আসাদুজ্জামান স্টালিন, জলঢাকা(নীলফামারী): গত বৃহস্পতিবারের কালবৈশাখীর ছোবলে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পুনঃসংস্কার না হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে পাঠদান হচ্ছে নীলফামারীর জলঢাকায়। ফলে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষাকার্যক্রম। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয় ২১টি ও মাধ্যমিক স্তরের নয়টি প্রতিষ্ঠান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাদের দেওয়া তথ্য মতে, ক্ষতির পরিমাণ ৬১ লাখ ১০ হাজার টাকা। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে কাঁচা কক্ষগুলো দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। কোথাওবা আধাপাকা শ্রেণীকক্ষের চাল উড়ে গেছে। তাই খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান। উত্তর বগুলাগাড়ী মাস্টারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, ঝড়ে আমার শ্রেণী কক্ষগুলোর ক্ষতি হওয়ায় আকাশে একটু মেঘ দেখলেই ছুটি দেওয়া ছাড়া পথ দেখি না। এতে পাঠদান কাজে সমস্যা হচ্ছে।
জলঢাকা পৌরসভা কলেজিয়েট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ময়েন উদ্দিন জানান, আমার চারটি শ্রেণীকক্ষের কোনো অস্তিত্বই নেই। চট বিছিয়ে ও অবশিষ্ট কিছু বেঞ্চ দিয়ে পাঠদান অব্যাহত রেখেছি।
গড় ধর্মপাল এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নারায়ন চন্দ্র রায় জানান, নয়টি শ্রেণীকক্ষের উপরের চাল উড়ে যাওয়ায় কোনো রকমে নবম ও দশম শ্রেণী বাদ দিয়ে একাডেমিক ভবনে ক্লাশ নিতে হচ্ছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার ভৌমিক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান ও ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করে ইতিমধ্যে সংস্লিষ্ট দপ্তরে চাহিদাপত্র প্রেরণ করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজল কুমার সরকার জানান, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের দারা ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা করা হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ আলী একুশে পত্রিকা’কে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা করে একটি চাহিদাপত্র জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।
একুশে/এএস/এটি