয়ে উঠেছিলেন। সেই এক দীর্ঘ ‘কথন’। বিস্তৃত অধ্যায়। সেই চ্যালেঞ্জিং অধ্যায়-গল্প ছাপিয়ে একটা সময়ে শুরু হয় তাঁর নতুন অধ্যায়, সাদামাটা জীবনের হিসাব। পনের বছর ধরে সেই হিসাব মেলাচ্ছেন আমেরিকার বোস্টনে বসে।

রোববার তিনি চট্টগ্রাম এসেছেন কয়েকদিনের অতিথি হয়ে। এসেই একুশে পত্রিকার আহ্বানে ছুটে এলেন। অংশ নেন তরুণ সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রাণবন্ত আড্ডায়। সেই আড্ডায় স্মৃতিকাতর হবেন, সেই সময়কার সাংবাদিকতার পিচ্ছিলতার কথা শোনাবেন তাই স্বাভাবিক। কিন্তু শোনালেন গানও-ভূপেন হাজারিকার ”মোর গাঁয়েরও সীমানার পাহাড়ের ওপারে নিশীথ রাত্রির প্রতিধ্বনি শুনি’।

হ্যাঁ আমেরিকা পরবাসী হয়েও তিনি এখনো গানের মতো চাটগাঁয়ের প্রতিধ্বনি শোনেন, শুনতে পান। সেই অভিব্যক্তি যেমন জানিয়েছেন, জানিয়েছেন এই নগরে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে মৃত্যুর দুয়ার থেকে কীভাবে ফিরে এসেছিলেন।

তাপস বড়ুয়া বলেন, আমাদের সময়ের সাংবাদিকতায় পাওয়ার কোনো বিষয় ছিল না। কেবল বুঝতাম সবচেয়ে ভালো ছবিটিই আমাকে খুঁজে পেতে হবে। আর এই ”ভালো” ছবির সন্ধানে ছুটে বেড়িয়েছি চট্টগ্রামের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত। কোনো বিষয়কেই এড়িয়ে যাইনি। মানুষের জটলা দেখলে সেখানেও থেমে গেছি। একবার কোতোয়ালীর মোড়ে মানুষের জটলা দেখে মটর সাইকেল থামিয়ে কৌতূহলী মনে চোখ ফেলি। দেখি মৃগী রোগে আক্রান্ত পরিপাটি, এক আলেম গোছের লোক রাস্তায় শুয়ে আছেন। জুতার গন্ধ শুকে মৃগী রোগী চেতনা ফিরে পায়, আরোগ্য লাভ করে- সমাজের প্রচলিত এই ধ্যান-ধারণা থেকে লোকজন তার মুখের কাছে পায়ের জুতা চেপে ধরেছে। এতে আরোগ্যের বদলে বরং প্রাণটা যেন ওষ্ঠাগত। মূলত এই চিকিৎসার বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই। তবুও হরদম জুতা-থেরাপি চলে মৃগী রোগীর, আর তা রাস্তায়, পথে-প্রান্তরে সবখানে। আলেম-ওলামা গোছের লোকটির মুখের কাছে ধরে রাখা জুতার দৃশ্য ধারণ করি। পরদিন সেটা দৈনিক আজাদীর লিড ছবি হিসেবে ছাপা হয়, সঙ্গে এই চিকিৎসার বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই-সেই তথ্যও।

ফটো সাংবাদিকতায় চোখ যেমন খোলা রাখতে হয়, তেমনি সজাগ রাখতে ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়। কোথায়, কখন কোন ছবি দেশ কাঁপিয়ে দেবে তা আগে থেকে জানা সম্ভব নয়। তাই দুর্লভ একটি ছবির জন্য প্রতিক্ষণ, প্রতি সময় কাজে লাগাতে হয়। যোগাযোগ বাড়াতে হয় সমাজের সর্বস্তরের সব পেশার মানুষের সঙ্গে। সবার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতাম বলে ভালো ছবিটাই পেতাম, এগিয়ে থাকার সুযোগ পেতাম।

