মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

সাকার কবরের ‘শহীদ’ লেখা অপসারণ করেছে ছাত্রলীগ (ভিডিও)

| প্রকাশিতঃ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১২:৩১ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রাম: একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নিষ্ঠুরতার জন্য ফাঁসিতে দণ্ডিত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কবরে তার নামের আগে ‘শহীদ’ লেখা নামফলক অপসারণ করেছে ছাত্রলীগ।

শুক্রবার বিকালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কবরস্থানে গিয়ে নামফলক থেকে শহীদ শব্দটি অপসারণ করে।

গোলাম রাব্বানী তার ফেইসবুক আইডিতে নামফলক অপসারণের ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রমাণিত, ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কবরের ফলকে নামের পূর্বে লেখা ছিলো ‘শহীদ’; বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আজ সেই লজ্জায় প্রলেপ দিয়েছে।’

জীবিত থাকাকালীন চটকদার,‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ এবং কখনও কখনও ‘অশালীন’ মন্তব্যের কারণে বার বার সংবাদপত্রের শিরোনামে এসেছেন সালাউদ্দিন কাদের, যাকে সংক্ষেপে সাকা চৌধুরী নামে চেনে বাংলাদেশের মানুষ।

তার জন্ম ১৯৪৯ সালের ১৩ মার্চ চট্টগ্রামের রাউজান থানার গহিরা গ্রামে। বাবা মুসলিম লীগ নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরী এক সময় পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকারও হয়েছিলেন।

সালাউদ্দিন কাদেরের রাজনীতির শুরুও মুসলিম লীগ থেকেই। পরে জাতীয় পার্টি ও এনডিপি হয়ে তিনি বিএনপিতে আসেন।

একাত্তরের অপরাধের জন্য বিতর্কিত এই রাজনীতিবিদ ১৯৭৯ সালে মুসলিম লীগ থেকে রাউজানের সাংসদ নির্বাচিত হন। সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সময়ে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং কার্যত এর মধ্যে দিয়েই মূল ধারার রাজনীতিতে তার পুনর্বাসন ঘটে। পরে এনডিপি ঘুরে তিনি বিএনপিতে আসেন।

বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বও তিনি পালন করেন। এর আগে সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের শাসনামলে ত্রাণ ও পুনর্বাসন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

সর্বশেষ ২০০৮ সালের র্নিবাচনে রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ি থেকে অংশ নেন সাকা। রাঙ্গুনিয়াতে হেরে গেলেও ফটিকছড়ি, অর্থাৎ চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে বিএনপির সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। তিনি সাংসদ থাকা অবস্থায় ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে তার ফাঁসির রায় আসে।

২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর যুদ্ধাপরাদের দায়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। পরে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজানে কবর দেওয়া হয়।

নজিরবিহীন নিষ্ঠুরতার জন্য কোনো উদারতা পাওয়ার যোগ্য সাকা চৌধুরী নন বলেও মন্তব্য করেছিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

ফজলুল কাদের (ফকা) চৌধুরীর চার ছেলের মধ্যে সালাউদ্দিন কাদের বড়। তার সেজ ভাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। তিনিও একসময় সাংসদ ছিলেন।

বাকি দুই ভাইয়ের মধ্যে সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরী মারা গেছেন। আর জামাল উদ্দিন কাদের চৌধুরী একজন ব্যবসায়ী।

### পরিবারের সদস্যরাও যান না সাকা চৌধুরীর কবর জেয়ারতে !

https://www.facebook.com/rabbanibsl/videos/10217867468426347/?t=0