বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬

মুন্না শারজাহতে, ‘বোমার বিস্ফোরণ’ বায়েজিদে!

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৮, ১:৫৯ অপরাহ্ণ

রাকীব হামিদ : সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ নগরীতে ১৮ বছর ধরে গৃহনির্মাণ ব্যবসায় যুক্ত আছেন বেলাল উদ্দিন মুন্না। চলতি বছরের এপ্রিলে পারিবারিক কাজে দেশে আসেন। কাজ শেষে গত ১১ সেপ্টেম্বর শারজাহ ফিরে যান। ৩২ দিনের মাথায় জানতে পারেন ১৪ অক্টোবর বায়েজিদ এলাকায় ৪৩ জন মিলে বোমার বিস্ফোরণ ঘটান তিনি।

এ ঘটনায় বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে অজ্ঞাত ৪০ জনসহ মোট ৮৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে বায়েজিদ থানা পুলিশ। দেশ থেকে ৩ হাজার ৭শ’ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করেও পুলিশের এই মামলায় ১৪ নম্বর আসামি হয়েছেন প্রবাসী বেলাল উদ্দিন। একুশে পত্রিকার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভুক্তভোগী প্রবাসী বেলাল উদ্দিন মুন্না পাঁচলাইশ থানাধীন চালিতাতলীর আবদুস সাত্তার কন্ট্রাক্টরের চতুর্থ সন্তান। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। উন্নত জীবনের আশায় ২০০০ সালে আরব আমিরাতে পাড়ি জমান। নিজের মেধা ও শ্রমে ২০০২ সালে শারজায় প্রতিষ্ঠা করেন আল মানজার বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস (এলএলসি) লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান। যেখানে বর্তমানে ৬০ জন বাংলাদেশি কাজ করছেন। পাশাপাশি দেশেও রয়েছে তার দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনেরও প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার এই প্রবাসী ব্যবসায়ী।

শারজায় থাকা বেলাল উদ্দিন মুন্নার সাথে মোবাইল ফোনে কথা হয় একুশে পত্রিকার। তিনি জানান, মূলত বড় ভাই জসিম উদ্দিনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রাজনৈতিক এই গায়েবি মামলায় আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। পাড়ার দুষ্টু লোক শিবির ক্যাডার সাজ্জাদের সহযোগী ফোরকানও আমার ভাইয়ের সঙ্গে জড়িত।

বেলাল উদ্দিন মুন্না অভিযোগ করে বলেন, বায়েজিদ থানা পুলিশকে টাকা দিয়ে এই মামলায় তার নাম ঢুকানো হয়েছে। তিনি দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড দূরে থাক বরং কখনো কোনো সভাসমাবেশ, মিছিলেও অংশ নেননি।

অভিযোগ আছে, এ ধরনের রাজনৈতিক মামলায় নির্দোষ, নিরাপরাধ মানুষকেও ফাঁসানো হচ্ছে। হাসিল করা হচ্ছে ব্যক্তিশত্রুতা। আর এতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষকে। এছাড়া এ ধরনের কল্পিত মামলায় আসামি তালিকায় নাম যুক্ত করতে এবং মামলা থেকে নাম প্রত্যাহারে অসাধু পুলিশরা মোটা অংকের লেনদেন করেন। এতে স্থানীয় কতিপয় রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, মাতবর-সর্দার ও পুলিশের একটি চক্র জড়িত বলে অভিযোগ।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বায়েজীদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান খন্দকার একুশে পত্রিকাকে জানান, নাশকতার মামলায় ঘটনাস্থল থেকে একজন বা দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। আমরা তো জানি না এ ঘটনায় ৪০-৫০ জন যুক্ত থাকে। তখন আমরা গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বর্ণনা শুনি। তখন তারাই অন্যান্যদের নাম বলে থাকে। এর ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়। এরপর আমরা সত্যমিথ্যা তদন্ত করে দেখি। মিথ্যা হলে যে কারো নাম বাদ যেতেই পারে।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্যে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগমকে মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একাধিকবার ফোন করার এক পর্যায়ে তিনি ফোন ধরেন। বিষয়টি শুনে তিনি কিছু সময়ের জন্য চুপ থাকেন। এরপর জানান, এ ব্যাপারে আমার বলার কিছু নেই। আমি মোবাইল ফোনে কথা বলব না। খুব বেশি প্রয়োজন হলে আমার অফিসে এসে সরাসরি কথা বলুন।

এরপর একুশে পত্রিকা থেকে ফোন করা হয় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মাহবুবর রহমানকে। বিষয়টি শুনেই তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। বলেন, ‘এটি একেবারে ক্ষমাহীন অপরাধ। যাকে আসামি করা হয়েছে তিনি তো মামলা থেকে বাদ যাবেনই; যে পুলিশ কর্মকর্তা এটির সঙ্গে যুক্ত তাকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। আমি বিষয়টি এখনই দেখছি।’

এদিকে, এই প্রতিবেদন তৈরির শেষমুহূর্তে শারজাহ থেকে একুশে পত্রিকাকে ফোন করে কাঁপাগলায় বেলাল উদ্দিন মুন্না বলেন, ভাই শুনলাম সোমবার বায়েজিদ থানায় দায়ের করা আরও একটি মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। এখন বলুন, আমি কী করবো, কার কাছে বিচার দিব?

একুশে/আরএইচ/এটি