সুমন চৌধুরী : ‘ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায়’ সাংবাদিক-কন্যা রাফিদা খান রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত চার আসামির জামিনের সময় সোমবার সকালে চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে বিএমএ নেতাদের কাউকে দেখা যায়নি।
তবে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। এছাড়া একই আদালতে চলা অন্যান্য মামলার বাদি-বিবাদিগণ উপস্থিত ছিলেন।
আদালত চত্বরে প্রায় সকলের মুখে মুখে ছিল রাইফার মৃত্যুর ঘটনা। পাশাপাশি ম্যাক্স হাসপাতালসহ অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের চিকিৎসাসেবা নিয়ে বিরূপ সমালোচনায় মুখর থাকতে দেখা যায় অনেককে। এসময় তাদের কথায় বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার ওপর আস্থা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে!
্এসময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বেসরকারি হাসপাতালের অপারেশন রুম থেকে জব্দ করা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, হাসপাতালের কাগজপত্রের মেয়াদোত্তীর্ণ পরিবেশের ছাড়পত্র এবং অপারেশনে ব্যবহৃত যন্ত্রসামগ্রী নিয়েও আদালত পাড়ার মানুষের মাঝে আলোচনা হয়।
রাইফা হত্যা মামলায় চার চিকিৎসকের জামিন-শুনানি চলাকালে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোহাম্মদ নোমানের আদালতের সামনে অভিযুক্ত চার ডাক্তারের পরিবারের পক্ষের লোকজন উপস্থিত থাকলেও আইনজীবী, পুলিশ ও কৌতূহলীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। চিকিৎসক নেতাদের আদালতে উপস্থিত না দেখে আদালত পাড়ার আড্ডায় বয়স্ক এক লোক বলে উঠেন, ‘এ ঘটনায় তারা মানুষের কাছে ধিক্কার আর নিন্দার পাত্র হয়েছেন। সে কারণেই মুখ লুকানোর চেষ্টা এবং আদালতে না আসা। তাছাড়া ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক ভীতি তো আছেই!’
উচ্চ আদালতের দেয়া জামিন-শুনানি শেষে সোমবার (২৭ আগস্ট) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোহাম্মদ নোমানের আদালত অভিযুক্ত চার চিকিৎসককে জামিন দেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ জুন বিকালে ম্যাক্স হাসপাতালে সাংবাদিক রুবেল খানের আড়াই বছর বয়সী কন্যা রাইফা গলায় ব্যথা নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর ২৯ জুন রাতে মারা যায়। ভুল চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ করে আন্দোলনে নামেন চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ। সাংবাদিক রুবেল খান চার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চকবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
একুশে/এসএইচ/এটি