বৃহস্পতিবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

রমজান সামনে রেখে সীতাকুণ্ডের পুদিনা-চাষিদের ব্যস্ত সময়

প্রকাশিতঃ সোমবার, মে ১৪, ২০১৮, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ

মো. ইমরান হোসেন, সীতাকুণ্ড : চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারির খাদেমপাড়া এলাকায় পুদিনা চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। ভালো দামের আশায় সহজ ও অল্প খরচে চাষিরা ঝুঁকছেন পুদিনা চাষে। রমজানকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন সীতাকুণ্ডের পুদিনা-চাষীরা। সীতাকুণ্ডের অন্যান্য স্থানের চেয়ে ভাটিয়ারি এলাকায় এই চাষের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। এলাকার অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন পুদিনা-চাষে।

পুদিনা গাছের পাতা তরকারির সাথে সুগন্ধি হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। খাদ্যকে সুরুচক করতে পুদিনা পাতার জুড়ি নেই। অনেক আগে থেকেই এদেশে পুদিনা পাতার চাষ হয়ে আসছে। তবে সচরাচর ধনিয়াপাতার ব্যবহার থাকলেও পুদিনা পাতার ব্যবহার তেমন একটা বাড়েনি বললেও চলে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাটিয়ারি খাদেমপাড়ায় বিশাল এলাকাজুড়ে চাষ হচ্ছে পুদিনা-পাতার। পুদিনা চাষের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। উদ্দেশ্য, রমজান মাসে ভালোমানের পুদিনা-পাতার বাজারজাত। আর সে কারণেই দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন পুদিনা-চাষিরা।
তবে সরকারিভাবে এই চাষে কৃষকদের বিভিন্নভাবে উৎসাহ দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে আরো বেশি পুদিনা-পাতার চাষ হবে বলে জানান ভাটিয়ারি খাদেমপাড়া এলাকার চাষী মো. রিপন।

তিনি জানান, আমরা বিগত ৩৫ বছর ধরে এই চাষে জড়িত। আগে আমার বাবা করত এখন আমি এই চাষের দেখভাল করছি। আমরা চলতি মৌসুমে প্রায় ৮০ শতক জায়গায় পুদিনা পাতার চাষ করেছি। আবহাওয়া যদি অনুকূলে থাকে তাহলে সামনের রমজানকে ঘিরে আমাদের ব্যাপক বাজারজাত করার ইচ্ছা রয়েছে। তবে এই চাষের জন্য বর্তমানে যে আবাহাওয়া রয়েছে এতে মোটামুটি ভাল, বেশি বৃষ্টি আবার কম বৃষ্টি কোনোটাই এই চাষের জন্য উপযুক্ত নয়। সবচেয়ে ক্ষতি হয় পানি কম থাকলে, বেশি বৃষ্টিতেও তেমন ক্ষতি হয় না। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে এ বছর রমজানে ৫ লক্ষ টাকার পুদিনা বাজারজাত করতে পারবো। বলেন রিপন।

রিপন বলেন, এই চাষটি পুরো বছর জুড়ে করা যায়। তবে রমজানে এর চাহিদা কয়েকগুন বেড়ে যায়। সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট নিয়ে আমরা পুদিনা-চাষিরা বেশ চিন্তায় রয়েছি। এভাবে যদি রমজানেও থাকে তাহলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন হবো। কারণ পুদিনা পাতাগুলো তোলার পরে সর্বোচ্চ ৭/৮ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় পৌঁছাতে হয়। কিন্তু যানজট থাকলে এগুলো ২ দিনেও পৌঁছানো সম্ভব হবে না। যেহেতু এগুলো কাঁচামাল তাই পথেই খাবার অনুপযোগী হয়ে পড়বে। অন্যান্য সময় আমরা এগুলো চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দীন বাজারে নিয়ে বাজারজাত করি।

সিরাজউদ্দৌলা নামে এক চাষি জানান, আমি প্রায় ৫০ শতক জমিতে পুদিনা-পাতার চাষ করেছি। চাষও ভালো হয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো লাভবান হবে চাষিরা। যেহেতু সামনে রমজান, তাই আমাদের লাভবান হওয়ার সব থেকে ভালো সময় এটা।

এ এলাকায় পুদিনা-চাষিদের মধ্যে শাহ আলম ৬০ শতক জমিতে, মো. রফিক ৪০ শতক জমিতে, মো. কামরুল ৪০ শতক, সোহাগ ৩৫ শতকসহ আরো প্রায় ২/৩ হাজার শতক জমিতে এই পুদিনা পাতার চাষ করেছেন কৃষকেরা।

তবে এলাকার অনেকের আগ্রহ থাকলেও প্রয়োজনীয় পরামর্শের অভাবে এই চাষ করা হয়ে উঠছে না সবার। নিজাম উদ্দীন নামে এক চাষি জানান, আমি বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করে থাকি। তবে আমার পুদিনা-চাষে ইচ্ছা থাকলেও সেটি হয়ে উঠে না। কারণ সঠিক পরামর্শ পাচ্ছি না। সরকারিভাবে যদি মাঠ পর্যায়ে এই চাষের উপর একজন কর্মকর্তা থাকতো তাহলে অনেকে এই চাষে এগিয়ে আসতো।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের শহরগুলোতে চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, পাঁচতারা হোটেল ও বিয়ে-বাড়িতে পুদিনার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। বিশেষ করে রমজান মাসে বড়া, চাটনি, সালাদ, বোরহানি বানানোর কাজে ব্যাপকহারে পুদিনা-পাতা ব্যবহার হয়। এছাড়া বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী বিশেষ করে টুথ পেস্ট, তামাক, চা, শরবত, মিল্ক চকলেটসহ বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রীতে পুদিনার ব্যবহার রয়েছে। তাই পুদিনা-চাষও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র নাথ জানান, পুদিনা-পাতার চাষ সীতাকুণ্ডে তেমন একটা হয় না। কী পরিমাণ চাষ হয়েছে এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। তবে গত ১৫ দিন আগের হিসাবে পুদিনা পাতার চাষ ৩ হেক্টর। পুদিনা পাতার সর্বমোট কী পরিমাণ চাষ হয়েছে তা আগামী ২/১ দিনের মধ্যে জানাতে পারবো।

একুশে/ইএইচ/এসটি/এটি