শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের বিদায়ঘণ্টা!

| প্রকাশিতঃ ২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৯:০৬ অপরাহ্ন

রাকীব হামিদ : নির্বাচন করার আগেই অনেকটা বিদায়ঘণ্টা বাজলো চট্টগ্রামে বিএনপি’র হেভিওয়েট প্রার্থীদের। মনোনয়নপত্র বাছাই প্রক্রিয়ার দিনেই জানা গেল তাদের এমন করুণ পরিণতির বার্তা।

এদিন চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে পাঁচটি আসনে বাদ পড়েন পাঁচ হেভিওয়েট প্রার্থী। বাদ পড়া পাঁচজন হলেন- চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী) আসনে মোর্শেদ খান, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড) আসনে আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে গিয়াস কাদের ও চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে মোস্তফা কামাল পাশা। মুলত এরা পাঁচ জনই সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীও ছিলেন তারা।

রবিবার (২ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাছাই বাছাই শেষে তাদের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়।

যে কারণে বাতিল হলো হেভিওয়েটদের প্রার্থীদের মনোনয়ন-

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সাংসদ মোস্তফা কামাল পাশার১৯৮৭ থেকে ১৯৯১ সালের টিঅ্যান্ডটি বিল বকেয়া থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড) আসনে উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি আসলাম চৌধুরী ঋণখেলাপি হওয়ায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলায় আসলাম চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যরা আসামি।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপি নেতা মীর নাছির নিম্ন আদালতের সাজাপ্রাপ্ত। তার দাবি উচ্চ আদালতে তা বাতিল হয়েছে। কিন্তু এ সংক্রান্ত যথাযথ নথিপত্র দিতে পারেননি ।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনি)  আসনে দলীয় মনোনয়ন না থাকায় বাতিল হয়েছে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর মনোনয়নপত্র। পাশাপাশি ঢাকা ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকের ঋণখেলাপীও তিনি।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী মোরশেদ খানের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায়  মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

এদিকে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বিকালে সংবাদ সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান বলেন, শতভাগ আন্তরিকতা, সততা ও নিরপেক্ষতার সাথে মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়েছে। যাতে কোনো একজন প্রার্থীও অমনযোগীতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

কোনো প্রার্থীর নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “শত কোটি টাকার ঋণখেলাপিও আছেন। আবার লাখ লাখ টাকার বিল খেলাপিও আছেন। অনেকে যথাযথ সনদপত্রও জমা দেননি।

“সবাইকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়েছি। এরপরও তাদের নির্বাচন কমিশন ও উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ আছে।”

একুশে/আরসি/এসসি