শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

শীর্ষ ঋণ খেলাপি শাহাবুদ্দিন আলম আটক

| প্রকাশিতঃ ১৭ অক্টোবর ২০১৮ | ৪:৩৮ অপরাহ্ন

ঢাকা: ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ ঋণ খেলাপি, এসএ গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন আলমকে গুলশানের একটি হোটেল থেকে আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বুধবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন সিআইডি পরিদর্শক আশরাফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, শাহাবুদ্দিন আলমকে আদালতের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করা হবে। এজন্য তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের এসএ গ্রুপের চেয়ারম্যানের পাশাপাশি এসএ অয়েল রিফাইনারি ও সামান্নাজ সুপার অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন শাহাবুদ্দিন আলম। তিনি ব্যাংকিং খাতের একজন শীর্ষ ঋণ খেলাপি। তার বিরুদ্ধে বেসরকারি খাতের প্রাইম ব্যাংকের দায়ের করা ৪৩টি অপরাধ ও ১টি অর্থঋণ আদালতের মামলা রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আর টাকা ফেরত দেননি তিনি।

বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন সময়ে বিপুল পরিমাণে ঋণ সুবিধা গ্রহণ করে এসএ গ্রুপ। এর মধ্যে ২০১৩ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক মন্দা বিবেচনায় বড় ঋণ পুনর্গঠনে দেওয়া বিশেষ সুবিধা নেয় তারা।

এ গ্রুপের মালিকানাধীন দুই প্রতিষ্ঠান এসএ অয়েল রিফাইনারি ও শামান্নাজ সুপার অয়েল লিমিটেড। মাত্র এক শতাংশ ডাউন পেমেন্টে প্রতিষ্ঠানগুলোর ৯২৮ কোটি টাকা ঋণ পুনঃতফসিল করে ছয়টি ব্যাংক। পুনঃতফসিল করা ঋণের কিস্তি দেওয়ার সময় পার হলেও কোনো টাকা পরিশোধ করা হয়নি। এর মধ্যে ব্যাংক এশিয়া ২৫৫ কোটি টাকা ঋণ পুনঃতফসিল করে। কিস্তি পরিশোধের কথা থাকলেও তা করেনি এসএ গ্রুপ।

২৬ অক্টোবর প্রায় ৫৭৪ কোটি ঋণের পাওনা আদায়ে এ গ্রুপের তিন প্রতিষ্ঠানের সব মেশিনারিজ, জাহাজ ও দুই দশমিক ৪৪ একর জমি নিলামে তুলেছে ইসলামী ব্যাংক। বন্ধকী সম্পত্তির নিলামের মাধ্যমে বিক্রির নোটিশ দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখা। অনাদায়ী পাওনা আছে প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেডের ৩৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং ন্যাশনাল ব্যাংকের ৩৭০ কোটি টাকা।

তথ্যমতে, নথি জালিয়াতি করে ২২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ১৫ মার্চ মামলাটি দায়ের করেছিল ন্যাশনাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকের আগ্রাবাদ করপোরেট শাখার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজার নিজাম আহমেদের দায়ের করা এ মামলায় এসএ অয়েল রিফাইনারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাবুদ্দিন আলম ও সিনিয়র উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিজিএম) দিদারুল আলমকে আসামি করা হয়।

এরপর আদালত ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মামলা এজাহার হিসেবে গণ্য করে আসামিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২৭ মার্চ মামলাটি এজাহার হিসেবে থানায় রেকর্ড করা হয়।

তদন্তের দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক (এসআই) কায়সার হামিদ। কিন্তু দেড় বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও চট্টগ্রামের পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করেনি। বারবার তাগাদা দেয়ার পাশাপাশি এ নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিসও দিয়েছিল আদালত।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৮ সাল থেকে দেশে ব্যবসা চালিয়ে আসছে চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এসএ গ্রুপ। প্রথমে ভোজ্যতেল পরিশোধন খাতে বিনিয়োগ করলেও বর্তমানে এসএ গ্রুপের রয়েছে ১৭টি ব্যবসায়িক ইউনিট। বার্ষিক ২৫০ কোটি টাকা টার্নওভারের এ শিল্প গ্রুপে কর্মরত আছেন আড়াই হাজারের বেশি কর্মী। ভোজ্যতেলের ব্র্যান্ড মুসকান সয়াবিন তেল এসএ গ্রুপেরই একটি পণ্য।

একুশে/এসসি