
ওমর ফারুক হিমেল : জন্ম-মৃত্যু বিধাতার ইচ্ছা। এতে কারো হাত নেই। এত কিছুর পরেও আপনজন, প্রিয় মানুষদের হঠাৎ প্রস্থান মেনে নেয়া যায় না। এমনই একজন বন্ধুবৎসল সদালাপী, অমায়িক, বিনয়ী ব্যক্তির প্রস্থানে ফেসবুকের পাতায় বইছে শোকের নহর।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলামের বাল্যবন্ধু মোরশেদুল ইসলাম। মোরশেদকে নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন আওয়ামী লীগের এই কেন্দ্রীয় নেতা। তিনি লিখেন, মোরশেদ কী লিখবো তোকে নিয়ে, কী বলবো ভাবী আর বাচ্চাকে? চোখ ঝাঁপসা, কলমও চলছে না। চলবেই বা কীভাবে? কেউ কি এভাবে যায় তাও বেড়াতে গিয়ে? তবে এইটুকু বলি, তোর মত বন্ধু পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার, আমার সেই ভাগ্যটা হয়েছিল তোকে বন্ধু হিসেবে পেয়ে।
ওপারে ভাল থাকিস। আল্লাহর দরবারে এটাই শুধু প্রার্থনা।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে মোরশেদুল আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
চট্টগ্রাম নগরের ২১ নং জামালখান ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোরশেদুল আলম চীনের একটি আবাসিক রেস্টহাউসে অবস্থানকালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। আওয়ামী লীগের ত্যাগী, নিবেদিত এই নেতার মৃত্যুতে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
চট্টগ্রামের পাঠকনন্দিত একুশে পত্রিকার সম্পাদক আজাদ তালুকদার তার ফেসবুকে লিখেন- আহা মৃত্যু কত সহজ! মাত্র এক সপ্তাহ আগে কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের জন্য একুশে পত্রিকার প্রিন্ট ভার্সন নিয়ে যেতে আমার বাসায় এসেছিলেন। এক সাথে ইফতার, কত কথা, কত আড্ডা! ভাবিনি এই আড্ডাই শেষ আড্ডা, শেষ দেখা। বড় অসময়ে চলে গেলেন মোরশেদ ভাই। ভালো মানুষদের চলে যাওয়া বোধহয় এমনই! আমরা এখনও রয়ে গেছি ভালো মানুষ নই বলে। ওপাড়ে অনেক ভাল থাকুন প্রিয় মোরশেদ ভাই…।
চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথ কোরিয়ার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান নিজের ফেসবুক ওয়ালে লিখেন, মামা আপনার মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। আপনার স্মৃতি ভুলতে পারব না। এভাবে না গেলেও পারতেন। সেদিন আড্ডা দিলাম আমি, ওমর ফারুক হিমেল, তাহের ভাইসহ আমার সিউলে বাসায়। সেই আড্ডা কী করে ভুলি, ভোলা যায়!
চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের প্রেস উইং-এর সমন্বয়কারী উজ্জ্বল দত্ত ফেসবুকে লিখেন, একজন ভাল মানুষের চলে যাওয়া কখনো মেনে নেয়া যায় না। মোরশেদ ভাই, চলে যেতে মন চেয়েছে আমাদের কাছে এসে বিদায় নিতেন। এমন কী অভিমান যে চোখের আড়ালে গিয়েই আড়াল হয়ে গেলেন। ভাল থাকুন ভাইয়া।
যুবলীগ নেতা মাহবুবুল আলম সুমন তার ফেসবুকে লিখেন, আমি ভয়ানকভাবে মর্মাহত। দুইদিন নেটওয়ার্কের বাইরে ছিলাম। ফিরে পেতেই এই সংবাদ আমাকে ভারাক্রান্ত করে তুললো। প্রিয় মোরশেদ ভাইয়ের মৃত্যুতে আমি গভীর শোকাহত। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুক।
মোরশেদের স্কুল জীবনের বন্ধু সুপরিচিত মুখ হাসান ইমাম চৌধুরী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান, চলে গেলো আমার স্কুলজীবনের বন্ধু সদা হাসি-খুশি মোরশেদ। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে জান্নাতবাসী করুন।
সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব ফেসবুকে লিখেন, প্রিয় মোরশেদুল আলম ভাই এভাবে চলে যাবে চিন্তার বাইরে। আল্লাহর ডাকে আমাদের মাঝ থেকে চিরবিদায় নিলেন। আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করি আল্লাহ মোরশেদ ভাইকে জান্নাত দান করুক। যেখানে দেখেছেন সেখানে মোরশেদ ভাই ‘তারেক’ বলে ডাক দিয়েছেন। কেমন আছো এ শব্দ দিয়ে শুরু করতেন। কিছুদিন আগে দামপাড়ায় চট্রগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর বাসা থেকে বের হতেই আমাকে দেখে ডাক দিলেন। কথা বলেন। হাসিমুখে করমর্দন করলেন। কুশলাদি জিজ্ঞেস করলেন। এ মানুষটি আর আমাদের মাঝে নেই। কল্পনা করতে পারি না। অমায়িক একজন মানুষ, ভালো একজন মানুষ। ওপাড়ে ভালো থাকুন। আল্লাহ আপনাকে জান্নাতের সবোর্চ্চ স্থানে স্থান দিক-আমিন। অনেক খারাপ লাগলো আপনার জন্য। আপনার মৃত্যু সবার জন্য রেড সিগন্যাল। সবাইকে যেতে হবে। অহংকার করে অহমিকা দেখিয়ে এ দুনিয়ায় কোনো লাভ নেই। একটি বেলুনের মত আমাদের জীবন, দম ফুরালে সব শেষ। হায়রে মানুষ রঙিন মানুষ দম ফুরালেই ঠুস।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম জামালখান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদুল আলম গত ২৪ নভেম্বর কোরিয়া যান। সেখান থেকে যান চীন। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার ফ্লাইটে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই বের হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়ার সময় হোটেলেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান।
একুশে/ওএফএইচ/এটি