বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

বিপিএলে কেন দর্শকখরা?

প্রকাশিতঃ Saturday, July 30, 2016, 1:37 pm

BPL Logoচট্টগ্রাম: দর্শক যে কোনো খেলার প্রাণ। অথচ দর্শকখরা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সাম্প্রতিক বছরগুলোর প্রতীকী দৃশ্য হয়ে উঠেছে। গ্যালারির হাহাকার দূর করতে এবার রীতিমতো আদাজল খেয়ে নেমেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ও পেশাদার লিগ কমিটি। সে লক্ষ্যে লিগ শুরুর আগে একের পর এক চমক দেখিয়েছে তারা। প্রথমবারের মতো লিগের প্রথম রাউন্ড ঢাকার বাইরে গড়িয়েছেন আয়োজককর্তারা। চট্টগ্রামপর্বের লড়াইগুলোও হয়ে উঠেছে দারুণ উপভোগ্য। কিন্তু মাঠে দর্শক টানতে এসব আয়োজনও যথেষ্ট হচ্ছে না।

অথচ মাঠে দর্শক টানতে প্রতিদিন বিভিন্ন ক্লাব ও সংস্থাগুলোকে পাঁচ হাজার সৌজন্য টিকিট দেওয়া হচ্ছে বাফুফের পক্ষ থেকে! তবুও মাঠে নেই উল্লেখযোগ্য দর্শক। প্রতিদিন গড়ে হাজার তিনেক দর্শক মাঠে যাচ্ছেন। এরপরও কেন এখনও গ্যালারী শূন্যতটা সেটাই বড় প্রশ্ন। আয়োজক কমিটির প্রচার-প্রচারণায় ঘাটতি আছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। গ্যালারির এই দৈন্যদশা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার ফুটবল সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেছেন, ‘প্রথম দিকে দর্শক কম হয়। এবারো হচ্ছে। প্রচারেও ঘাটতি আছে। এ লিগ নতুনভাবে আয়োজন হচ্ছে না, আগেও হয়েছে। তাই হয়তো আগ্রহ কম থাকতে পারে।’

ক্লাবগুলোতে নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি, ‘১৫ বছর আগে যে স্ট্রাইকার ছিল, সে এখনও স্ট্রাইকার। ১৫ বছর ধরে একজনের খেলা দেখতে হয়তো মানুষ আগ্রহী না।’ বিপিএলের টিকিটের দাম ৬০ টাকা। এ টাকাটাও বেশি হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন চট্টগ্রাম মোহামেডানের অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ, ‘ক্রিকেট খেলা দেখার টিকিট দু-তিনশ হলেও অনেকেই দেখেন, সামর্থ্য না থাকলে, কোনমতে জোগাড় করেন। ক্রিকেটের এই যুগে ফুটবল লিগ দেখার জন্য ৬০ টাকাও হয়তো বেশী।’

দর্শকরা দেশী-বিদেশী তারকাদের দেখতে চায়, বিদেশী তারকা একেবারে কম থাকায় কি মানুষের উৎসাহ উদ্দীপনা কমÑ এমন প্রশ্নে এই সংগঠকের উত্তর, ‘এবার দলগুলোর দিকে তাকালেই দেখা যাচ্ছে, বিদেশি তারকা একেবারেই নেই। দর্শকরা তো মাঠে আসেন আনন্দ করতে, প্রিয় তারকাদের দেখতে।’ দর্শকরা স্টেডিয়াম কেন্দ্রিক না হওয়ার যৌক্তিক একটা ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মোহাম্মদ ইউসুফ, ‘২০ বছর আগেও আবাহনী-মোহামেডানের কোটি সমর্থক ছিল। দর্শকদের চাপ এত ছিল যে, মাঠের ভেতরে গিয়ে খেলা দেখার সুযোগ মিলতো না। কিন্তু ক্লাবগুলো সে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেনি।’

‘মাঠে বড় জোর হাজার পাঁচেক দর্শক। গোল যে দলই দিক না কেন, দর্শকদের নির্দিষ্ট একটি অংশ আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠছেন। অবস্থা এমন, গোল হলেই তারা খুশি, সেটা যে দলই হজম করুক না কেন। এই হল এবারের বিপিএলের অবস্থা!’ – যোগ করেন মোহাম্মদ ইউসুফ।

বিপিএলের এবারের থিম সং ‘লেটস শাউট ফর ফুটবল’। দর্শকদের আকৃষ্ট করার জন্য জনপ্রিয় নির্মাতা রম্য খানকে দিয়ে এই থিম সং তৈরী করা হয়। কথা ছিল ইউটিউব ও দেশের সবকটি চ্যানেলে মিউজিক ভিডিওটি ব্যাপক প্রচার করা হবে। কিন্তু তা আর হল কোথায়? অভিযোগ আছে, বিপিএলের সংবাদ সংগ্রহ করা নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা অসহযোগিতা পেয়েছেন বাফুফের কাছ থেকে। নির্দিষ্ট সময়ে আবেদন করার পরও খেলার আগে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড পাননি কোনো কোনো সাংবাদিক। বিস্ময়কর হচ্ছে- সংবাদ সম্মেলন কক্ষকে ব্যবহার করা হচ্ছে মিডিয়া বক্স হিসেবে! সেখানে থাকা স্পিকারগুলো সচল থাকলেও সাউন্ড বক্স অচল; এতে টেবিলের এক প্রান্তে কি বলা হচ্ছে, তা শোনা যাচ্ছে না অন্য প্রান্তে।

তবে প্রচারে কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করলেন সিজেকেএস অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক কমিটির সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম। বলেছেন, ‘বিপিএলকে ব্র্যান্ডিং করার জন্য কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে। ট্রাক-সিএনজি নিয়ে ১০ হাজার পোস্টার এবং ১ লাখ লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।’

এতকিছুর পরও শুক্রবার তুলনামূলকভাবে একটু ‘বেশি’ দর্শক পেয়েছে বিপিএল। ২৫ হাজার ধারণ ক্ষমতার চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে কাল সর্বোচ্চ হাজার দশেক দর্শক এসেছেন। ধারণা করা হচ্ছে সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় এবং চট্টগ্রাম আবাহনী ও ঢাকা মোহামেডান বিগ ম্যাচের কারণেই শুক্রবার স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।