ঢাকা: জার্মানির মিউনিখ শহরে অলিম্পিয়া শপিংমলে হামলাকারীর সংখ্যা ছিল একজন এবং তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টায় ব্যস্ততম ওই শপিংমলে হামলায় নয়জন নিহত হয়েছেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে মিউনিখ পুলিশ প্রধান জানান, হামলাকারী ইরানি বংশোদ্ভূত জার্মানির নাগরিক। ১৮ বছর বয়সী হামলাকারী মিউনিখেই থাকতেন। তবে হামলার কারণ সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট নয় পুলিশ।
শপিংমলে হামলায় কমপক্ষে ১৬জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে শিশুও রয়েছে, তবে শিশুর পরিচয় কিংবা বয়স সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানায়নি পুলিশ। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলেও জানিয়েছে।
প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হয়েছিল এই হামলায় কমপক্ষে তিনজন অংশ নেয়। কিন্তু পরে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে হামলাকারী একজন। ঘটনাস্থল অলিম্পিয়া শপিং সেন্টার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সন্দেহভাজন হামলাকারীর মরদেহ পাওয়া যায়। সেখানে কোন বোমা আছে কিনা, রোবট ব্যবহার করে পুলিশ তা পরীক্ষা করে দেখছে।
এখনও এই হামলার কারণ জানাতে পারেনি পুলিশ, কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ও স্বীকার করেনি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের সমর্থকরা এই ঘটনায় উল্লাস জানিয়েছে। গত সোমবার দেশটির একটি ট্রেনে কুঠার নিয়ে হামলার তিন দিনের মধ্যেই শপিং মলে এই হামলা হলো। ট্রেনে হামলাকারী এরই মধ্যে শনাক্ত হয়েছে এবং তার ঘরে আইএসের পতাকা পাওয়া গেছে। ওই ঘটনার পর আরো হামলার আশঙ্কা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে আইএস দমন অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে কাজ করছে জার্মানি। যুক্তরাষ্ট্রের আরেক মিত্র ফ্রান্সে জঙ্গি হামলার রেশ কাটতে না কাটতে জার্মানিতে এক সপ্তাহের মধ্যেই দুটি সন্ত্রাসী হামলায় উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশ্ব নেতারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এরই মধ্যে জার্মানির পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। একই রকম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স।
মিউনিখ হামলা আইএসের কাজ কি না, সে বিষয়টি নিয়ে এখনও নিশ্চিত নয় মিউনিখ পুলিশও। তারা জানায়, সন্দেহভাজন হামলাকারী সম্পর্কে এর আগে পুলিশের কাছে কোন অভিযোগ ছিল না। অথবা তিনি পুলিশের সন্দেহের তালিকাতেও ছিলেন না। এমনকি তার সঙ্গে কোন সন্ত্রাসী দলের সংশ্লিষ্টতারও প্রমাণ মেলেনি।
এ ঘটনার পরই শহরের সব যানচলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে অনেকেই তাদের অফিসে আটকে পড়েন। যারা বাড়িতে যেতে পারছেন না, তাদের জরুরি আশ্রয় দিচ্ছেন স্থানীয়রা। টুইটারে ‘খোলা দরজা’ নামে একটি হ্যাশট্যাগও চালু হয়েছে।
এ ঘটনার পর আজ শনিবার বিশেষ জরুরি বৈঠকে বসবে জার্মানির মন্ত্রীরা।