শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

এইচএসসির ফল আরও ভাল হয়েছে

| প্রকাশিতঃ ১৮ অগাস্ট ২০১৬ | ৩:১৫ অপরাহ্ন

sscউচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় প্রতি চারজনের তিনজনই উত্তীর্ণ হয়েছে। আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে পাসের হার ৭৪.৭০ শতাংশ, যা আগের বছরে ছিল ৬৯ শতাংশ। এক বছরে পাসের হার বেড়েছে ৫ শতাংশের বেশি। সকালে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফলাফলের কপি তুলে দেয়ার সময় শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য দেন। তিনি জানান, কেবল পাসের হারের দিকে থেকেই নয়, সব সূচকেই গতবারের চেয়ে এবারের ফলাফল ভালো করেছে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, দশটি সাধারণ বোর্ডে এবার সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৮ হাজার ২৭৬ জন, গত বছর যা ছিল ৪২ হাজার ২৫৪ জন। অর্থাৎ গত বছরের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছে ১৬ হাজার ২২ জন। এবার পরীক্ষার্থী ছিল ১২ লাখ তিন হাজার ৬৪০ জন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৬১ হাজার ৬১৪ জন। আগের বছরের চেয়ে এবারের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৪২ হাজার জন বেশি ছিল।

এইচএসসিতে পরীক্ষার্থী ছিল ১০ লাখ ৭ হাজার ২৫৩ জন। এদের মধ্যে পাস করেছে ৭ লাখ ৪০ হাজার ৮০৩ জন। পাসের হার ৭২.৪৭ শতাংশ। গত বছর পাসের হার ছিল ৬৫ শতাংশ। এক বছরে পাসের হার বেড়েছে ৬.৬ শতাংশ। এবার সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৮ হাজার ৯৫০ জন। আগের বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ বেড়েছে ১৪ হাজার ২২৯জন।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৬৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে এক হাজার ৯১২ জন। দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৭০ দশমিক ৬৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে তিন হাজার ৮৯৯ জন। রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৭৫ দশমিক ৪০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ছয় হাজার ৭৩ জন।

সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে এক হাজার ৩৩০ জন। চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৬৪ দশমিক ৬০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই হাজার ২৫৩ জন।

বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৭০ দশমিক ১৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৮৭ জন। কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ছয় হাজার ৫৮৬ জন। আর মাদ্রাসা বোর্ডে ৮৮ দশমিক ১৯ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই হাজার ৪১৪ জন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাখাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। আরও উন্নতি করতে হবে। এখন শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করাই আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ। এজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিদিনই আমরা কোনো না কোনো ইতিবাচক কাজ করছি।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কারণেই এই ফলাফল করা সম্ভব হয়েছে। সবার মিলিত চেষ্টায় আমরা এই পর্যায়ে আসতে সক্ষম হয়েছি।

ফল হাতে পাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সবাই মিলে আন্তরিকভাবে কাজ করায় আমরা দিনের পর দিন ভাল ফল করতে পেরেছি। তিনি বলেন, আগে পাসের হার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে থাকতো। এমন ফল দেখে আমার খারাপ লাগতো। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আমরা শিক্ষার মান বাড়ানোর চেষ্টা করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের কেউ যেন নিরক্ষর না থাকে সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এসময় যারা পাস করেছেন প্রধানমন্ত্রী তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। আর যারা পাস করতে পারেনি প্রধানমন্ত্রী তাদের লেখাপড়ায় আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

বেলা একটায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের তথ্য তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী। এর পরপরই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ফল প্রকাশ করা হবে। গত কয়েক বছরের মতো এবারো বোর্ডগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ই-মেইলের মাধ্যমে তাদের ফল অবহিত করবে। কোনো ধরনের কাগজ বা লিখিত কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হবে না।