শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩০ ভাদ্র ১৪২৬

এক্সরেতেই ১৭ দিন পার!

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮, ৭:৫১ অপরাহ্ণ

সুমন চৌধুরী : এক্সরেতেই সতেরদিন পার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ২৬নং ওয়ার্ড অর্থোপেডিক বিভাগে। একই সাথে ডাক্তার ঠিকমতো রোগী না দেখারও অভিযোগ।

এছাড়া শুক্রবার ও শনিবার ওয়ার্ডে ডাক্তার পাওয়া যাবে না এমন চিন্তায় রয়েছেন রোগী ও রোগীর স্বজনরা।

চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব কাতারিয়া ঘোণা পাড়ার বাসিন্দা মো. জহিরুল ইসলাম একুশে পত্রিকাকে বলেন, চোট খেয়ে পায়ের একেবারে নিচে জয়েন্টের হাড় সামান্য ফাঁক হয়ে গেলে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল (চমেক) হাসপাতালে ২৬ নং ওয়ার্ড অর্থোপেডিক বিভাগে ভর্তি হই। সিট পেয়েছি ওয়ার্ডে নয়, বারন্দায়। শুধু একের পর এক এক্সরে পরীক্ষাতেই সতেরদিন পার হলো। সপ্তাহে একদিন ডাক্তার এলেও ভালোভাবে দেখছে না। আর হাসপাতাল থেকে শুধু ব্যথা এবং গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ছাড়া আর কিছুই দেয় না।

জহিরুল ইসলাম বলেন, শুনছি পায়ে নাকি ছোট অপারেশন লাগবে। কিন্তু কবে অপারেশন করানো হবে তার ঠিক নেই। অপারেশনের জন্য স্যালাইন ও যাবতীয় ওষুধ-গজ ইত্যাদি কেনার জন্য স্লিপ দেওয়া হয়। সেই স্লিপ অনুযায়ী মালামাল রোগীর অপারেশনে ব্যবহার না করে অপারেশন রুমেই রেখে দেয়। পরে সেগুলো আর রোগীদের ফেরত দেয় না।

‘বাঁশখালী থেকে আসা এমন ভুক্তভোগী রোগী আমার পাশের বেডে ছিলেন। গতকাল তিনি চলে যান। যাওয়ার আগে আমাকে জানান, তিনি অপারেশনের জন্য ওয়ার্ড থেকে দেওয়া স্লিপ অনুযায়ী চারটি স্যালাইন, গজসহ অন্যান্য জিনিসপত্র কিনেন। কিন্তু তার অপারেশনের সময় একটি স্যালাইনও শরীরে পুশ করেনি। যাবতীয় জিনিসপত্র ওরা রেখে দিয়েছে।’ বলেন জহির।

রাউজান উপজেলার মধ্যম উরকিরচর গ্রামের বাসিন্দা মো. আজিজুল হক (৬০) পা ভাঙা নিয়ে (২৯ আগস্ট) ২৬ নং ওয়ার্ডে ভর্তি হন। তিনি বলেন, আজকের দিন পর্যন্ত একজন ডাক্তার শরীরে হাত দিয়ে দেখেনি। আমার ডায়েবেটিস আছে। কিন্তু ভর্তির ২৩দিন পেরিয়ে গেলেও কেউ একবারের জন্য ডায়েবেটিস চেক করেনি। শুধু এক্সরের পর এক্সরে দিচ্ছে। কোনো ওষুধ লিখছে না। একবার পা ড্রেসিং করাতে দুইশ’ টাকা দিতে হয়। গজসহ ড্রেসিংসামগ্রী কিনে দিতে হয় নিজেদের। এ অবস্থায় কোনো অঘটন ঘটলে দেখার যেন কেউ নেই। নার্সদের সকালে একবার ব্যথা ও গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ দিয়ে যেতে দেখেছি। এই পর্যন্ত (শুক্রবার দুপুর দেড়টা) আর তাদের দেখা মেলেনি।

শুক্রবারে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা আগেরদিনের চেয়ে কিছুটা কম। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা ছিল সাড়ে তিনশ’। আজ একই সময়ে রোগীর সংখ্যা ২শ’ ২জন।

এরমধ্যে সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে সাতকানিয়া থানার বাজালিয়া বাজারের লরি-মোটরবাইক মুখোমখি সংঘর্ষে স্থানীয় ধর্মপুরের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত আব্দুল মোতালেবের পুত্র বর্তমান মেম্বার আব্দুর রহিম (৩৫) ও একই এলাকার হেলাল উদ্দিনের পুত্র মো. রাহাত (২৭) গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

রহিম ২৮ নং ওয়ার্ড নিউরো সার্জারী বিভাগে ও আরাফাত ২৬ নং ওয়ার্ড ক্যাজুয়েলিটি বিভাগে চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া ১২টা ৪৫ মিনিটে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ থানার সামনে থেকে অজ্ঞাত এক মহিলাকে (৩৫) উদ্ধার করে বার্নইউনিটে ভর্তি করান।

এদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভাগগুলোতে অধ্যাপক-সহকারি অধ্যাপকসহ ১৪ জনের নাম ও পদবির তালিক টানানো হয়েছে। তবে দুটি অভিযোগ বাক্সের মধ্যে ইর্মাজেন্সি বিভাগের অভিযোগ বাক্সটি অন্ধকারে স্থাপন করা হয়েছে। যা সচরাচর সবার চোখে পড়ছে না।

ভুক্তভোগীদের মতে, প্রতি ওয়ার্ডে মাঝারি আকারের একটি করে অভিযোগ বাক্স বসানো হলে সকলে দেখতে পেত এবং অভিযোগ-পরামর্শের চিঠি ফেলতে খোঁজাখুজি করতে হতো না কিংবা উপরের থেকে নিচে নামতে হত না।

একুশে/এসএইচ/এটি