চট্টগ্রাম : দেশের বিভিন্ন স্থানের ন্যায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে পালিত হয়েছে চট্টগ্রামের শিয়া সম্প্রদায় মুসলমানদের পবিত্র আশুরা। শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলমানদের সবচেয়ে গুরুতপূর্ণ এ দিনে শোকমিছিল নিয়ে নগরীর বিভিন্ন পথ প্রদক্ষিণ করে এবং হায় হোসেন, হায় হোসেন ধ্বনিতে মুখরিত হয় চট্টগ্রাম।
দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে পালন করে আসা নগরীর সদরঘাট থানাধীন শিয়া মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় ১০ মহরম পবিত্র আশুরা।
প্রতি বছর শোকমিছিলে নারী-পুরুষ ও শিশুদের প্রচুর সমাগম ঘটে। তাই শোক মিছিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তা নেয়া হয়।
সিএমপি কমিশনার কার্যালয় থেকে বলা হয়, শোকমিছিলে ছুরি-তলোয়ার বহন নিষিদ্ধ এবং ১২ ফুটের উপরে আলাম (প্রতিকি ঝাণ্ডা) নেয়া যাবে না।
সব-রকমের আপত্তিকর ঘটনা এড়াতে মিছিল ও এর আশপাশে তৎপর ছিল পুলিশ সদস্যরা। কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয় শিয়া মসজিদ। রাত থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্পর্শকাতর জায়গায় মোতায়েন করা হয় একাধিক সাদা পোশাকের পুলিশ।
কার্যত সকাল ১০টায় আশুরার মিছিল শুরু হয়। সকালে মওলানা আমজাদ হোসেনের শোক মজলিশ দিয়ে শুরু হয় আশুরার অনুষ্ঠান। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে বের হয়ে সু-সজ্জিত শোকমিছিল। শিয়া সম্প্রদায়ের কয়েক’শ নারী, পুরুষ শিশু যুদ্ধের নানা অনুসঙ্গ, তাজিয়া, কালো, লাল ও সবুজ নিশান উড়িয়ে মিছিলে অংশগ্রহণ করে। নগ্ন পায়ে মিছিলে অশংগ্রহণকারীরা শোকের প্রতিক কালো পোশাক পরিধান করে। শোক মিছিলে উপস্থিত নারীদের ক্রন্দন করতেও দেখা যায়।
এদিকে শান্তিপূর্ণভাবে আশুরা পালন করতে পেরে দেশের প্রধানমন্ত্রী ও পুলিশ প্রশানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শিয়া মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আমজাদ হোসেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, কারবালায় রক্তাক্ত অবস্থায়ও ইমাম হোসেন (আ:) মাথা নোয়াননি। তিনি ইয়াজিদের হাতে বায়াত না করে নিজের জীবন দিয়ে আজকে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছেন।
ছবি : আকমাল হোসেন
একুশে/এএইচ/এটি