শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩০ ভাদ্র ১৪২৬

পুলিশের জলসায় মাস্তান মামা, খাজাবাবার সঙ্গে নিজের তুলনা!

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, জুলাই ২৪, ২০১৮, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম : পুলিশের কক্ষে, পুলিশ কর্মকর্তার চেয়ারে বসে খাজা গরীবে নেওয়াজের সঙ্গে নিজের তুলনা করেছেন মাস্তান মামা ওরফে এয়াকুব। খাজাবাবার সঙ্গে নিজের দৃষ্টি মিলে যাবার দাবি করে তিনি বলেন, তা না হলে এটা হবে কেন, পুলিশের ভেতর খাজা সাহেব আমাকে ঢুকিয়ে দেবেন কেন?

কয়েকদিন আগে একুশে পত্রিকার মেইলে আসা একটি ভিডিও ক্লিপে এভাবে আত্মপ্রচারের পাশাপাশি স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে কথা ও সুরে খাজাবাবার গুনগান করেন মাস্তান মামা। আলোচনা করেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ নানা প্রসঙ্গ নিয়ে। এসময় আরেক ব্যক্তির কণ্ঠ ও কথোপকথন শোনা গেলেও ভিডিওতে তাকে দেখা যাচ্ছে না।

পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ভিডিওটি সিএমপির উত্তর ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট প্রসিকিউশন আনোয়ারুল হকের সদরঘাটস্থ সরকারি কার্যালয়ে ধারণ করা। আনোয়ারুল হকের চেয়ারে বসেই খোশমেজাজে পান চিবুতে চিবুতে গল্পে মাতছেন মাস্তান মামা আর থেমে থেমে খাজাবাবাকে নিয়ে সুর তুলছেন।

২ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে মাস্তান মামা শুরুতেই গান ধরেন- ‘হিন্দুস্থান মে আখের তুমনে দিনে নবী পেহেলা আয় হে।’ এরপর চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, অর্থাৎ কলমার দাওয়াত লই গেইয়ে হিন্দুস্তানত (কালেমার দাওয়াত নিয়ে গেছে হিন্দুস্তানে)।‘

এসময় আড়াল থেকে কেউ একজন বলছেন, ‘আল্লাহর নবীততুন সরাসরি লই গেইগু হিন্দুস্তানত (আল্লাহর নবী থেকে সরাসরি হিন্দুস্তানে নিয়ে গেছে)।’

এরপর মাস্তান মামা আবার সুর তুলেন; বলেন, ‘তুমহে হাসান-হুসেন কা পেয়ারে, ফাতেমা বিবিকা তুমহে জান হো, বাদশাহ কো তুমহো বাদশা, সুলতান কো তুমহো সুলতান।’

দৃশ্যপটে না থাকা লোকটি বলছেন, ‘খাজা গরীবে নেওয়াজের শানে বলো। নবী করিম (স.) এর দাওয়াত নিয়ে হিন্দুস্তানে প্রথম খাজা গরীবে নেওয়াজ গেছে। আমরা সবাই খাজা গরীবে নেওয়াজের উপর…।’

মাস্তান মামার জবাব, তা না হলে মসজিদ হতো না, আজাব আসতো না, কিছুই না আসত না (চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায়)।
‘আরা সুন্নী সুন্নী হলাইদ্দি, আরার এডে শিবির, আহমদ শফির বংশধর (আমরা সুন্নি বলি, দাবি করি, আমাদের এখানেই শিবির, আহমদ শফির বংশধর) ।

ওই ব্যক্তির এই কথার পর আবার সুর তুলেন মাস্তান মামা-‘এই জমানে বনে লাখো দুশমন, মে না ছুড়ুঙ্গা খাজা কি দামান, দিস কো আল্লাহ ভি খোদ মানতা হে।’ এটার আবার চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় তরজুমা করেন মাস্তান মামা-‘খোদা মাইন্নে দে ইবা খাজা অইয়্যি দে। খোদা ন মাইনলে তো খাজা নঅর।’

অজ্ঞাত লোকটি আবার ফিরে যান খাজা বাবার কাছে। বলেন, নবী করিম (স.) স্পেশাল দাওয়াত দিয়ে ওখানে পাঠাইছে না, খাজা গরীবে নেওয়াজকে। আর একজন খাজার শানে বেয়াদবি করে।

জবাবে মাস্তান মামা বলেন, ‘ইতারা কেউ জেল খাটের। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী জেলত মরি যাইবু গো।’
লোকটি বলেন- ‘বেয়াদপ।’

এরপর টেবিল চাপড়ে মাস্তান মামা বলেন- তুই তিন দিন পরে আঁর-এ জওয়াবগান দিবে টেলিফোনে। আর দৃষ্টি ইবা খাজা গরীবে নেওয়াজল্ল মিলি গেইয়্যি গো। আঁর ন ইয়ান অইতু কা। পুলিশের ভেতরে আরে ঢুকাই দিলুকা খাজা সাব্ এ।

এরপর লোকটি ‘মাশাল্লাহ’ বলে সাধুবাদ জানান মাস্তান মামাকে।

জানতে চাইলে মাস্তান মামা এটা তার ভিডিও নয় বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, কম্পিউটারের মাধ্যমে এরকম ভিডিও যে কেউ বানাতে পারে। খাজা গরীবে নেওয়াজের সঙ্গে নিজের দৃষ্টির তুলনার বিষয়টিও অস্বীকার করেন তিনি।

বলেন, এটা অসম্ভব ব্যাপার। খাজা বাবার সঙ্গে আমাকে তুলনা করে এত বড় গুনাহর কাজ আমি করিনাই। এসময় নিজেকে খাজা বাবা পাগলা দাবি করে তাকে নিয়ে লেখালেখি করায় একুশে পত্রিকা জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন মাস্তান মামা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিএমপির উত্তর ট্রাফিকের উপ কমিশনার হারুন অর রশীদ হাজারি একুশে পত্রিকাকে বলেন, বর্তমান পুলিশ কমিশনার মাস্তান মামাকে একেবারেই পছন্দ করছেন না। আমিও শুরু থেকে তাকে পছন্দ করতাম না। তাই তাকে খাতির করার কোনো কারণ নেই। তাছাড়া এডিশনাল কমিশনার (ট্রাফিক) স্যার, কমিশনার স্যারের বরাত দিয়ে আমাকে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন মাস্তান মামাকে বয়কট করার জন্য। গত সপ্তাহ থেকে আমার ডিভিশনে মাস্তান মামা অবাঞ্ছিত লোক। সে থেকে আমাদের কাছে তিনি আসতে পারেন না।

ভিডিওটি আগের কোনো এক সময়ের মন্তব্য করে ডিসি ট্রাফিক হারুন অর রশীদ হাজারি মাস্তান মামার কথায় প্রভাবিত কিংবা আবেগতাড়িত না হতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের পরামর্শ দেন।

একুশে/এটি