আবু আজাদ : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মায়ের মৃত্যুতে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাঝখানেই শুরু হয় হট্টগোল।
এরপর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের বক্তব্য শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্মেলন কক্ষের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিজ নিজ প্রার্থীদের পক্ষে স্লোগান দিতে থাকে ছাত্রলীগকর্মীরা।
এসময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন বার বার স্লোগান বন্ধ করার জন্য অনুরোধ জানালেও তার কথা শোনেনি ছাত্রলীগ কর্মীরা। বরং তার বক্তব্য চলাকালে শুরু হয় হাতাহাতি। একপর্যায়ে অসহায় হয়ে পড়েন, বক্তব্য সংক্ষেপ করতে বাধ্য হন জাকির।
বক্তব্য দেওয়ার সময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বারবার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘এই স্লোগান বন্ধ করেন। এই স্লোগান বন্ধ করতে বলছিলাম। এরা কারা?’
এরপরেও স্লোগান বন্ধ না হওয়ায় জাকির বলেন, ‘যেসব প্রার্থীর নামে স্লোগান হবে, তাদের প্রার্থীতা বাতিল হবে।’
কিন্তু কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের এমন ঘোষণাতেও থামেনি ছাত্রলীগকর্মীরা।
পরে অসহায় ভাবে বলেন, ‘দয়া করে স্লোগান দিবেন না। বক্তব্য যদি ভালো না লাগে তাহলে বেরিয়ে যান।’
আদেশ,নিষেধ, অনুরোধ কোনো কিছুতেই যখন কাজ হচ্ছিল না তখন তিনি বক্তব্য বন্ধ করে নিজেই স্লোগান দিয়ে বলেন, ‘স্লোগান দেন, দেখি কতজন দিতে পারেন?’
এরপর আর বক্তব্য দীর্ঘ করেননি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক।
এ ঘটনা দেখে সম্মেলনে আসা মাঝ বয়সী এক আওয়ামী লীগ নেতা বলে উঠেন, ‘হায়রে ছাত্রলীগ, কতটা বেপরোয়া তারা! নিজ সংগঠনের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতার অনুরোধও মানছে না!’
এরপর বক্তব্য দিতে আসেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা সাকিব হোসেন সুইন। সাথে সাথে সম্মেলন কক্ষের পেছন থেকে শুরু হয় চেয়ার মারামারি আর ধাওয়া-পাল্টা। এর মাঝে অনুষ্ঠানস্থলের বাঁ পাশে একটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
একুশে/এএ