এ প্রসঙ্গে একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন প্রবাসী সাংবাদিক তাপস বড়ুয়া। বলেন, অফিসের কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে এসেছি। রাতের খাবার শেষে আয়েশে টেলিভিশন দেখছি। তখনই আমার পেজারে এক লোকের নকিং। ওই নাম্বারে পাল্টা ফোন করতেই ওই প্রান্ত থেকে ভেসে আসা কণ্ঠ বলছে, ”ভাই কাপ্তাই রাস্তা নাই।” নাই মানে? হ্যাঁ, কাপ্তাই রাস্তা চলে গেছে। এ কেমন কথা! রাস্তা কোথায় গেলো, এর চেয়ে বেশি তথ্য জানাতে পারছেন না ভদ্রলোক। কনকনে শীত। ভাবছি কী করবো? এত রাতে কোথায়, কোন পাশে গিয়ে হাতড়াবো নিখোঁজ হ ওয়া কাপ্তাই রাস্তা। মন মানে না। যদি বিশাল কিছু পেয়ে যাই! না পেলেও দুঃখ নেই। এই তো আমার কাজ। হ্যালমেট, কানটুপি, হাতমোজা, সঙ্গে কয়েক স্তর মোটা কাপড় পরে বেরিয়ে গেলাম। কাপ্তাই রাস্তা ধরে ছুটতে থাকলাম। যেতে যেতে নোয়াপাড়ার পরে কালামরার টেকে গিয়ে থমে গেলাম। দেখি সত্যিই নাই হয়ে গেছে কাপ্তাই রাস্তা। ইটভাটার প্রয়োজনে অতিরিক্ত মাটি উত্তোলনের ফলে কালামরার টেকের কাছে রাস্তার একটি বড় অংশ পাশ্ববর্তী জমিতে বিলীন হয়ে গেছে। তখন ক্যামেরায় আজকের মতো শক্তিশালী ফ্লাশ ছিল না। ক্ষুদ্র, ক্ষিণকায় ফ্লাশে কয়েকটি ক্লিক করলাম। রাত তখন ১২টা। অফিসের দেয়া পেজার থেকে সঙ্কেত দিলাম কথা আছে। আজাদী অফিস থেকে ফোন ব্যাক করতেই বার্তাবিভাগকে জানালাম পুরো কাহিনী। শুনে তারা বললেন, যত দ্রুত সম্ভব চলে আসুন। অপেক্ষায় থাকলাম। রাত পৌনে ১টায় গিয়ে ছবি প্রিন্ট করে ধরিয়ে দিলাম। পরদিন প্রথম পৃষ্ঠায় বিশাল ছবি। বলাবাহুল্য, দেশের আর কোনো সংবাদপত্র ছাপতে পারেনি এ ছবি, যা ছিল আজাদীর এক্সক্লুসিভ। এ ছবির রেশ ছিল অনেকদিন।

সাংবাদিকতা করতে গিয়ে খ্যাতির বিড়ম্বনা, ভুল তথ্য, টার্গেটের শিকার যেমন হয়েছেন তেমনি বহুবার পড়তে হয়েছে প্রভাবশালীদের রোষানলে। এ প্রসঙ্গে তাপস বড়ুয়া বলেন, পুলিশ অপরাধীদের গ্রেফতারের পর ছবি তুলে পত্রিকায় প্রেসবিজ্ঞপ্তি পাঠানোর রেওয়াজ তখনো ছিল। অনেক সময় অস্ত্র না পেলেও হাতেনাতে অস্ত্রসহ পাওয়া গেছে মর্মে ছবি তুলে ছবি পাঠাতো আজাদী অফিসে। যা ছাপা হতো পত্রিকায়। গ্রেফতার হওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বজন-শুভার্থীদের এ নিয়ে জমে থাকা অসন্তোষ একসময় বিক্ষোভে পরিণত হয়। তাদের অনেকের ধারণা এই ছবি আমারই তোলা। চট্টগ্রাম শহরে ফটো সাংবাদিকের সংখ্যা তখন হাতেগোণা। তাছাড়া আমার একটু পরিচিতই ছিল সবখানে। তাই অনেকের ধারণা আজাদীতে ছাপানো সব ছবি বোধহয় আমার তোলা। ফলে পুলিশের পরিবর্তে সমস্ত ক্ষোভটা গিয়ে পড়ে আমার উপর। গ্রেফতার হওয়া এক শিবিরকর্মীর এধরনের একটা ছবি প্রকাশে ক্ষুব্ধ ছাত্রশিবিরের একটি গ্রুপ আমাকে পেয়ে বসে দিদার মার্কেটের কাছে। আমেরিকা ফেরৎ আমার এক বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম। তাকে নিয়ে ফিরছিলাম আজাদী অফিসের দিকে। বন্ধুকে পেছনে বসিয়ে মটর সাইকেল টান দিতেই সশস্ত্র তিন যুবক আমাদের গতিরোধ করে। বলে, ছবি তোলার জন্য এত অস্ত্র পাস কোথায়? অস্ত্রসহ ছবি তুলে খুব সহজেই লিখে দিস অস্ত্রসহ হাতেনাতে গ্রেফতার। বুঝতে পারছি এটা আমার শেষদিন। এরমধ্যে আমার বন্ধুকে মটর সাইকেল থেকে নামিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছে ওরা। নিঃশব্দে পিস্তলে টিগারে টান দেবে সেই সময় পাশ দিয়ে দিয়ে চলা জামায়াতের এক নেতা আমার কুশল জানতে চান। করদর্মন করে বলেন, তাপসদা আপনি এখানে কোনো কাজে এসেছেন? তাদের সিনিয়র ভাইয়ের এমন অ্যাড্রেসিংয়ে একটু চমকে উঠলেন, কী যেন ভাবছিলেন তারা। এমন সময় সজোরে এমন টান দিই মুহূর্তেই আমার গন্তব্য আন্দরকিল্লার কাছাকাছি। ততক্ষণে মটরসাইকেলের ধাক্কায় রাস্তায় পড়ে কাতরাচ্ছেন সিনিয়র ভাই। আমার করার কিছুই ছিল না তখন। সেদিন এভাবে পালিয়ে না আসা ছাড়া আমার করার কিছুই করার ছিল না।

