বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতবিনিময় ১৭ জুলাই

প্রকাশিতঃ সোমবার, জুলাই ১১, ২০১৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ

home minister asaduzzaman khan kamalঢাকা: বিপদগামী তরুণদের ঠেকাতে নড়েচড়ে বসেছে সরকারের প্রশাসনযন্ত্র। দেশের নামি-দামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে জোরেসোরেই। আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও নিজেদের মতো করে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। আবার এ নিয়ে যাতে কোনো ধরনের ভুলবোঝাবুঝি না হয় সে লক্ষ্যে ১৭ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানদের ডাকা হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার, র‌্যাব প্রধানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার বিকালে সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে এসে তাকে সভার বিষয়ে অবহিত করেন। শিক্ষামন্ত্রণালয় সূত্রে এতথ্য জানা গেছে।

বর্তমানে দেশে ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি অনুমোদন রয়েছে। এরমধ্যে ৮০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলেরাও সাম্প্রতিক সময়ে পালিয়ে জঙ্গিবাদে ঝুঁকছে বলে তথ্য আসায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সরকার ও অভিভাবক মহলে।

গত ১ জুলাই গুলশানের জঙ্গি হামলার পর সশস্ত্র বাহিনীর অভিযানে নিহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনের ছবি প্রকাশ করে আইএস। ঈদের দিন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় পুলিশের গুলিতে এক যুবক নিহত হন।

এই ছয়জনের মধ্যে চারজনই বিভিন্ন ব্যয়বহুল ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে লেখাপড়া করেছেন। তাদের দুইজন ঢাকার নামি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিলেন, একজন ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের।

এর আগে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলায় যে আটজনের সাজার আদেশ হয়েছে, তাদের মধ্যে সাতজনই নর্থ সাউথের শিক্ষার্থী ছিলেন।

গত বছর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত দল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে নিষিদ্ধ সংগঠনর হিযবুত তাহরীরের বইপত্র পায়। জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারও করা হয় বলে গণমাধ্যমের খবর।

কোনো তরুণ বাড়ি পালিয়ে জঙ্গি দলে ভিড়েছে কি না- তা জানতে পরিবারের কাছে তথ্য চেয়েছে সরকার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী টানা দশ দিন অনুপস্থিত থাকলেই সে তথ্য সরকারকে জানাতে হবে।