২৬ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬, মঙ্গলবার

চট্টগ্রামের একমাত্র সাত্ত্বিক মণ্ডপ : নিয়ন আলোয় মায়ের পুজো

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৮, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : কালের বিবর্তণে পূজামণ্ডপে এসেছে পরিবর্তন। যোগ হয়েছে ডিজে, বাহারি আলোকসজ্জাসহ নানা অনুষঙ্গ। এর মাঝেও আছে আলোকসজ্জাবিহীন, বিলাসব্যসন ছাড়া পূজা; নাম সাত্ত্বিক পূজা। যেখানে নিয়ন আলোয় ঢাকের তালে করা হয় মা দেবীদূর্গার আরাধনা।

চট্টগ্রাম মহানগরের ২৫৫ টি পূজামণ্ডপের মধ্যে একমাত্র রাজাপুকুর লেন-মোমিন রোড জামালখান পূজামণ্ডপেই হচ্ছে এই সাত্ত্বিক পূজা।

জামালখান লুসাই ভবনের সামনে গত তিন বছর ধরে ভিন্নধারার এই পূজার আয়োজন হয়ে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও সাত্ত্বিকভাবে সাজানো হয়েছে এই পূজামণ্ডপ। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সাত্ত্বিকতায় সঙ্গ করে, লক্ষ্য মূলে ফেরা’।

জানা যায়, মূলত এই সাত্ত্বিক পূজার আবির্ভাব হয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর-চব্বিশ পরগণায়। আর বাংলাদেশে ১৮৯৯ সালে কালীপ্রসন্ন চট্টোপাধ্যায় এই পূজার শুরু করেন কুমিল্লায়। বর্তমানে কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম ছাড়া দেশের কোথাও সাত্ত্বিক পূজা হয় না বলে আয়োজকরা জানান।

মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মণ্ডপের প্রবেশ পথের দু’পাশে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে চারটি প্রতীকী বটগাছ। মণ্ডপের ভিতর থেকে ভেসে আসছে বৈদিক সুর। দ্বার পেরিয়ে মণ্ডপে প্রবেশ করতেই দেখা মিলল বৈদিক চণ্ডসজ্জিত মণ্ডপের চারপাশ। দেয়ালে দেয়ালে শোভা পাচ্ছে বেদ, ঋষি বা সাধকদের ছবিসহ বৈদিক ভাষায় লেখা নানা ক্যালিগ্রাফি। এসবের মাঝেই ঢাকের তালে মণ্ডপে দেবীদূর্গার প্রতিমার পূজাঅর্চনা করছেন আগত পূজার্থীরা।

মণ্ডপে মায়ের পূজা করতে আসা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনুরাধা চৌধুরীর সাথে কথা হয় একুশে পত্রিকার। তিনি বলেন, এবছর রাজাপুকুর লেন-জামালখানের এর পূজাটা ব্যতিক্রম লেগেছে। কারণ এখানেই বৈদিক শাস্ত্রের নিয়ম অনুসারে মায়ের পুজো হচ্ছে যেটাকে বলা হয় সাত্ত্বিক পুজো। যা সবারই অনুসরণ করা উচিত।

নগরীর একমাত্র এই সাত্ত্বিক পূজামণ্ডপ উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী অমিত ধর একুশে পত্রিকা বলেন, এবছর মণ্ডপ তৈরিতে ৩ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। নগরীতে এমন পূজামণ্ডপ আর নেই। ডিজে গান ও অতি আলোকসজ্জাহীন পূজামণ্ডপ এটি। ঢাকের তালে ও বৈদিক সুরেই আমাদের মণ্ডপে দেবীর অর্চনা করা হচ্ছে। এতে যে পরিমাণ অর্থের সাশ্রয় হয় তা আমরা অনাথদের কল্যাণে দিয়ে থাকি। এছাড়া দশমী পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবাও দেয়া হবে।

একুশে পত্রিকা/আরএইচ/এটি