শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩০ ভাদ্র ১৪২৬

প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ঘৃণ্য ফেসবুক স্ট্যাটাসের পরও বহাল টিআই কাশেম

প্রকাশিতঃ শনিবার, আগস্ট ৪, ২০১৮, ৬:২৩ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারকে জড়িয়ে নোংরা স্ট্যাটাস শেয়ার করেও বাংলাদেশ পুলিশবাহিনীতে বহাল তবিয়তে রয়েছেন এক ট্রাফিক পরিদর্শক। নানা অনিয়ম-দুর্নীতির পাশাপাশি এই ধরনের ঘৃণ্য কাজের পরও তিনি এক অদৃশ্য ক্ষমতার বলে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে নিজের একক কর্তৃত্ব বজায় রেখেছেন। এমনকি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি নজরে আসলেও নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা! অদৃশ্য শক্তির অধিকারী মহাক্ষমতাবান পুলিশ পরিদর্শকটি হলেন সিএমপির ট্রাফিক বন্দর বিভাগের আবুল কাশেম চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারকে জড়িয়ে ঘৃণ্য এই স্ট্যাটাসটি ২০১২ সালের ৫ জুলাই ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন Habib Bin Islam নামে একজন। আর সেটি একদিন পর ৬ জুলাই ২০১২ সালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন টিআই আবুল কাশেম চৌধুরী।

শুধু কি তাই? ফেনীর বাসিন্দা আবুল কাশেম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, সরকারবিরোধী নানা কর্মকাণ্ডে তিনি বিএনপির লোকজনকে প্রশ্রয় দেন, আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেন। তাদের নানাভাবে সহযোগিতা করেন। পুলিশ বিভাগে যোগদানের পর সার্জেন্ট থাকা অবস্থায় তিনি নিজেকে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছের লোক বলে জাহির করতেন। নিজেকে খালেদা জিয়ার ছোট ভাই সাঈদ এসকান্দরের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচয় দিতেন। কিন্তু ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসলে বোল পাল্টাতে থাকেন টিআই কাশেম। এবার নিজেকে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার আস্থাভাজন হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। এরপরও সরকারবিরোধী নিজের মনোভাব তিনি লুকিয়ে রাখতে পারেননি। সময়ে সময়ে সেটি গোপনে কিংবা ফেসবুকে প্রকাশ্য হয়।

গত ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলা ছাত্রদল তাদের ফেসবুক পেজ থেকে টিআই কাশেমের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এছাড়া কাশেমের ‘টেন্ডল’ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত রাজুকে সরকারবিরোধী নাশকতার অভিযোগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের বাসা থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। সেই রাজু ‘রাজপাখি’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রতিনিয়ত সরকারবিরোধী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অভিযোগ আছে, নাশকতার মামলার আসামি টেন্ডল রাজুর জামিন থেকে শুরু করে মামলার যাবতীয় খরচই বহন করেন টিআই কাশেম।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে একাধিকবার মোবাইলে রিং হলেও গত দুদিন ধরে কল রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি টিআই আবুল কাশেমের সঙ্গে। মুঠোফোনে পাঠানো ক্ষুদেবার্তারও কোনো জবাব দেননি তিনি।
তবে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) কুসুম দেওয়ান একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তার বিরুদ্ধে হয়তো উধ্বর্তন কর্মকর্তারা তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেবেন।’

সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা হয়েও তার বিরুদ্ধে তদন্ত কিংবা ব্যবস্থা নিতে অনীহা কেন জানতে চাইলে কুসুম দেওয়ান বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আমরাও নিতে পারি, আবার পুলিশ সদর দপ্তরও নিতে পারে। তদন্ত ইন্টারনালি হলে আপনি কী করে জানবেন? হয়তো তার বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে। সেটা তো আর প্রকাশ করা সম্ভব না।’

একুশে/এডি/এটি