ওমর ফারুক হিমেল, দক্ষিণ কোরিয়া: পুরো নাম জঁ-মিশেল ফ্রেদেরিক মাক্রোঁ। ২১ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ সালে জন্ম। আধুনিক বিশ্ব চিনে ইমানুয়েল ম্যাক্রন নামে; তিনি একজন ফরাসি রাজনীতিবিদ এবং ফরাসি প্রজাতন্ত্রের ৮ম রাষ্ট্রপতি। রাজনীতিতে অভিষেকের আগে তিনি ছিলেন একজন সরকারি চাকরিজীবী ও বিনিয়োগ ব্যাঙ্কার। ইমানুয়েল ম্যাক্রন প্যারিস নাঁতের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে পড়াশোনার পাঠ চুকান।
তিনি ইন্সপেক্টর অফ ফাইনান্স এর দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে রথচাইল্ড এ ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কার হিসাবে যোগ দেন।সাবেক রাষ্ট্রপতি ফ্রঁসোয়া ওলঁদ-এর সময় ম্যাক্রন উপ মহাসচিব হিসাবে ২০১২ সাল পর্যন্ত কাজ করেন এবং ২০০৬ থেকে ২০০৯ ফ্রান্সের সোশালিস্ট পার্টিতে ছিলেন।
২০১৪ সালে তিনি অর্থনীতি, ইন্ডাস্ট্রি ও ডিজিটাল এফেয়ার্স এর মন্ত্রি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নভেম্বর ২০১৬ সালে ম্যাক্রন ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করার জন্য মন্ত্রির পদ থেক ইস্তফা দেন। ৭ ই মে ২০১৭ নির্বাচনে ইমানুয়েল মাক্রন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়লাভ করেন।
ফ্রান্সের ইতিহাসে মাক্রন সবচেয়ে তরুন রাষ্ট্রপতি হিসাবে জায়গা করে নিয়েছেন দারুন ম্যাজিকে। ৩৯ বৎসর বয়সে তিনি তরুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে আবির্ভূত হন। এই তরুন রাজনীতিবিদের বর্তমান বয়স ৪১। হঠাৎ করে আলোচনায় আসেন তিনি।
বর্তমান ফুটবল উম্মাদনায় তার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।ফ্রান্স খেলবে তৃতীয় বারের মত বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। লড়বেন ক্রোয়েশিয়ার সাথে, কিন্তু অনুসন্ধানীরা সামাজিক মাধ্যমে ফের তুলে আনল ইমানুয়েল ম্যাক্রনের ব্যক্তি জীবন।
ছোট বেলা থেকে যেমন ছিলেন ডানপিটে তেমন ছিলেন সুদর্শন। বিদ্যালয়ে স্কুল শিক্ষিকার প্রেমে পড়া সেই ছাত্রটি ফরাসিদের বর্তমান প্রেসিডেন্ট। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। ৩৯ বছর বয়সে এ গৌরবময় আসনে যোগ্যতাই চলে এলেন পাদপ্রদীপের ন্যায়।
১৯৭৭ সালের ২১ ডিসেম্বর ইমানুয়েল ম্যাক্রন ফ্রান্সের অ্যামিনিস শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ইমানুয়েল ম্যাক্রন ছোটবেলা থেকেই বেশ চঞ্চল, স্মার্ট,আধুনিক চিন্তাধারার ছিলেন। সুদর্শন চেহারার অধিকারী। স্কুল জীবনে জড়িয়ে পড়েন অসম প্রেমে, হয়ে ওঠেন বেপরোয়া প্রেমিক। স্কুলে পড়ার সময় ১৭ বছর বয়সে শিক্ষাগুরু বিজিত ম্যাডামের প্রেমে পড়ে যান।
ব্রিজিত ট্রংনিউ ছিলেন তার শিক্ষাগুরু। তিন ছেলের জননী বিজিতের চরম প্রেমে হাবু-ডুবু খেতে থাকেন উচ্ছল কিশোর ম্যাক্রন। ৬৪ বয়সী বিজিতকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করবেন না বলে পরিবারকে জানান দেন। ২৫ বছরের বড় ব্রিজিতকেই অবশেষে বিয়ে করলেন ম্যাক্রন।
ইমানুয়েল ম্যাক্রন নাছোড়বান্দা বিয়ে করবেনই। পরিবারের বাধা ও নানা চরাই উৎরাই বিয়ে করে ঘরে তুললেন তিন সন্তানের জননী স্কুল শিক্ষিকা বিজিতকে। শেষমেষ জয় হলো ইমানুয়েল ম্যাক্রনের, আর ফার্স্ট লেডি হলেন তার শিক্ষিকা।
একই ভাবে ফুটবল বোদ্ধারা বলছে, কোলিন্ডার নবীন টিম ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে, ফ্রান্স অভিজ্ঞতার জোরে কাপটা নিজেদের করবে, শেষমেষ বিজিতের মত ম্যাক্রনের ঘরেই বিশ্বকাপ।