চট্টগ্রাম: রাজনৈতিক অবহেলায় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীনতাকামী মানুষের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ৬৭ বছরের প্রাচীন নাজিরহাট কলেজ জাতীয়করণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি ও সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল হক শাহ।
রোববার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
মাজহারুল হক শাহ বলেন, জাতীয়করণের সকল গুণাবলি নাজিরহাট কলেজের আছে। এরপরও রাজনৈতিক অবহেলায় ৬৭ বছরের প্রাচীন নাজিরহাট কলেজ জাতীয়করণ করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাজিরহাট কলেজ জাতীয়করণের দাবিতে গঠিত সর্বদলীয় ছাত্র ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মাসুদ রানা।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘উত্তর চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় অবস্থিত নাজিরহাট কলেজ ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ও সুপ্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি তখন এ নাজিরহাট কলেজই চট্টগ্রাম অঞ্চলে অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। এছাড়া বর্তমানে কলেজে ৭টি বহুতল ভবন, একটি দিঘি, তিনটি বিশাল পুকুর, চারটি খেলার মাঠ, দুইটি সুবিশাল গ্রন্থাগার, চারটি আধুনিক লাইব্রেরি, ৪০ প্রজাতির চারহাজার গাছ রয়েছে।
মাসুদ রানা বলেন, ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয়দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ সকল আন্দোলনের এক কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণ ছিল। এই কলেজের শিক্ষার্থী সংখ্যা অনেক বেশি। পাশাপাশি ফলাফলের হারও অনেক ভালো।তাই অবিলম্বে নাজিরহাট কলেজকে জাতীয়করণ করার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএলএফ কমান্ডার আনোয়ার আজিম, চবির সাবেক রেজিস্ট্রার ড.শফিউল আলম চৌধুরী, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো.শাহনেওয়াজ চৌধুরী, ডা.নিজাম মোর্শেদ চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ চৌধুরী, ইদ্রিছ মিয়া চেয়ারম্যান,আবু তালেব চেয়ারম্যান, আলমগীর মিয়া, শাহজাহান খান, অধ্যাপক্ষ আবু সাঈদ, মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল, আলী আবরাহা দুলাল, দেলোয়ার হোসেন মিন্টু প্রমুখ।