শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩০ ভাদ্র ১৪২৬

এখনো মৃত্যুদূতের ভয়-শঙ্কা ত্রিপুরা পল্লীর ঘরে ঘরে

প্রকাশিতঃ সোমবার, আগস্ট ২৭, ২০১৮, ৭:৪২ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অজ্ঞাত রোগে ৪ শিশু মারা যাবার পর ‘অজ্ঞাত’ রোগ-আতঙ্কে ভুগছেন ত্রিপুরা পল্লীর বাসিন্দারা। পুরো পল্লীজুড়ে ‘অজ্ঞাত’ রোগের শঙ্কা, দুঃশ্চিন্তার ছাপ।

৪ শিশুর মৃত্যু এবং রোববার আরো ২২ শিশু অসুস্থ হবার পর হারিয়ে গেছে এখানকার আনন্দ-উচ্ছ্বাস। হারিয়ে গেছে মুখের ভাষা। থেমে গেছে জীবিকার চাকা। কখন যে মৃত্যুদূত এসে হাজির হয়- সেই শঙ্কা সবার চোখেমুখে। সোমবার দিনভর ত্রিপুরা পল্লী ঘুরে এমন শঙ্কা দেখা গেছে বাসিন্দাদের চোখেমুখে।

জানা যায়, ত্রিপুরা পল্লীর পেছনে পাহাড়ি ছড়ার পানি পড়ে। সেই পানি নিদিষ্ট একটি জায়গায় এসে জমা হয়। নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে ত্রিপুরা বাসিন্দারা জমাট হওয়া ঐ পানিগুলো দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করে থাকেন।

কিছুদিন আগে স্থানীয়রা ঐ পাহাড়ি ছড়ার আশেপাশের গাছগুেলা কেটে ফেলে। গাছকাটার সময় গাছের পাতা পানিতে পড়ে পঁচে যায়। বিকল্প পানির ব্যবস্থা না থাকাতে ত্রিপুরাদের জীবন বাঁচানোর জন্য ঐ ছড়ার পানি পান করাসহ পরিবারের নিত্যদিনের কাজ সারতে হয় তাদের। তাই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পানি থেকেই অজ্ঞাত রোগটি ছড়াতে পারে।

একাধিক ত্রিপুরা বাসিন্দা জানিয়েছেন, এই পল্লীতে সুপেয় পানির অভাবটাই প্রধান সমস্যা। আমরা বছরের পর বছর পাহাড়ি ছড়ার পানি দিয়ে সংসারের যাবতীয় কাজ সারতাম। আগে কখনো এধরনের রোগ আমাদের এলাকায় ছিল না। কিছুদিন আগে পাহাড়ি ছড়ার আশেপাশের গাছগুলো কাটার পর গাছের ছোট ছোট ডালপালাসহ গাছের পাতা ঐ ছড়ার পানিতে পড়ে পঁচে যায়। এই পল্লীতে অন্য কোনো পানির উৎস না থাকায় আমাদেরকে ঐ ছড়ার পানিই দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমতিয়াজ উদ্দিন ও চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানিয়েছেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একজন প্রতিনিধিসহ আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভাইরাস শনাক্ত করতে পাঁচ শিশুর রক্তের নমুনা, নাকের রস এবং মুখের লালা সংগ্রহ করে ঢাকায় জনস্বাস্থ্য বিভাগে পাঠানো হচ্ছে।

ঘটনা তদন্তে চারটি আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার সকালে ঢাকা থেকে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) একটি টিম চট্টগ্রামে পৌঁছেছে।’

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কর্মকর্তা রেজাউর রহমান জানিয়েছেন, আমরা ত্রিপুরা পল্লীতে ১৯ জন শিশুকে দেখেছি। এদের মধ্যে একটি শিশুকে একটু ব্যতিক্রম দেখাচ্ছে। বাকি শিশুরা সর্দি-কাশির মতো স্বাভাবিক রোগে আক্রান্ত ছিল। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তিনজন শিশুকে ডিআইটিআইডিতে ভর্তি করা হয়েছে বলে আমরা শুনেছি।

প্রসঙ্গত, অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাটহাজারীর ত্রিপুরা পল্লীতে কয়েকদিনের ব্যবধানে চারজন শিশুর মৃত্যুর খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের পর রোববার বিকেলে আরো ২২ জন আক্রান্ত শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

একুশে/এসএইচ/এটি