চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় আগামী শনিবার ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১২ লাখ ৮২ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পৃথক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ২০০ ইউনিয়নের পাঁচ হাজার ৪৯টি টিকাকেন্দ্রে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল করার লক্ষ্যে ৬০০ জন কর্মকর্তা, ৬১০ জন স্বাস্থ্য সহকারী ও ১৪ হাজার ৫৮৩ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবেন।
ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের ব্যাখ্যা দিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে শুধু বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়টি মায়েদের স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ছয় মাস পর শিশু যাতে সুষম খাবার পায়, সে বিষয়ে পরামর্শ দেবেন তারা। বাজারে ভিটামিন এ-যুক্ত ভোজ্যতেল পাওয়ায় যায়। রান্নায় যাতে এ তেল ব্যবহার করা হয়, সে পরামর্শ মায়েদের দেওয়া হবে। ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া থেকে শিশুকে রক্ষা করতে ভিটামিন এ অত্যন্ত কার্যকর।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শিশুর শারীরিক ও মস্তিষ্কের বিকাশে ভিটামিন এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সবুজ ও রঙিন শাক (গাজর, মিষ্টিককুড়া, শালগম ইত্যাদি) ও ফলমূলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে। এ ছাড়া সামুদ্রিক মাছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নগরের ৪১ ওয়ার্ডে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালনা করবে। নগরীর সদরঘাট রোডে মেনন হাসপাতালে বৃহস্পতিবার পৃথক এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে চসিক।
এতে চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী বলেন, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের এক হাজার ২৮৮টি কেন্দ্রে শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। সকালে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী বলেন, এবার ছয় থেকে ১১ মাস বয়সী ৮০ হাজার শিশুকে একটি করে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী চার লাখ ৫০ হাজার শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।