বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬

সারা বছর একটি দিনের অপেক্ষা…

প্রকাশিতঃ রবিবার, মার্চ ৪, ২০১৮, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

আবু আজাদ : পুলিশ পরিবারের কাছে এই একটা দিন যে কতটা আনন্দের, কতটা পাওয়ার, কতটা গুরুত্বের তা শনিবারের ‘বার্ষিক পুলিশ সমাবেশ ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় না গেলে বোঝাই যেত না।

মঞ্চ থেকে বালিশ খেলায় অংশ নেয়ার জন্য ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের নারী স্বজনরা যে উৎসাহের সাথে প্রতিযোগিতায় নেমে গেলেন, শুধুমাত্র এই একটি দৃশ্যই জানান দেয় এই দিনটি তাদের জন্য অনেক অপেক্ষার প্রহর গুনিয়ে, আসে আনন্দের বার্তা নিয়ে, খুশির ডালি নিয়ে, মিলনের ক্ষণ হয়ে।

পুলিশ পরিবারের সেই হৃদয়ের কথাগুলো উঠে এসেছে তাদের অভিভাবক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটওয়ারির কণ্ঠেও।

তিনি বলেন, ‘পুলিশের জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা বার্ষিক সমাবেশ। বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য দিনরাত পরিশ্রম করে। তারা সারা বছর ধরে অপেক্ষায় থাকে। কী বাচ্চা, কী বৃদ্ধ। দিনটি আসবে, এ দিনটি কখন আসবে।’

পুলিশ মহাপরিদর্শক আরো বলেন, ‘পুলিশ সদস্যরা ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে প্রত্যেকটি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেছেন। পুলিশের যারা অবসরে গেছেন তারাসহ আমাদের পরিবারের সদস্যরা এই বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। এই একটি অনুষ্ঠানে সবার মুখে হাসি বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেয়ার জন্য।’

শনিবার (৩ মার্চ) বেলা আড়াইটার দিকে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের চারপাশ কানায় কানায় পূর্ণ। যদিও বিকেল তিনটায় নির্ধারিত প্রতিযোগিতা শুরুর কথা ছিলো। শুধু যে পুলিশ সদস্যরা এসেছিলেন তা কিন্তু নয়। বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্য, কর্মকর্তা, তাদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজন এমনকি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারাও হাজির ছিলেন এই মহামিলনে।

বিকাল তিনটার কিছু পরে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অথিতি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটওয়ারি। এর পরপরই বেলুন ও ফেষ্টুন উড়ান তিনি। পরে মশাল প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।

শুরুতেই মার্চপাস্টে অংশ নেন পুলিশের সাতটি সুসজ্জিত দল। মার্চপাস্টে নেতৃত্ব দেন তরুণ পুলিশ কর্মকর্তা এএসপি নোবেল চাকমা।

কনেস্টেবল ও পুলিশ কর্মকর্তাদের (ইন্সপেক্টর) ১০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতার পরপরই শুরু হয় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের ৮০ মিটার হাঁটা প্রতিযোগিতা। যদিও হাঁটা প্রতিযোগিতা, কিন্তু তবুও অনেকেই দৌড়ে পাড় হয়েছেন ওই ৮০ মিটার। বয়বৃদ্ধদের এমন হাঁটা দেখে বেশ মজা পেয়েছেন উপস্থিত দর্শক ও পুলিশ সদস্যরা।

এর মাঝেই চলতে থাকে কচিকাঁচাদের বিস্কুট দৌড়ের প্রস্তুতি। এক সাথে এত প্রতিযোগী অংশ নিতে চাইছিলো, এতে তাদের কোনোভাবেই সামাল দিতে পারছিলো না দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা। শেষমেষ যেই না বাঁশি বাজলো, অমনি ভোঁ দৌঁড় ক্ষুদে প্রতিযোগীদের। যদিও মুখে বিস্কুট নেয়ার কথা, কিন্তু অনেককেই হাত দিয়ে বিস্কুট ছিঁড়তে দেখা গেছে। যদিও নির্বাচকরা পরে তাদের ডিসকোয়ালিফাই করেছেন।

পুরো প্রতিযোগিতা জুড়ে সবচেয়ে মজার ছিলো পুলিশ সদস্যদের পরিবার ও নারী স্বজনদের চেয়ার-খেলা। এ খেলায় অংশ নেন প্রায় শ’দুয়েক প্রতিযোগী। এই প্রতিযোগিতা সামাল দিতে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের। এদিকে মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে যখন প্রতিযোগিতা চলছিলো, তখন পশ্চিম-দক্ষিণ কোণে বসেছিলো মজার বালিশ-খেলা। এক প্রতিযোগী যখন অন্য প্রতিযোগীদের বালিশের আঘাতে কুপকাত করছিলো, তখন মাঠ জুড়ে সে কি উল্লাস!

শুধু কি দেশের পুলিশ, সুদূর আমেরিকা থেকে ট্রেনিংয়ে আসা আমেরিকান পুলিশ সদস্যরাও ভেসেছিলো এই আনন্দের জোয়ারে। তাদেরই একজন আমেরিকার পোর্টল্যান্ড পুলিশের সদস্য প্যারিস ফিল্পস। পুলিশ কর্মকর্তাদের বেলুন ফোটানো প্রতিযোগিতায় প্যারিস ফিল্পস ও তার সঙ্গিদের অংগ্রহণ প্রতিযোগিতাকে দেয় অন্য মাত্রা। এমনভাবে তারা আনন্দে মেতে উঠেছিলো, মনেই হচ্ছিল না তারা দূরের কোনো দেশে আছেন।

দৌড় প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হওয়া নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মহসিন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘সারাবছর পুলিশ সদস্যরা অপেক্ষা করে থাকেন এই একটি দিনের জন্য। যদিও সবার জীবনে আরো অনেক গুরুত্বপুর্ণ দিন রয়েছে। কিন্তু ব্যক্তি ও ধর্মীয় গন্ডির বাইরে সকল পুলিশ সদস্যদের জন্য এ দিনটি অনন্য। এ দিনটি সবার কাছে সমান প্রাধান্য পায়। এ দিনকে ঘিরে আমাদের প্রতিটি পরিবারে থাকে উৎসব।

সবশেষে মেট্টোপলিটন পুলিশ অায়োজিত মাদক ও জঙ্গীবিরোধী কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। কনসার্ট পুর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অা.জ.ম.নাছির উদ্দীন।

একুশে/এএ