শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩০ ভাদ্র ১৪২৬

সরকারি গাড়ি নয়, কর্মস্থলে ব্যক্তিগত গাড়িতে ঘোরেন ওসি!

প্রকাশিতঃ রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮, ৩:১৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : সরকারি বরাদ্দের গাড়িতে চড়েন না চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইরুল ইসলাম। কর্মস্থলে, অফিসের কাজে ব্যবহার করেন নিজের ব্যক্তিগত টয়োটা র‌্যাভ ফোর, যার নম্বর ১১-০৬৮২।

কেবল তাই নয়, যোগদানের দুই ঘণ্টা আগে নিজ উদ্যোগে ওসির কক্ষে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এয়ার কন্ডিশন (এসি) লাগিয়েছেন সাইরুল ইসলাম।

গত ৫ সেপ্টেম্বর বোয়ালখালী থানায় যোগ দিয়ে ওসিদের জন্য সরকারি বরাদ্দের গাড়ি বাদ দিয়ে নিজের বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে চলাফেরা শুরু করেন ওসি সাইরুল ইসলাম। অপরাধদমন, তদন্তকাজ-ইত্যাদি প্রয়োজনে মেঠোপথেও চলে যান এই গাড়ি নিয়ে। দাপিয়ে বেড়ান এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত।

সরকারি কাজে ওসির বিলাসী চলাফেরা, নিজস্ব গাড়ির ব্যবহার দেখতে অনভ্যস্ত স্থানীয়দের মাঝে হঠাৎ এমন দৃশ্যে একধরনের অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। ওসি সাইরুল ব্যক্তিগত গাড়ি হাকিয়ে যখন চলাফেরা করেন তখন অনেকেই বিভ্রান্তিতে পড়ে যান। তারা বুঝতেই পারেন না গাড়িতে চড়ে ওসি যাচ্ছেন নাকি কোনো শিল্পপতি, রাজনীতিবিদের মেঠোপথ প্রদক্ষিণ!

সাধারণত সরকারের বরাদ্দ দেয়া গাড়ি দেখলেই বোঝা যায় এখানে ওসি কিংবা পুলিশ আছে। আর সেটি দেখলেই অপরাধীদের মাঝে ভীতি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরনের সমীহ কাজ করে। ওসি সাইরুল পুলিশের নির্ধারিত গাড়ি ব্যবহার না করায় সমীহের পরিবর্তে অস্বস্তিই কাজ করছে বোয়ালখালীর সাধারণ জনগণের মাঝে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পুলিশ আর সাধারণ গাড়ি মিলিয়ে ফেলায় পুলিশের গাড়ি হিসেবে বাড়তি যে সমীহ, সম্মান পাবার কথা ভবিষ্যতে তা থেকে হয়তো বঞ্চিত হবেন ওসি সাইরুল।

এ ব্যাপারে কথা বলতে বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইরুল ইসলামের সরকারি মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে ওসি তদন্ত মাহবুবুল আলম আকন্দ ফোন ধরেন।

বলেন, ওসি সাহেব মামলার সাক্ষী দিতে বগুড়ায় অবস্থান করছেন। তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনের নাম্বার দিতে অনুরোধ করলে ৫ মিনিট পর ফোন করতে বলেন। ৫ মিনিট পর জানান, তিনি সংগ্রহ করতে পারেননি। ডিউটি অফিসারের নাম্বার থাকলে সেখানে ফোন করে নিয়ে নেয়ার পরামর্শ দেন।

এরপর ওসি তদন্তের কাছেই জানতে চাওয়া হয় বিষয়টি। তিনি বলেন, এই থানায় গাড়ির সঙ্কট আছে। তাই মাঝে মাঝে ওসি সাহেব নিজের ব্যক্তিগত গাড়িটা ব্যবহার করেন। ওসির কক্ষে নতুন এসি লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, হ্যাঁ, ওসি সাহেব আসার দিনই তার কক্ষে নতুন এসি লাগানো হয়েছে।

বিষয়টি শুনে একুশে পত্রিকার কাছে বিস্ময় প্রকাশ করেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা; বলেন, আরে সর্বনাশ! কী বলেন বোয়ালখালীর ওসি কর্মস্থলে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে?

‘এরকম কোনো নিয়ম নেই। বিষয়টা জানলাম। আমি একটু দেখি, খবর নিই। তারপর যা করার আমি করবো।’- বলেন এসপি। এসময় এসপি নুরেআলম মিনা গাড়িটার ছবি সরবরাহ করার অনুরোধ করেন প্রতিবেদককে।

ব্যক্তিগত খরচে অফিসকক্ষে এসি লাগানোর নিয়ম নেই বলেও জানান এসপি। বলেন, ওসির কক্ষে এসি লাগাতে হলে সরকারি খরচেই লাগানো হবে। এটা সে (ওসি) করতে পারে না।

ওসি সাইরুল ইসলাম এর আগে সিএমপির বায়েজিদ, চান্দগাঁও এবং জেলার মিরসরাই থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। এসব থানায় দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপিত হয়।

একুশে/এটি