শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

একজন ফাহিম সাবরির গল্প

প্রকাশিতঃ শনিবার, এপ্রিল ২৮, ২০১৮, ৭:২৫ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের ছেলে এসএম ফাহিম সাবরি। বাংলাদেশের গার্মেন্টস ও প্যাকেজিং শিল্পের একজন আত্ম-প্রতিষ্ঠিত এবং কর্মঠ তরুণ। নিত্য নতুন ব্যবসায় পরিকল্পনা দিয়ে পোশাক খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন দীর্ঘ কয়েক বছরধরে। এজন্য তার স্বীকৃতি আর অর্জনেরও কমতি নেই।

বর্তমানে দেশের বৃহৎ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং প্রতিষ্ঠান কসমো গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজারের দায়িত্বে আছেন ৩২ বছর বয়সী এ তরুণ। তবে ব্যবসায় পরিচালনাতেই সীমাবদ্ধ রাখেননি নিজের দায়িত্ব আর কর্তব্যের গণ্ডি। সামাজিক দায়িত্বের তাগাদা থেকে নিরলসভাবে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দূর্যোগ আক্রান্ত মানুষের পাশে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন নতুন প্রজন্মের এ সম্ভাবনাময় তরুণ।

কর্মজীবনে সফলতার শুরুটা বেশ কয়েকবছর আগে হলেও তার মানবিক গল্পের সূচনা সেই ছোটবেলা থেকে। বিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই ফুটপাতে ক্ষুধার্ত পথশিশুদের হাতে নির্দ্বিধায় তুলে দিতেন নিজের টিফিনের অংশ, কখনো কখনো জমানো টাকায় তাদের আইসক্রিম নয়তো চকলেট কিনে হাসি ফোঁটাতেন ফাহিম। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সেই স্বপ্নটাও নিজের বড় হওয়ার সাথে সাথে আরো বড় হয়।

এখন তিনি তাই পুরোদমে একজন নীতিনির্ধারক ও সমাজসেবক। কখনও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের খাবার বস্ত্র দিয়ে দেখান তিনি আশার আলো আবার কখনো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের খাবারের সংস্থান আর শিক্ষার আলো দিতে বাড়িয়ে দেন সাহায্যের হাত। সমাজের প্রতি এক নিবিঢ় দায়বদ্ধতা থেকেই ব্যবসায় পরিচালনার পাশাপাশি এসব কাজ করে যাচ্ছেন ফাহিম সাবরি।

কেবল রাজধানীতেই নয়, নিজ শহর চট্টগ্রামের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানেও পৌছে যাচ্ছে তার মানবিকতার হাত। ছোটকাল থেকে পথশিশুদের পাশে দাঁড়ানো ফাহিম এখন পথশিশু ও এতিমদের শিক্ষা কার্যক্রমে নিয়মিত অর্থায়ন করছেন বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে। পাশাপাশি নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন দুস্থ মানুষের কল্যাণে।

সম্প্রতি ঢাকা শহরে আগুনে পুড়ে যাওয়া বেশ কিছু বস্তিতে সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন তিনি। গেল মাসে রাজধানীর মিরপুর বস্তির ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত একশ পরিবারকে শুকনো খাবার,বস্ত্র আর নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করেন ফাহিম। তবে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার থেকে তিনজনকে নিজের প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পোশাক শিল্পের এ তরুণ কর্মকর্তা।

সাবরির মানবিক এ সহায়তা পাওয়াদের একজন মোহাম্মদ জামাল। মুঠোফোনে তিনি বলেন, আগুনে একেবারে নি:স্ব হয়ে পথে বসেছিলাম আমি এবং আমার পরিবার। ফাহিম সাবরির খাবার এবং বস্ত্রের সহায়তার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয়াটা আমাকে নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখিয়েছে। আমাদের এমন বিপদে তিনি এগিয়ে না আসলে সত্যিই ধুকে ধুকে মরা ছাড়া আর কোন উপায় থাকতনা।’

এসএম ফাহিম সাবরি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য কিছু করার এক ধরণের অনুভূতি মনের মধ্যে কাজ করতো। সবসময় চাইতাম নিজের উপার্জন থেকে তাদের জন্য কিছু করতে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কিছু করার মধ্য দিয়ে আমি আমার শৈশব কালে ফিরে যায়। সুযোগ পেলে তাদের সাথে ক্রিকেট খেলি। এসব কাজ আমি গোপনেই করি। কারও জন্য কিছু করে তা প্রচারণা করতে আগ্রহী নয় আমি। অনেকটা নীরবেই কাজ করে যেতে চাই।’

