রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

ভাঙ্গা সড়কে ম্লান চবির সৌন্দর্য

| প্রকাশিতঃ ৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৪:২৩ অপরাহ্ন

চবি প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সড়কগুলোর বেহাল দশা দীর্ঘদিনের। সড়কগুলো সংষ্কারের কারো কোন খেয়াল নেই।

ক্যাম্পাসের প্রায় ছোট বড় সবগুলো সড়কই গর্তে পরিপূর্ণ। ভাঙ্গাচূরা সড়কগুলোতে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

তাছাড়া একটু বৃষ্টি হলেই সড়কগুলোয় কাঁদা আর পানি জমে থাকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ পথ থেকে শুরু করে জিরো পয়েন্ট এলাকা পর্যন্ত সড়কগুলোতে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত রয়েছে।

এছাড়াও জিরো পয়েন্ট থেকে শাহাজালাল হল ও সহোরাওয়ার্দী হলের সড়ক, গোল পুকুরের সড়ক, গবেষণা পরিচালনা ও প্রকাশনা দপ্তর, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ ও শাহী কলোনির সামনে, বিজ্ঞান অনুষদ থেকে জীববিজ্ঞান অনুষদে যাতায়তের সড়কে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, শহীদ মিনার থেকে প্রীতিলতা হয়ে দোলা স্বরণী পর্যন্ত সড়কগুলোর অবস্থা একই।

এছাড়া সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ক্যান্টিনের পাশে এবং অনুষদের সামনে প্রবেশ পথে সড়কে বিশাল অংশ ভাঙ্গা।

এই ভাঙ্গা সড়ক দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে আসা মেহেদী হাসান নামের এক অতিথি একুশে পত্রিকাকে বলেন, গত কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দেখতে গিয়েছিলাম। লোকমুখে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যের অনেক প্রশংসা শুনেছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তার প্রমাণ মিললেও কিছু চিত্র মানতে পারছি না।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ পথের সড়ক অনেক ভাঙ্গাচূরা। রিকশা নিয়ে চললে বোঝা যায় ভাঙ্গা রাস্তায় চলতে কতটা বিরক্তিকর।

তিনি বলেন, সড়কগুলোর এমন চিত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য নষ্ট করছে। সবুজে ঘেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন সড়ক বেমানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মাহির একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়কগুলোর এমন বেহাল দশা যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য নষ্টের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চলাচলে ভোগান্তির সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে ভাঙ্গাচূরা অংশে জমে থাকা পানি ও কাঁদা দিয়ে চলাচল কষ্টকর। প্রশাসনের উচিত সড়কগুলো তাড়াতাড়ি সংষ্কার করা।

এদিকে ক্যাম্পাসের রিকশা চালক ফজু মিয়া বলেন, এ সড়কগুলোতে রিকশা চালানো অনেক কঠিন, রিকশা চালাতে যেমন কষ্ট হয় তেমনি যাত্রীদেরও রিকশায় চড়তে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

আলাওল হলের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে একুশে পত্রিকার প্রতিনিধি জানতে পারে আরেক দূর্ভোগের কথা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, এই সড়কগুলোতে চলতে অনেক সময় গর্তে জমে থাকা কাঁদা পানিতে পা দিয়ে জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। আবার রিকশায় চলতে গেলেও খুব কষ্ট পোহাতে হয়।

তবে এই ভোগান্তির অবসান হচ্ছে বলে একুশে পত্রিকাকে স্বস্তিদায়ক তথ্য জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী জনাব মো. আবু সাঈদ হোসেন।

তিনি বলেন, রাস্তা মেরামতের জন্য একটি উন্নয়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে একটি মিটিং হয়েছে, আজও একটি মিটিং আছে। আমরা অতি শিঘ্রই এ সমস্যার সমাধান করবো। আশা করছি অল্প কিছু দিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে।