মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

ফেসবুকে যুব মহিলা লীগ নেত্রী রৌশনীর চরিত্রহনন, খুলশী থানায় অভিযোগ

| প্রকাশিতঃ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৬:২০ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী যুব মহিলা লীগের আহ্বায়িকা সায়রা বানু রৌশনীর বিরুদ্ধে ফেইসবুকে একগাধা অভিযোগ তুলে ধরেছেন সংগঠনটির কিছু কর্মী। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ রৌশনী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা ২৩ মিনিটে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়িকা জুলেখা বেগম তার ফেইসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেন। এতে সদ্য ঘোষিত চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির প্রসঙ্গ তুলে ধরে আওয়ামী যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী ও সাধারণ সম্পাদিকার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

গত ২৮ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এতে একজন আহ্বায়িকা, চারজন যুগ্ম আহ্বায়িকা এবং ২৮ জনকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়।

যুব মহিলা লীগের নেত্রী জুলেখা বেগম তার ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, কমিটি অনুমোদন দিয়ে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেয়া হয় আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ঐকবদ্ধভাবে নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার যেন পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয় সেই লক্ষ্যে একসাথে কাজ করার জন্য।

তিনি আরো লিখেছেন, ‘কিন্তু খুব দুঃখের সাথে লক্ষ করছি যে, আহ্বায়িকা সায়রা বানু রৌশনি স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে সদ্য ঘোষিত কমিটির নেত্রীদের না জানিয়ে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে পদ, পদবি দেয়ার নামে আর্থিক লেনদেন করছেন।’

কমিটির মেয়েদের নামে বাজে মন্তব্য ও মিডিয়াতে ভুয়া নিউজ পাঠিয়ে যাকে-তাকে মহানগর নেত্রী বানিয়ে নিউজ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ জুলেখার।

বিভিন্ন এলাকার মেয়েদের পদ-পদবীর প্রলোভন দেখিয়ে রৌশনী নিজের বাসার জন্য বাজার-সদাই খোঁজা যেমন-হলুদ, মরিচের গুড়া, পোলাও-এর চাল, দেশি মুরগী চেয়েছেন বলেও ওই ফেইসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন জুলেখা বেগম।

তিনি আরও লিখেন, এমন কি উনার (রৌশনী) বাজে মন্তব্য থেকে রেহাই পাচ্ছেন না চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র নাছির ভাই, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নওফেল ভাই এবং চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিনের মতো নেত্রীরা।

তিলে তিলে গড়া সংগঠন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী যুব মহিলা লীগের সুনাম নষ্টের অভিযোগ তোলার পাশাপাশি এসব আচরণ তৃণমূলের কর্মীরা মেনে নেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন জুলেখা।

নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিচয় দিয়ে জুলেখা লিখেন, তার বাবা ’৭৫ পরবর্তী যখন চট্টগ্রামে টাকার অভাবে আওয়ামী লীগের অফিস ছিল না, তখন পৈত্রিক ভিটা বিক্রি করে চট্টগ্রামে তমিছ মার্কেটে অফিস নিয়েছিলেন। কিন্তু বাবার নাম বিক্রি করে কখনো কারো কাছে কিছু চাননি বলেও উল্লেখ করেন জুলেখা বেগম।

এদিকে শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত জুলেখার ফেইসবুক পোস্টটিতে ৯৩ জন প্রতিক্রিয়া দেন, কমেন্ট করেন ২৩ জন ও শেয়ার করেন তিনজন।

উক্ত পোস্টে ‘চট্টগ্রাম যুব মহিলা লীগ’ নামের একটি ফেইসবুক আইডির মাধ্যমে লেখা হয়, ‘পতিতা ব্যবসার সাথেও জড়িত আছেন তিনি। যে সব মহিলা তার খারাপ প্রস্তাবে রাজি হবে তারাই উনার আপনজন’।

অন্যদিকে জুলেখার পোস্ট দেখে চরম ক্ষুব্ধ যুব মহিলা লীগের নেত্রী সায়রা বানু রৌশনী। তিনি শুক্রবার রাতেই এ বিষয়ে নগরের খুলশী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

এতে জুলেখা বেগমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া সোনিয়া আজাদ, আফসানা বেগম পুষ্প ও সৈয়দা রাজিয়া ইসলামকে এতে আসামি করা হয়েছে। এর বাইরে আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে রাখা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের অনুমতি পেলে অভিযোগটিকে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হবে বলে পুলিশ সূত্র জানায়।

এ বিষয়ে জানতে শনিবার বিকেলে মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেও খুলশী থানার ওসি শেখ মো. নাসির উদ্দিনের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। প্রতিবারই তিনি ফোন ধরেননি অথবা কেটে দেন।

তবে সায়রা বানু রৌশনী শনিবার বিকেলে একুশে পত্রিকাকে বলেন, খুলশী থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, গত বৃহস্পতিবার তিনি ঢাকায় সাইবার অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও একটি মামলা করেছেন বলে জানান। এমনকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগামিতে চট্টগ্রাম আদালতে তিনি মামলা করবেন বলেও জানান।

উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে ফেইসবুকের ওই স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছে দাবি করে সায়রা বানু রৌশনী বলেন, জুলেখা আমার কমিটির যুগ্ম আহ্বায়িকা। কমিটি হওয়ার পর এখনো সমন্বয় সভা হয়নি। এখন ভিত্তিহীন, মিথ্যা অভিযোগ তুলে তিনি ফেইসবুকে লিখেছেন। আইন অনুযায়ী এভাবে তো কেউ কারো বিরুদ্ধে লিখতে পারেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জুলেখা বেগম বলেন, আমরা যারা রাজনীতি করি আমাদের মধ্যে সম্পর্ক এই ভালো তো এই খারাপ- এমনটা হতেই পারে। রাজনৈতিক দ্বন্ধ থাকলে মামলা দিতে হবে? এভাবে কেউ আচরণ করতে পারে?

তিনি আরো বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে একটি প্রাইভেট কার নিয়ে আমার বাসায় আসে দুই নারী ও এক পুরুষ। তারা আমার বাড়ি কার নামে জানতে চায় ও ডকুমেন্ট দেখতে চায়। বাসার দারোয়ানের সাথেও তারা খারাপ ব্যবহার করে।

সে সময় বাসায় ছিলেন না জানিয়ে জুলেখা বেগম বলেন, পুরো ঘটনাটি বাসার সিসিটিভি ক্যামেরায় সংরক্ষণ করা আছে। এ ঘটনায় শুক্রবার পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন বলেও জানান জুলেখা বেগম।