চট্টগ্রাম : ধরপাকড় এড়াতে কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে নেতাকর্মীদের মিছিল নিয়ে না আসার পরামর্শ দিয়েছেন নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, সুচিকিৎসা দাবি এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র, গায়েবি মামলা দিয়ে নেতাকর্মী ও তাদের স্বজনদের হয়রানির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশ। তার অংশ হিসেবে নগর বিএনপি বিক্ষোভ সমাবেশ করবে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে।
এদিকে বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে বুধবার দুপুর থেকে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বাড়ানো হয়েছে পুলিশী পাহারা ও নজরদারি। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশের উপর হামলা চেষ্টার অভিযোগে আটক করা হয় বিএনপির ১৫ নেতাকর্মীকে। ফলে আগামিকালের সমাবেশে পুলিশি হস্তক্ষেপ ও ধরপাকড়ের আশঙ্কা শুরু হয় বিএনপি শিবিরে।
সূত্র জানায়, বুধবার বিকেলে নগরের ট্রিটমেন্ট সেন্টারের চেম্বারে ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে যান সিএনজি চালক-শ্রমিক ইউনিয়ন এবং চট্টগ্রাম মহানগর-জেলা কমিউনিটি সেন্টার ডেকোরেটার্স শ্রমিক ইউনিয়নের একদল নেতাকর্মী।
তারা ডা. শাহাদাতের কাছে বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভ সমাবেশে ১০ হাজার নেতাকর্মীর সমন্বয়ে মিছিল নিয়ে আসার ইচ্ছা পোষণ করেন। কিন্তু ডা. শাহাদাত তাতে সায় দেননি।
সেখানে উপস্থিত এক পরিবহন-শ্রমিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে একুশে পত্রিকাকে বলেন, শাহাদাত ভাই আমাদেরকে মিছিল-শোডাউন করতে নিষেধ করেছেন। পুলিশী হয়রানি এড়াতে দলবদ্ধ না হয়ে বিচ্ছিন্নভাবে দলীয় কার্যালয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। বলেছেন তিনি পার্টি অফিসের সামনে উপস্থিত থাকবেন দলীয় নেতাকর্মীদের রিসিভ করার জন্য। ফলে আমরা প্রস্তুতি নিয়েও বিক্ষোভ সমাবেশে মিছিল না যেতে পারছি না। বিক্ষোভ সমাবেশ যেন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় সেজন্য ডা. শাহাদাত নেতাকর্মীদের সহযোগিতা চেয়েছেন বলেও জানান ওই শ্রমিক নেতা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডা. শাহাদাত হোসেন বুধবার সন্ধ্যায় একুশে পত্রিকাকে বলেন, তারা পাগল হয়ে গেছে। আজ বিকেলে বিনাকারণে বিএনপির ১৫ নেতাকর্মীকে পার্টি অফিসের সামনে থেকে আটক করে নিয়ে গেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।
শাহাদাত বলেন, আমরা সবসময় শান্তিপূর্ণ, অহিংস কর্মসূচির পক্ষে। এরপরও পুলিশ গণহারে বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করছে, জেলে পুড়ছে। সে কারণে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়েছি শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিতে।
একুশে/এটি