শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

জগন্নাথে দুই দিনের ধর্মঘটের ডাক

| প্রকাশিতঃ ২২ অগাস্ট ২০১৬ | ৪:১৬ অপরাহ্ন

jnuহলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেয়ার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রীর কার‌্যালয়ের উদ্দেশে পদযাত্রা পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে।

এরপর তারা তাঁতিবাজার মোড়ে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করে। পরে আগামীকাল ও বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা, দাপ্তরিক কাজসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় সামনে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিল নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পুরান ঢাকার বংশাল মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

নাজিম উদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে সরিয়ে নেয়ার পর সেখানকার পরিত্যক্ত জমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট নিরসনের জন্য বরাদ্দের দাবিতে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা।

গত বৃহস্পতিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক ধমঘট পালন শেষে হলের দাবিতে আন্দোলনের মুখপাত্র শাহেদ ইসলাম বাঁধন রবিবারের মধ্যে হল নির্মাণের ঘোষণা না এলে আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেয়ার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন। তারই অংশ হিসেবে আজ সকাল সাড়ে নয়টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীরা একত্র হয়ে মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা করেন।

আন্দোলনকারী ছাত্রদের প্রথমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে বাধা দেয় পুলিশ। কিন্তু পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যান সামনে। সিএমএম কোর্টের সামনের মোড়ে আবার পুলিশের বাধার মুখে পড়ে শিক্ষার্থীদের মিছিল। সেই বাধাও ভেঙে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁতিবাজার মোড় পেরিয়ে বংশাল মোড়ে গিয়ে পুলিশের কাঁটাতারের ব্যারিকেডের সামনে পড়ে।

শিক্ষার্থীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে চার-পাঁচজন ছাত্র আহত হন বলে দাবি করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রবিন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আবার সংগঠিত হয়ে তাঁতিবাজার মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত করে রাখেন পুরো এলাকা। এতে নয়াবাজার, ধোলাইরপাড়, গুলিস্তান, ইংলিশ রোডসহ আশপাশের সড়ক ও গলিতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

পরে দুইটার দিকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করে সড়ক ছেড়ে যান শিক্ষার্থীরা। হলের দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল থেকে জবির সামনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেবেন বলে ঘোষণা দেন আন্দোলনের মুখপাত্র শাহেদ ইসলাম বাঁধন।

এ বিষয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রবিন বলেন, “আজ আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে রওনা দেই। বংশাল মোড়ে যেতেই পুলিশ আমাদের টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে আমাদের চার-পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছে। এরপর আমরা তাঁতিবাজার মোড়ে অবস্থান নিই। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিত্যক্ত জায়গায় হল নির্মাণের সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে।”

এ বিষয়ে কথা হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সিনিয়র সহকারী মিশনার লুৎফল কবীর চন্দন ঢাকাটাইমসকে বলেন, জননিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ছাত্রদের সামনের দিকে আসতে দেয়া হচ্ছে না। তারা বংশালের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে আসতে চাইলে টিয়ার শেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়। এরপর তারা তাঁতিবাজারের মোড়ে অবস্থান নিয়েছে।” কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হলে তারা বাধা দেবেন না বলে জানান তিনি।

এর আগে টানা সাত বছর আন্দোলন করে দুটি হল উদ্ধার করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, দখলে নিয়েছেন ছাত্রী হলের জমি; কিন্তু আবাসিক হলে থাকার ভাগ্য আর তাদের হয়নি। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন আন্দোলন করছেন পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের জমিতে হল করার অনুমতির জন্য।

নাজিম উদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারের জমি বরাদ্দের দাবিতে গত বুধবার প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করার পর বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ধর্মঘট পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর আন্দোলনের মুখপাত্র বাঁধন সোমবার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেয়ার কমসূচি ঘোষণা করেন। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আজ তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা করে।