শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩০ ভাদ্র ১৪২৬

খুন-ধর্ষণ-অপহরণের আসামি আনোয়ার সৌদি আরবে আওয়ামী নেতা!

প্রকাশিতঃ শনিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৮, ১:১৫ অপরাহ্ণ

সীমান্ত খোকন, জেদ্দা, সৌদি আরব : সৌদি আরবে ‘বঙ্গবন্ধু একাডেমি’ নামে কথিত একটি রাজনৈতিক সংগঠনের জেদ্দা শাখার কমিটিতে স্থান পেয়েছে আনোয়ার হোসেন বাবলু নামের খুন, ধর্ষণ ও অপহরণ মামলার এক আসামী। এ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেদ্দার একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ প্রবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে একুশে পত্রিকাকে বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে, তারপর ছেড়ে দেওয়া, দ্বিতীয় বিয়ে করে সেই স্ত্রীকে হত্যা, এরপর আরও দুটি বিয়ে করে একজনকে স্বীকৃতি না দিয়ে সৌদি আরব পালিয়ে আসা এবং অপহরণ মামলায় বর্তমানে সৌদি আরবে হাজতবাস- এমন একজন বিতর্কিত লোককে বঙ্গবন্ধু একাডেমির জেদ্দা কমিটিতে সহ সাধারণ সম্পাদক করায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। এতে করে দলের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলেও মনে করেন তারা।

বিতর্কিত এই ব্যক্তির বাড়ি কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের ঘোষঘর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মতিন ভূঁইয়ার ছেলে।

অভিযোগ রয়েছে, আনোয়ার ২০০৩ সালে কুমিল্লা শহরের টনসম ব্রিজ এলাকা থেকে লিমা নামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তার অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে ভাগিয়ে চট্টগ্রাম নিয়ে যায়। সেখানে অবৈধ মেলামেশার অভিযোগে এলাকার লোকেরা তাদের আটক করে বিয়ে পড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে এই মেয়েকে ছেড়ে দেয় আনোয়ার।

২০০৬ সালে দেবিদ্বার উপজেলার বড় আলমপুর গ্রামে পারভিন নামে আরেক মহিলাকে বিয়ে করেন তিনি। কিন্তু যৌতুকের দাবিতে ওই বছরই পারভিনকে খুনের অভিযোগ উঠে আনোয়ারের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে আনোয়ার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দেবিদ্বার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও পরে অর্থের বিনিময়ে দফারফা করেন বলে জানা যায়।

এ ঘটনার পর ২০০৭ সালের দিকে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চৌব্বাস গ্রামে লাইজু নামে আরেক মহিলাকে বিয়ে করেন আনোয়ার। মোটা অঙ্কের যৌতুক নিয়ে বিয়ে করে সেই টাকায় ও তার বড় বোনের সহযোগিতায় ওই বছরই সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে অন্য কাজের পাশাপাশি জেদ্দার প্রবাসী এক সাংবাদিকের সহযোগিতায় লোকদেরকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে পাসপোর্ট বানিয়ে দেওয়ার ব্যাবসা শুরু করেন তিনি।

ফলে প্রচুর অর্থ-বিত্তের মালিক বনে যান অল্প সময়ের মধ্যে। এরপর ২০১১ সালে নাসিমা ওরফে বৈশাখী নামে ঢাকায় তার এক প্রবাসী বন্ধুর স্ত্রীর সাথে ফোনে পরিচয় আনোয়ারের। দেশে গিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই মহিলার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়ান তিনি। মহিলা প্রতারিত হয়ে আনোয়ারের এলাকায় গিয়ে স্থানীয় সর্দারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন বিচারের আশায়। বিচার না পেয়ে আনোয়ারের বিরুদ্ধে দেবিদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বিয়ে করেও স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া, প্রতারণা ও বিয়ের আগে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। ধর্ষণের ভিডিও আনোয়ারের আত্নীয় ও পাড়া-প্রতিবেশির কাছে ভাইরাল হয়ে পড়ে।

এছাড়াও গত দেড় মাস আগে সৌদি আরবের জেদ্দায় মুক্তিপণের জন্য কয়েকজন প্রবাসীকে অপহরণ করেন তিনি। এই অপহরণ মামলায় বর্তমানে জেল খাটছেন আনোয়ার।

এসব তথ্য জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাড়াও খোদ আনোয়ারের ছোট বোন নুসরাত রীতা। নুসরাত রীতা একুশে পত্রিকাকে জানান, কী বলবো মা’র পেটের ভাই। একের পর এক অপকর্ম করে তিনি আমাদের পরিবারের মানসম্মান ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছেন। তার কারণে আমরা এলাকায় মুখ দেখাতে পারি না।

এমন একজন বিতর্কিত লোককে সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক করার ব্যাপারে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু একাডেমির জেদ্দা শাখার সভাপতি সিদ্দিক সরকার জানান, এমন কোনো অভিযোগ পেলে অবশ্যয় আনোয়ারের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

একুশে/এসকে/এটি