পরে প্রেসক্লাবে গিয়ে বিষয়টি তৎকালীন সভাপতি আতাউল হাকিম ভাইকে জানাই। তিনি চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিনকে জানান। এই ছেলেগুলো তাদের নিয়ন্ত্রিত নয়, কাজেই তারও কিছু করার নেই। জানালেন আফসার উদ্দিন।
জামায়াত-শিবিরের হাত থেকে ঐশ্বরিকভাবে বেঁচে যাবার পর ভাবলেন তিনি যে সাংবাদিকতা করেন আর যাই হোক সেই সাংবাদিকতা এখানে অন্তত নিরাপদ নয়।

এমনতর নানা গল্প, স্মৃতি হাতড়ে বেড়াতে বেড়াতে একেবারে গোড়ার দিকে ফিরে যান তাপস বড়ুয়া। বলেন সাংবাদিকতায় আসার কাহিনী। ছোটকাল থেকে ছবি তোলার নেশা তার। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। সাধ আর সাধ্যের টানাপোড়েন তো আছেই। ছবি তোলার নেশা, সঙ্গে নিত্য বায়না দেখে বড়দাদা একটি ক্যামেরা কিনেই দিলেন তাপসকে। সেই ক্যামেরা নিয়ে শুরু তার অ্যাডভেঞ্চারাস পথচলা। যা পান, তাই তুলছেন। একদিন একটি দৃশ্যে তার দৃষ্টি আটকে যায়। ক্ষুদ্রজ্ঞান বলছে, অসাধারণ ছবি হবে এটি। বিড়াল-কুকুরের চির বৈরি সম্পর্ক তার জানা। কিন্তু সেই বিড়াল-কুকুরই গলাগলি করছে, স্নেহ-মমতায় জড়িয়ে আছে। এই দৃশ্য ভাবিয়ে তুলে তাপসকে। সঙ্গে সঙ্গে ক্লিক। কয়েকদিন পর কৌতূহলবশত সেই ছবি দিয়ে আসলেন আজাদীতে। তার মন বলছে এই ছবি ছাপবেই। প্রতিদিন পত্রিকার পাতা উল্টান। কিন্তু ছবিটা ছাপা হয় না। আজাদীর হয়তো পছন্দ হয়নি ছবিটা। সপ্তাহখানেক পর আজাদীর প্রথমপৃষ্ঠায় তিন কলামে তাপস বড়ুয়ার বাইলেইন ছবি-”স্নেহ বৈরিতা মানে না” শিরোনামে।

আবেগাপ্লুত তাপস বড়ুয়া সেদিন শত শত আজাদী পত্রিকা কিনে বিলিয়েছেন স্বজন-শুভার্থীদের। দেখো-আমার ছবি। বলাবাহুল্য কিছুদিনের মধ্যেই আজাদীতে স্টাফ ফটোগ্রাফার হিসেবে ডাক পড়ে। যোগ দেন তাপস বড়ুয়া। ফটো সাংবাদিক হয়ে উঠার এই গল্প শুনিয়ে তাপস বড়ুয়া তরুণ সাংবাদিকদের বলেন, অসম্ভব একটা প্রেম ছিল, ভালোবাসা ছিল পেশার প্রতি, কর্মের প্রতি। নিয়ম মেনে, ঘড়ির কাঁটা মেপে কখনো কাজ করিনি। পেশার জন্য দিনরাত একাকার করে হয়ে গিয়েছিলাম। তা হতে পেরেছিলাম বলে সম্মান, সম্মাননা পেয়েছি, অগুণতি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। যা কখনো ভুলবার নয়। এসময় ছবির জন্য জাতিসংঘের ইউনেসকো পুরস্কার লাভ এবং বিশ্ববিখ্যাত ”লাইফ” ম্যাগাজিনে বাংলাদেশর দ্বিতীয় ফটো সাংবাদিক হিসেবে নিজের বাইলাইন ছবি ছাপার গৌরবোজ্জ্বল অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন তাপস বড়ুয়া।

