মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮

ম্যাকানিক হতে চেয়েছিলেন সিডিএ চেয়ারম্যান ছালাম!

প্রকাশিতঃ শনিবার, অক্টোবর ৬, ২০১৮, ৩:২৪ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : পরিবারের হাল ধরতে ম্যাকানিক হতে চেয়েছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-এর চেয়ারম্যান আব্দুচ ছালাম। কিন্তু মা-র একক সিদ্ধান্ত আর সাহসে ম্যাকানিক হওয়ার শিক্ষায় না গিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন কলেজে। তারপর উচ্চতর ডিগ্রি, জীবনগঠনের সংগ্রাম।

নিজের প্রতিষ্ঠা ও সফলতায় গর্ভধারিণী মায়ের অবদান স্মরণ করতে গিয়ে শিশুশিক্ষার্থীদের এভাবেই নিজের সংগ্রামী জীবনের গল্প শোনালেন সিডিএ চেয়ারম্যান আব্দুচ ছালাম।

বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নগরের পাঁচতারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত কৃতী শিক্ষার্থী সম্মাননা অনুষ্ঠানে সিডিএ চেয়ারম্যান বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন সম্প্রতি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।


সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, স্বপ্ন কীভাবে বাস্তবায়িত হয় সেটা বলার জন্য আজ আমি দাঁড়িয়েছি। আমি গরীব ঘরের সন্তান ছিলাম-আই ফিল প্রাউড। ১৯৬৭ সালে মেট্রিক পাশ করি। ৬ ভাই, চার বোন- সবার বড় আমি। পরিবার সিদ্ধান্ত নিলো আমাকে ম্যাকানিক বানাবে, পলিটেকনিক্যালে ভর্তি করাবে। কিন্তু আমার গর্ভধারিনী মা ঘোষণা করলেন-ভিক্ষা করে আমাকে কলেজে পড়াবেন। আমার মায়ের সেই সিদ্ধান্তের কারণে আজকে আমি আব্দুচ ছালামের এই অবস্থা। আমার পরিবারের, আমার বংশের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। আমার বিশ্বাস আমার মায়ের দোয়া আল্লাহপাক এমনভাবে কবুল করেছেন সারা চট্টগ্রামের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার জন্য জাতির পিতার কন্যা আমাকে সিডিএ’র চেয়ারম্যান বানিয়েছেন।

আমার প্রশ্ন আমার মায়েদের কাছে। আমার গর্ভধারিনী মা আমাদের মানুষ করার জন্য এককিলোমিটার দূরে গিয়ে কোমরে কলসি নিয়ে কোথায় বিশুদ্ধ পানির পুকুর তালাশ করে কোমরে পানি নিয়ে এসেছে আমি স্বয়ং নিজে দেখেছি। হাড়িপাতিল মাঝতে গিয়ে পরিস্কার করতে গিয়ে আমার মায়ের সারাশরীর কালো হতে আমি নিজের চোখে দেখেছি। আমার মা কী কষ্ট করেছেন আমাদেরকে মানুষ করার জন্য সেই বর্ণনা দিলে সারারাত চলে যাবে। বলেন আব্দুচ ছালাম।

তিনি বলেন, আর এখন সুঁইচ টিপলে বাতি জ্বলে, টেপ ছাড়লে পানি পড়ে। এত সুযোগ এত সুবিধা আমার মা কখনো পাই নাই। আমার প্রশ্ন-আমার গর্ভধারিণী মা জাতির কাছে কী অসুবিধা কী অভাব আপনাদের! কেন আপনাদের সন্তান বিপথগামী হবে, কেন আপনাদের সন্তান সম্পদে পরিণত হবে না।

শুধু বলব এই দেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়েছে সামনের দিকে এতে কোনো সন্দেহ নাই। সূর্য যেমন উদিত হলে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নাই, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে দৃশ্যমাণ এটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নাই। বুঝতে হবে দেশ যখন এগিয়ে যায় আমাদের কী করতে হবে। এই বোধ যদি না থাকে, দেশ এগিয়ে যাওয়া মানে প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হওয়া। আর সে প্রতিযোগিতার জন্য সন্তানদের গড়ে তোলার দায়িত্ব নিতে হবে আমার মা এবং বোনদেরকে।

ছালাম বলেন, প্রস্তুতি নিতে যদি আমরা গাফেলতি করি, আমরা যদি প্রস্তুতি নিতে অক্ষম হই, আমরা যদি বুঝতে না পেরে ঘুমিয়ে থাকি তাহলে এই দেশের সর্বনাশ হয়ে যাবে।

একুশে/এটি