রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

চবি’তে শিবির সন্দেহে শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে ছাত্রলীগ

| প্রকাশিতঃ ২ অক্টোবর ২০১৮ | ৬:০২ অপরাহ্ন

চবি প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে( চবি) শিবির সন্দেহে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরকৃত শিক্ষার্থীর নাম ফয়েজুর রহমান সিয়াম।
সে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং বিভাগের (১৩-১৪)সেশনের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুর আড়াইটার দিকে স্টেশন চত্বরে এক শিক্ষার্থীকে শিবির সন্দেহে মারধর করে ছাত্রলীগের (সিক্সটিনাইন গ্রুফের) (১০-১২)জন নেতাকর্মী।
এসময় তার সাথে থাকা আরও তিনজন শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের কর্মীরা ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগ কর্মী বলেন, শিবিরের প্রমাণ পেয়ে স্টেশন চত্বরে সিয়াম নামে এক শিক্ষার্থীর মোবাইল চেক করলে মোবাইলে সাঈদির ছবি, বক্তব্য এবং শেখ হাসিনার পদত্যাগ সক্রান্ত কিছু লিখা পাওয়া যায়।
আমরা তার মোবাইল চাইলে সে পালিয়ে যেতে চায়।এসময় ছাত্রলীগের কর্মীরা তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে সোপার্দ করে।

মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইকবাল টিপু একুশে পত্রিকাকে বলেন, গতকাল পাহাড়তলীতে চবি শিক্ষার্থীসহ তিনজন শিবিরের নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তাদের থেকে খবর পেয়ে এই শিক্ষার্থীর মোবাইল চেক করতে চাইলে সে মোবাইল দিতে অস্বীকার করে পালিয়ে যেতে চাইলে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাকে মারধর করে।
এসময় তার সাথে থাকা আরও তিনজন শিবির কর্মী পালিয়ে যায়।
পরে ওই শিক্ষার্থীর মোবাইল চেক করলে সেখানে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রমের কিছু ছবি, গ্রুপ চ্যাটসহ সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া যায়।
পরে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা।

তিনি আরও বলেন, সামনে নির্বাচন; এসময় শিবিরের কর্মীরা সক্রিয় হচ্ছে।আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শিবিরকে কোন অপকর্ম বা নাশকতা সৃষ্টি করতে দিবো না।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আকতারুজ্জামান একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ছেলেটি জিরোপয়েন্ট বসে আছে এবং তার ঠৌটের পাশ দিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে।
কিছু শিক্ষার্থী তার মাথায় পানি ঢালছে।
পরে আমি প্রক্টর স্যারকে জানিয়ে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করাই।
তার থেকে শিবির সন্দেহের কোন বই বা প্রমাণ পেয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তা চেক করে দেখিনি।

এদিকে শিবির সন্দেহে মারধরের কোন অভিযোগ আসেনি বলে একুশে পত্রিকাকে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র।