অাড্ডার ফাঁকে ফাঁকে চলে তরুণ সাংবাদিকদের গান। প্রথমে শুরু করেন দৈনিক আজাদীর প্রাক্তন মেডিকেল প্রতিনিধি বর্তমানে খাগড়াছড়ির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. একিউএম মহিউদ্দিন মাসুম। তার কণ্ঠে জলের গান ”ও ঝরাপাতা” মুগ্ধতা ছড়ায় অনুষ্ঠানে। পয়লা ফালগুনের রেশ-আবেশ কাটেনি তখনো।

সন্ধ্যার পরও ডিসি হিল থেকে বসন্তের ঢেউ ভেসে আসছিল একুশে পত্রিকার আড্ডায়। সেই ঢেউ মনে করিয়ে আজ তো বসন্ত। ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুকু আজ বসন্ত, পয়লা ফালগুন। আড্ডারুদের মাঝে সেই বসন্তের রঙ ছড়িয়ে দিতে একুশে পত্রিকার সম্পাদক আজাদ তালুকদার ধরলেন ”ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায়”। সহকর্মীদের অনুরোধে ভূপেন হাজারিকার ”একখানা মেঘ ভেসে এলো আকাশে”, নিতুয়া পাথারে..গেয়ে আনন্দ দেয়ার চেষ্টা করেন আজাদ তালুকদার। বণিকবার্তার সুজিত সাহা এবং ইত্তেফাকের আজহার মাহমুদও বাদ যাননি। তারাও সুরে মেতেছেন। অনুরোধ ফেলতে পারেননি আড্ডার মধ্যমণি তাপস বড়ুয়া। সবাইকে ভালোলাগায় ভাসাতে তিনি ভূপেন হাজারিকার দ্বারস্থ হলেন। এরপর অপেক্ষা করছে আরও বেশি কিছু, মানে মুগ্ধতায় ভেসে বেড়ানোর পর্ব। সেই পর্বটি মেতে উঠলো, উচ্ছ্বলিত হলো নারীনেত্রী, প্রাক্তন কমিশনার রেহানা বেগম রানুর সুরে। লতা মঙ্গেশকারের ‘হাম ভুল গেয়েরে হার বাত মাগার তেরা পিয়ার নাহি ভুলে’- গেয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন আসলেই ”ওল্ড ইজ গোল্ড”। পুরনো সময়ের সেই হিন্দি গান, সেই সুললিত সুর মনভরে উপভোগ করেন অভ্যাগতরা। নাছোড়বান্দা দর্শকদের অনুরোধে তাকে এবার যেতেই হলো বিরহের কাছে। সামিনা চৌধুরীর ”তুমি দুঃখ দিয়েছো বলে…আমার তো কোনো দুঃখ নেই”-রানুর এই গানের পর আনন্দ-বিনোদন আর বিরহ যোগে এক দারুণ ফ্লেভার তৈরি হয়েছিল একুশের আড্ডায়।

জানা-শেখা এবং ভালোবাসা বিনিময়ের এই আড্ডায় অংশ নেন নারী নেত্রী অ্যাডভোকেট রেহানা বেগম রানু, একুশে পত্রিকার সম্পাদকীয় পরামর্শক নজরুল কবির দীপু, সম্পাদক আজাদ তালুকদার, সাংবাদিক শাহরিয়ার হাসান, দৈনিক বণিক বার্তার সিনিয়র রিপোর্টার সুজিত কুমার সাহা, যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার হোসাইন জিয়াদ, চায়নাভিত্তিক ওহান টেলিভিশনের ইংরেজি নিউজ প্রেজেন্টার ফায়সাল করিম, একুশে পত্রিকার সহকারী সম্পাদক আলম দিদার, দৈনিক ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার আজহার মাহমুদ, খাগড়াছড়ির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. একিউএম মহিউদ্দিন মাসুম, উন্নয়নকর্মী শিখা বড়ুয়া, টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শফিক আহমেদ সাজিব, সহ সভাপতি রনি দাশ, পরিবর্তনডটকম’র চট্টগ্রাম করসপনডেন্ট হিমাদ্রি রাহা, চ্যানেল টুয়েন্টি ফোরের ক্যামেরাপারসন আবু জাহেদ, এসএ টিভির ক্যামেরাপারসন অমিত দাশ, বিটিভির ক্যামেরাপারসন শাহরিয়ার নাজিম, যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন সঞ্জয় মল্লিক, একুশে পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার শরীফুল রুকন প্রমুখ।