রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

“শাহিদা-সান্ত্বনারা ‘সালমা’ হতে চায়”

| প্রকাশিতঃ ৯ মার্চ ২০১৮ | ৪:৫৪ অপরাহ্ন

আবু আজাদ : শাহিদার ব্যাট থেকে যখন একের পর এক চার আসছিলো তখন চট্টগ্রাম কলেজ মাঠের উত্তর গ্যালারিতে খুশির জোয়ার বইছে। শাহিদাকে দেখে মনেই হচ্ছিল না, কোনো পাড়া গাঁ থেকে উঠে আসা মেয়ে সে। শুধু যে ব্যাট হাতে পারদর্শী তা নয়, ব্যাটিং শেষে বল হাতেও বেশ দেখালো রাঙ্গামাটির এই ছোট্ট মেয়ে শাহিদা (১৩)।

শহিদার মতই ‘রাঙ্গামাটি শিশু পরিবার’র আরেক ক্ষুদে নারী ক্রিকেটার সান্ত্বনা চাকমা। চোখেমুখে আনন্দের দ্যুতি। সতীর্থ খেলোয়ারকে বলছিলো, ‘তোরা শুধু রান করে দে, দেখ বোলিংয়ে আমি ওদের কিভাবে কাবু করি।’

শাহিদা-সান্ত্বনারা সমাজকল্যান মন্ত্রনালয়ের সমাজ সেবা অধিদপ্তর পরিচালিত ‘রাঙ্গামাটি শিশু পরিবার’র সদস্য। চট্টগ্রাম এসেছে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের বিভাগীয় বার্ষিক ক্রীয়া প্রতিযোগীতার ‘নারী ক্রিকেট’ ইভেন্টে অংশ নিতে। শুক্রবার (৯ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এ প্রতিযোগীতা।

কক্সবাজার শিশু পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যাটিং শেষে শাহিদা গ্যালারিতে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাশে ফেটে পড়লো তার বন্ধুরা। মোট ছয়টি চারের মার মেড়েছে সে। পেশাদার ক্রিকেটারের মতই শাহিদা আক্তার বললেন, ‘আরো কিছুক্ষণ থাকতে পারলে ভালো হতো। মাঠটা অপরিচিত তাই সমস্যা হচ্ছিলো।’

ক্রিকেট কিভাবে শিখলেন প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জাবাবে শাহিদা বললেন,‘পাহাড়ের মেয়ে আমি, অত বাধা নেই। আমাদের প্রতিষ্ঠানের একটা ছোট্ট মাঠ আছে, ওখানেই আমরা খেলি। মাঝে মাঝে রাঙ্গামাটি স্টেডিয়ামে গিয়েও খেলে থাকি।’

নারী ক্রিকেটারদের খেলা দেখে কিনা জানতে চাইলে শাহিদার উত্তর, ‘জানেনই’তো শিশু পরিবার এতিমদের প্রতিষ্ঠান। এখানে চাইলেও সবকিছু পাওয়া যায়না। অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে ‘সালমা’ আপুর খেলা বেশ কয়েকবার দেখেছি। পত্রিকায় নিয়মিত পড়ি। আল্লাহ যদি চান, তবে সালমা আপুর মতো বড় ক্রিকেটার হতে চাই।’

শাহিদা আক্তার, রাঙ্গামাটি শিশু পরিবারের অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থী। তার বাড়ি রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলায়।

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক কে জানতে চাইতেই ক্ষুদে নারী ক্রিকেটার সান্ত্বনা চাকমার তড়িৎ জবাব, “‘রুমানা আপু’। তবে আমার প্রিয় ক্রিকেটার ‘সালমা খাতুন’। এছাড়া আমি স্পিন বল করি তাই ‘মেহেদি মিরাজ’কে ভালোলাগে” বলেই তার স্বলজ্জ হাসি।

সান্ত্বনাদের সাথে আসা মেট্রোন (সহায়তাকারীনি) শিপ্রা রানী বলেন, ‘মাঠ নেই, খেলার পরিবেশ নেই, লোকে নানা কথা বলে। তারপরেও আমরা আমাদের সীমিত সাদ্ধের মধ্যে ওদের খেলাধুলার ব্যবস্থা করে থাকি। মাঝে মাঝে রাঙ্গামাটি স্টেডিয়ামে নিয়ে যাই। প্রতিবছর বিভাগীয় প্রতিযোগীতার অংশ নেয় আমাদের নারী ক্রিকেট দল। মাঠ নেই, লজেস্টিক সাপোর্টও নেই, এরপরেও খারাপ খেলে না ওরা। সুযোগ পেলে অনেকদুর যেতে পারবে আমাদের মেয়েরা।’

খেলা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বোয়ালখালি উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আসরাফ উদ্দিন জানান, জেলা পর্যায় শেষে মোট পাঁচটি নারী ক্রিকেট দল বিভাগীয় টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগাড়াছড়ি, কক্সবাজার ও কুমিল্লা শিশু পরিবার। আগামীকাল এম এ আজীজ স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।’

খেলায় কক্সবাজার শিশু পরিবার নারী ক্রিকেট দল রাঙ্গামাটি শিশু পরিবার নারী ক্রিকেট দলকে বিনা উইকেটে পরাজিত করে। তবে কক্সবাজার শিশু পরিবার নারী ক্রিকেট দলের দায়িত্বে থাকা নারী কর্মর্কতার অসহযোগীতার কারণে তাদের সাথে কথা বলা ও ছবি তোলা সম্ভব হয়নি।

একুশে/এএ