
সেমিনারে বক্তৃতা করেন কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশর রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম
বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি কোরিয়াতে বাংলাদেশের রপ্তানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এখানে দক্ষিণ কোরিয়ার ২২০টি প্রতিষ্ঠানে ১৬০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। এতে ১ লাখ ৬০ হাজার লোকের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবছর এসব প্রতিষ্ঠান ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক রপ্তানি করছে। কাজেই এখাতে দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের উন্নয়নের সবচেয়ে পুরোনো ও টেকসই অংশীদার। কোরিয়ার জায়ান্ট কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করতে বাংলাদেশমুখী হচ্ছে।
সম্প্রতি কোরিয়ান স্যামস্যাং ইলেকট্রনিক্স ও এলজি ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি বাংলাদেশে যথাক্রমে মোবাইল ফোন সংযোজন কারখানা ও টেলিভিশন সংযোজন কারখানা করেছে। হুন্ডাই কোম্পানি বাংলাদেশে তাদের কার্যালয় খুলেছে। SK গ্যাস LNG এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে বাণিজ্যিক উইং খোলার পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলামের নেতৃত্বে প্রথম কমার্শিয়াল কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদ রানা চৌধুরী বিভিন্ন সভা-সেমিনার, মেলার আয়োজন ও তাতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে কোরিয়ার ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাষ্টদূত আবিদা ইসলামের নেতৃত্বে কোরিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (KCCI), কোরিয়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংস্থা (KOTRA), কোরিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থা (KITA), কোরিয়া আমদানিকারক সমিতিসহ (KOIMA) বিভিন্ন বাণিজ্যিক অঙ্গসংগঠনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা ও বাণিজ্য বিনিয়োগ বিষয়ক তাদের জিজ্ঞাসার জবাব দেয়া হচ্ছে। কোরিয়া আমদানিকারক সমিতি (KOIMA) ও বাংলাদেশ দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে বাণিজ্য উন্নয়ন বিষয়ক সহায়তা কমিটি (TPPC) গঠন করা হয়েছে।
২০১৭-১৮ অর্থবছরে সিউলস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের বাণিজ্যিক উইং-এর জন্য ৩৩৭.০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩৬১.১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় অর্জিত হয়েছে। যা দেশের জন্য সুখবর।
দুদেশের বাণিজ্যের গুরুত্ব বিবেচনা করে সোমবার Advanced Fashion Design of Korea (AFD) ও বাংলাদেশ দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টরের উপর একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। কোরিয়ার শীর্ষ ৩০টির মতো গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান ও সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র ফ্যাশন ডিজাইনিং ডিপার্টমেন্ট এর নির্বাহী ও অধ্যাপকগণ উক্ত সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারে রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন চিত্র ও তৈরি পোশাক খাতে অর্জন এবং বিশ্ববাজারে এ খাতের অবস্থান তুলে ধরে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
পরবর্তীতে এ বিষয়ে একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তরপর্ব অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত কোরিয়া ব্যবসায়ীবৃন্দ ও অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে এখাতে আরও অগ্রযাত্রা সাধিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এর ফলে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক্ষেত্রে উল্লেখিত সেমিনার আয়োজন দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অনুঘটক হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।
বলাবাহুল্য, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল যে কটি দেশ, দক্ষিণ কোরিয়া তার মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা পাওয়া দেশের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই বাংলাদেশকে বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি এ দেশে প্রথম বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে এগিয়ে এসেছে দক্ষিণ কোরিয়া।
একুশে/ওএফএইচ/এটি