তবে এখানেই থেমে থাকতে চাননা তিনি জানালেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে আরো বড় পরিকল্পনা নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাভাবিক ও সম্ভাবনাময় জীবনে ফিরিয়ে এনে আত্মপ্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেওয়ায় তার জীবনের অন্যতম উদ্দেশ্য বললনে ফাহিম।

দেশের গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পে একটি উজ্জল নাম ফাহিম সাবরি। উৎপাদন বাড়ানো, দক্ষ কর্মী তৈরি, আর্থিক নিয়মানুবর্তীতা এবং আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে কিভাবে সফলভাবে পরিচালনা করতে হয় তা ভালভাবেই রপ্ত করেছেন তিনি। পোশাক খাতে নতুনত্ব আর আধুনিকতা যোগ করা নিয়ে ফাহিম সাবরি বলেন, ‘এ খাতে এখনও অনেক নতুন ধারার কাজের সুযোগ রয়েছে, এ খাতে নিত্যনতুন ধারণায় এগিয়ে গেলে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া কঠিন কিছু নয় বলে মনে করেন এ তরুণ। আর সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। ব্যবসার পরিধি বাড়িয়ে বেকার তরুণ ও সুবিধাবঞ্চিতদের কাজের সংস্থান করারও পরিকল্পনা রয়েছে।’

তবে কেবল ব্যবসায় সফল হলে হবে না বলে মনে করেন ফাহিম সাবরি। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ব্যবসার পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্যও কিছু করতে পারলেই জীবন অর্থবহ ও সফল হয় বলে বিশ্বাস করেন মনে প্রাণে। তিনি বলেন, ‘যখনই অসহায় মানুষের কথা শুনি, তাদের বিপদের সংবাদ পাই তখনই আমার সাধ্যের মধ্যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই। বিশেষ করে পথশিশুরা আমাদের সমাজের একটি সম্ভাবনাময় অংশ। আমি চাই তারাও তাদের প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হোক। ভবিষ্যতেও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য অনেক বেশি কাজ করতে চাই”। তবে এজন্য সমাজের বড় একটি স্বচ্ছল অংশকে এগিয়ে আসাটাও জরুরি বলে মনে করেন কসমো গ্রুপের তরুণ এ নীতিনির্ধারক।’

নিকট ভবিষ্যতে বাস্তুহারা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সহায়তায় বড় কিছু করতে এরই মধ্যে পরিকল্পনা শুরু করেছেন বলে জানান ফাহিম। তিনি বলেন, ‘পাশের দেশ মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মানবেতর জীবনযাপন অসহায়ত্বের সবচেয়ে উজ্জল দৃষ্টান্ত। এই জনগোষ্ঠীর শিশুদের ভবিষ্যত সত্যিই হুমকির মুখে। তাদের জীবনে আশার আলো অনেকটাই ক্ষীণ। বিভিন্ন দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠান এখন তাদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়ালেও ব্যাক্তি পর্যায়ে এগিয়ে আসাটা অনেক জরুরী। সে তাগাদা থেকেই রোহিঙ্গাদের শিক্ষা আর সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে আমার নিজের কিছু পরিকল্পনা রয়েছে।’

রাজধানীকেন্দ্রিক দেশের বৃহৎ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্প প্রতিষ্ঠান কসমো গ্রুপে জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে আছেন ২০১৭ সাল থেকে। এর আগে তিনি পোশাক খাতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান চেকপয়েন্ট সিস্টেমস বিডি লিমিটেড, শোর টু শোর লিমিটেডে গুরুত্বপূণ দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ ১৩ বছরের ক্যারিয়ারের শুরুটা ২০০৫ সালে। প্রথমে ছোট পরিসরে ক্যারিয়ারের শুরু হলেও নানা প্রতিকূলতা ডিঙ্গিয়ে ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছেন পোশাক খাতের একজন দক্ষ ও মেধাবী করপোরেট ব্যক্তিত্ব হিসেবে।

এফকে/এডি/একুশে