শুক্রবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

পহেলা বৈশাখ : বাজারে মৌসুমি ইলিশ বিক্রেতা, প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে জাটকা

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, এপ্রিল ৬, ২০১৮, ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ

আবু আজাদ : দুয়ারে কড়া নাড়ছে পহেলা বৈশাখ। বাঙালীয়ানার ষোলআনা পূর্ণ করতে পহেলা বৈশাখ মানেই পান্তা ইলিশ। পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে ইতোমধ্যেই ইলিশ বিকিকিনি শুরু হয়েছে। বাজারে নেমেছেন মৌসুমি ইলিশ মাছ বিক্রেতারা।

তবে এসব ইলিশের অধিকাংশই ৯ সেন্টামিটার থেকে ছোট। দুর্বল মনিটরিং আর পহেলা বৈশাখ, এ দু`মোক্ষম সুযোগ কাজে লাগিয়ে মুনাফা লোভি ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে বিক্রি করছে জাটকা ইলিশ।

বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) রাতে নগরীর মুরাদপুর, বহদ্দারহাট ও ফিসারিঘাট এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে জাটকা ইলিশ। ঝুড়িতে করে পাঁচ থেকে সাতটি জাটকা ইলিশের দাম হাঁকা হচ্ছে ১২শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা। যদিও এক থেকে দেড় হাজার টাকার কমে কোনও বড় ইলিশ মাছ নেই। এগুলোরও সাইজ হবে সর্বোচ্চ ৫০০-৬০০ গ্রাম।

মুরাদপুর আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের নিচে ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের প্রতিজোড়া ইলিশ হাজার-বারো’শ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে এর নিচে জাটকা ইলিশ হলে ওই টাকাতেই মিলছে পাঁচ থেকে সাতটি।

জাটকা মাছ বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানাযায়, তাদের প্রায় সবাই মৌসুমি মাছ বিক্রেতা। পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে জাটকা ইলিশ বিক্রিতে নেমেছেন। তাদেরই একজন জসিম।

একুশে পত্রিকাকে জসিম বলেন, ‘ফিসারিঘাট থেকে প্রতিকেজি ছোট ইলিশ (জাটকা) ১৬০ টাকা করে কিনেছি। সাইজ হিসেবে মিলিয়ে পাঁচটি থেকে সাতটি ইলিশ একসঙ্গে ১২শ’ থেকে ১৫শ’ টাকায় বিক্রি করছি।’

বড় ইলিশ বিক্রি না করে জাটকা বিক্রির কারণ জানাতে গিয়ে আরেক বিক্রেতা মুনাফ একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘বড় ইলিশের দাম বেশি, সাধারন মানুষের কেনার সামর্থ নাই। তাই জাটকা নিয়ে আসা। মুরাদপুর-বহদ্দারহাটেরমত জংশনে বাড়ি ফেরা মানুষ এই মাছের প্রতি বেশ আগ্রহ দেখান।’

বাজার ছাড়াও ফুটপাতে দেদারছে জাটকা ইলিশ বিক্রি হলেও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যও জেলা মৎস্য বিভাগের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না চট্টগ্রামে। এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রামের মৎস্য কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ স্থাপন করা যায়নি।

ফিসারিঘাট থেকে বহদ্দারহাটে মাছ বিক্রি করতে আসা ব্যবসায়ী ওমর ফারুক একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি জানি এটা জাটকা। সন্ধ্যায় প্রশাসন কঠোর থাকে না বলে বিক্রি করছি। প্রতি কেজিতে ৩/৪টা ওঠে। দাম সাড়ে ৮ শ টাকা।আপনি ছবি তুললেন কিন্তু প্রশাসনের কেউ আসে না।’ এর বেশি কিছু বলা যাবে না বলেও জানান ওমর ফারুক।

এদিকে, পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে এখন থেকেই ইলিশের মজুত বাড়াচ্ছেন চট্টগ্রামের কালুরঘাট,সদরঘাট ও ফিসরিঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ীরা। তীরে ব্যবসায়ীদের কাছে জাটকার চাহিদা থাকায় জেলেরাও ব্যস্ত জাটকা নিধনে। সরকারের পক্ষ থেকে নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত জাটকা নিধনের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অতিরিক্ত মুনাফার আশায় ব্যবসায়ীরা জেলেদের দাদন দিয়ে জাটকা সংগ্রহ করছেন।

উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার পুরাতন ব্রিজঘাট এলাকায় একটি নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার কেজি জাটকা জব্দ করে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পূর্ব জোন।

একুশে/ এএ