শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

সেন্ট মেরীস স্কুলের বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ

| প্রকাশিতঃ ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১২:০২ পূর্বাহ্ন


চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেন্ট মেরীস স্কুলের বিরুদ্ধে ভূয়া লটারির মাধ্যমে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

কেজি শ্রেণীতে ভর্তিতে অভিভাবক ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ছাড়াই নিজেদের ইচ্ছামতো শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

এ নিয়ে গত ৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জনৈক তৌহিদুল আলমসহ কয়েকজন অভিভাবক।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব পান। তিনি অভিযোগ তদন্তের জন্য গত ১৩ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নিজের অফিসে উভয় পক্ষকে শুনানিতে উপস্থিত থাকার জন্য চিঠি দেন।

সেদিন অভিযোগকারী অভিভাবকগণ উপস্থিত থাকলেও অভিযুক্ত সেন্ট মেরীস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সিস্টার মেরী সঙ্গীতা অনুপস্থিত ছিলেন বলে জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে।

সিস্টার মেরী সঙ্গীতা প্রথমে ঢাকায় অবস্থান, পরে অসুস্থ এবং সর্বশেষ বড় দিনের অজুহাত তুলে তদন্ত কর্মকর্তার সামনে শুনানিতে উপস্থিত হতে গড়িমসি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, সেন্ট মেরীস স্কুলের সাথে জড়িত এক ব্যক্তি নগরীর হেমসেন লেনে প্রাইভেট কোচিং খুলে চুক্তিভিত্তিতে উক্ত স্কুলে ভর্তিতে শতভাগ নিশ্চয়তা প্রদান করে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী অভিভাবকদের অভিযোগ, ভর্তিতে লটারীর কথা বলে সেন্ট মেরীস স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি ও ভর্তি বানিজ্য চলছে। এখানে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দলের নেতা ও এক শ্রেণীর সাংবাদিকসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের জন্য নির্ধারিত কোটা রেখে, তারা দীর্ঘদিন যাবত এ ধরনের বানিজ্যে জড়িত রয়েছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী অভিভাবক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে লটারী অনুষ্ঠানের নিয়ম থাকলেও তা মানেনি সেন্ট মেরীস স্কুল। নিজেদের ইচ্ছামতো ও যারা মিঃ লরেন্স এর কোচিং সেন্টারে পড়েছে তাদেরকে লটারিতে নির্বাচিত বলে ঘোষনা করে দেয়া হয়েছে। এটা পুরোপুরি অবৈধ ও সরকারি নিয়মের বরখেলাপ। নগরীতে আরো কিছু স্কুলে লটারিতে এ ধরনের অনিয়ম ঘটলেও প্রশাসন বিষয়টি কোনভাবেই আমলে নিচ্ছে না। যার কারণে ভর্তি বাণিজ্য ও কোচিং বাণিজ্য চলমান রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সেন্ট মেরীস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সিস্টার মেরী সঙ্গীতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়; তবে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা বলে শিক্ষা প্রশাসনের ব্যস্ততার অজুহাতে ভর্তি বাণিজ্যের কুশীলবরা তাদের ব্যবসা পুনঃরায় চালু করেছে। শিক্ষা প্রশাসন বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের অনিয়ম সম্পর্কে কোন ধরনের খোঁজ খবর রাখছে না।

তিনি বলেন, ক্যাব থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি পরিদর্শন, শিক্ষার মান নিশ্চিত কল্পে নিয়মিত অভিভাবক সভা আয়োজন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অভিভাবকদের অংশগ্রহন নিশ্চিত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনুমোদন, পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন, বই-উপকরণ, শ্রেণী ও র্বোড পরীক্ষার অনুমোদনে বিষয়গুলো নিশ্চিত করার দাবি করা হলেও অজ্ঞাত কারনে কোনটাই করা হচ্ছে না।

‘ফলে নতুন বছরে ভর্তিতে ঘুরে ফিরে আবারও সেই ভর্তি ও কোচিং বাণিজ্য, অতিরিক্ত ফিস আদায়ের মহড়া, লটারিতে ভর্তির নামে গোপনে লটারি দেখিয়ে পছন্দসই শির্ক্ষার্থী ভর্তি করানো, এসএসসি ও এইসএসসিতে শ্রেণী শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট না পড়লে টেস্ট (নির্বাচনী) পরীক্ষায় অকৃতকার্য করাসহ নানা ভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মহোৎসব শুরু হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী অরিত্রিকে আত্মহননে বাধ্য করার পেছনে মূল কারণ ছিলো ভর্তি বাণিজ্য ও অভিভাবকদের সাথে স্কুল কর্তৃপক্ষের অনিয়মিত সংলাপ। তাই প্রশাসন বিষয়গুলো কঠিনভাবে নজরদারি না করলে এ বিষয়ে পরিত্রাণ পাওয়া কঠিন হবে।