বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬

প্রাণের মেলায় বর্ণের খোঁজে ‘সবর্ণ’

প্রকাশিতঃ বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৮, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ


আবু আজাদ : বর্ণের মেলায় এসে হারিয়ে গেছে ‘সবর্ণ’। বইমেলার এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্ত কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা তাকে। মা চৈতি বিশ্বাস ছেলেকে খুঁজে হয়রান। অবশেষে পাওয়া গেল সবর্ণকে। ‘বইপোকা’র স্টলে।

নগরীর লিটল জুয়েলস স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছোট্ট সবর্ণ মেলাময় খুঁজে ফিরছে শিশুতোষ বই ‘লায়ন অফ অজ’। নিজে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী হলেও সে তার পছন্দের বইটি খুঁজছে বাংলায়। প্রাণের মেলায় এসে বর্ণের খোঁজে কখন যে হারিয়ে গেছে ‘সবর্ণ’, তা তার জানা নেই।

বুধবার বিকেলে নগরীর নজরুল স্কয়ারে একুশে মেলা পরিষদ আয়োজিত বইমেলায় কথা হচ্ছিল ক্ষুদে বইপোকা সবর্ণের (৮) সাথে।

সে একুশে পত্রিকাকে বলে, ‘দুপুরে মায়ের সাথে শহীদ মিনারে এসেছিলাম। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকেলে বইমেলায়। অনেক আগেই ভেবে রেখেছিলাম এবারের বইমেলা থেকে ‘লায়ন অফ অজ’ বইটি কিনব। কিন্তু কোথাও পেলাম না। বই খুঁজতে খুঁজতে কখন যে মেলায় হারিয়ে গিয়েছি তা বুঝতে পারিনি। পেছন ফিরে দেখি মা নেই।’

তখনো ছেলেকে ফিরে পাবার খুশি উঁকি দিচ্ছিল সবর্নের মা চৈতি বিশ্বাসের চোখে-মুখে। অট্টহাসি দিয়ে বললেন, ‘ছেলেটা আমার পাগল, বইপাগল’।

নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কথা হয় মামার হাত ধরে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে আসা ছোট্ট বন্ধু আলিফের (৮) সাথে। ঢাকা মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষার্থী আইমান আনোয়ার আলিফ জানালো এবারই প্রথম শহীদ মিনারে এসেছে সে।

কেন এসেছো শহীদ মিনারে? উত্তরে একটু চুপ থেকে লাজুক আলিফের ছোট্ট জবাব, ‘শহীদদের ফুল দিতে’।

এভাবেই একুশের বইমেলায় মা-বাবার হাত ধরে এসেছেন শিশু-কিশোরেরা। স্টল ঘুরে পছন্দের বই কিনছে তারা। ক্লাসের পড়া সামলে নিয়ে একটু আনন্দ পেতে মজার মজার ছড়া ও গল্পের বই রয়েছে শিশুদের পছন্দের তালিকায়। সায়েন্স ফিকশন বা বিজ্ঞানের বইয়ের দিকেও ঝোঁক দেখিয়েছে শিশুদের কেউ কেউ।

চট্টগ্রামে এবারও একুশে মেলা পরিষদের আয়োজনে নগরীর নজরুল স্কয়ারে এবং নগরীর মুসলিম হল চত্বরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে পৃথক দুটি বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বেলা যত গড়াচ্ছে দর্শনার্থী ও বইপ্রেমী মানুষের ভিড়ও তত বাড়ছে। দুপুরের মধ্যেই বইমেলা জমজমাট দেখা যায়। বিকেলের দিকে ভিড় আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বলা চলে আজ দিনব্যাপী মেলা জমজমাট।

মেলার স্টলগুলোর কর্মীরা বলেছেন, ফেব্রুয়ারির পুরো মাসে বইমেলা সবচেয়ে বেশি জমজমাট হয়ে উঠে একুশে ফেব্রুয়ারির দিনেই। এই দিনে বইয়ের বেচাকেনাও হয় সর্বোচ্চ।

বুধবার বেলা ৩ টার দিকে গিয়ে দেখা গেছে, পাঠক, লেখক, দর্শনার্থীমুখর বইমেলা প্রাঙ্গণ। শহীদ মিনার থেকে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মানুষ ছুটছে বইমেলায়। শহীদ মিনার থেকে বইমেলা একাকার হয়ে গেছে মানুষে। অনেকের সঙ্গে আছে পরিবার। সবাই মিলে ঘুরে ঘুরে স্টলে বাছাই করে বই কিনছেন।

মেলায় বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে ঘুরতে আসা নবম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল মাওয়া সুমি বললেন, ‘প্রতি বছর এই দিনে বাবার সঙ্গে মেলায় আসি। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। সাকিব আল হাসানের হালুম বইটি কিনেছি।’

একেবারেই আনকোরা লেখিয়েদের বই নিয়ে মেলায় এসেছে পাঠকদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভিত্তিক সংগঠন ‘পেন্সিল’। তাদের প্রকাশনায় রয়েছে পাঠক রচিত গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, জোকস সম্পর্কিত নানা বই।

পেন্সিল সদস্য রিজওয়ানুল আলম জানালেন, ফেসবুক ভিত্তি এই প্লাটফর্মটির সারাদেশে রয়েছে ৫১ হাজার সদস্য। এখানে কেউ লেখিয়ে আবার কেউ একেবারেই আনকোরা। মুলত বই বিক্রি হয়না, এমন ধারনাকে মিথ্যে প্রমান করতেই তাদের এই চেষ্টা।

লেখক ও প্রকাশক গোফরান উদ্দিন টিটু জানালেন, এবারের মেলায় চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ৫০ টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তার রাদিয়া প্রকাশনী থেকে এবার ৪টি নতুন বই বের হয়েছে। এর মধ্যে আছে তার নিজের একটি শিশুতোষ বই।’

একুশে/এএ/এটি