২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, বৃহস্পতিবার

চীনের মহাকাশযান নামল চাঁদের অন্ধকার পিঠে

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৩, ২০১৯, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ

একুশে ডেস্ক : চীনের একটি রোবোটিক মহাকাশযান সফলভাবে চাঁদের অদেখা দূরতম পৃষ্ঠে অবতরণে সক্ষম হয়েছে বলে দেশটি জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) বেইজিং সময় সকাল ১০টা ২৬ মিনিটে মনুষ্যবিহীন চাং’ই-৪ চাঁদের দক্ষিণ মেরুর এইটকেন বেসিন স্পর্শ করে বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

চাঁদের পৃথিবীর দিকে মুখ করা অংশে এর আগে অসংখ্য মহাকাশযান ও নভোচারী নামলেও ‘অন্ধকার অপর পিঠে এটিই প্রথম অভিযান এবং সফল অবতরণ বলে জানিয়েছে বিবিসি। পৃথিবী থেকে দেখা না যাওয়ার কারণেই চাঁদের এ অংশকে ‘অন্ধকার পিঠ’ বা ‘ডার্ক সাইড’ বলা হয়। মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে চাং’ই-৪ এর এইটকেনে নামার ঘটনাটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

রোবোটিক এ মহাকাশযানটি চাঁদের ওই অংশের ভূতত্ত্ব বিশ্লেষণে সক্ষম এমন সরঞ্জাম নিয়ে গেছে; এটি কিছু জৈবিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাও চালাবে বলে জানিয়েছে চীনা গণমাধ্যম।

বিবিসি বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাঁদকে ঘিরে যেসব অভিযান হয়েছে তার বেশিরভাগ অভিযানেই এর কক্ষপথ, মহাকাশযানের ধরন বা প্রভাব গুরুত্ব পেয়েছে। শেষবার ১৯৭২ সালে মানুষের পরিচালনায় চাঁদে নেমেছিল অ্যাপোলো ১৭।

চাঁদের ‘অন্ধকার পৃষ্ঠ’ থেকে চাং’ই-৪ প্রথম ছবি পাঠিয়েছে বলেও জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

এ মহাকাশযানটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সরাসরি কোনো সংযোগ না থাকায় চাং’ই-৪কে ছবি ও তথ্য প্রথমে অন্য একটি কৃত্রিম উপগ্রহে পাঠাতে হয়, সেখান থেকে পরে সেগুলো পৃথিবীতে আসে।

ক্যালটেকের নভোচারী ই কোয়ানচি বিবিসিকে বলেন,এবারই প্রথম চীন এমন এক উদ্যোগ নিল যা অন্যান্য মহাকাশ শক্তিগুলো এর আগে নেয়নি।

গত মাসের প্রথম সপ্তাহে চীনের শিচাং উপগ্রহ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে চাং’ই-৪ মহাশূন্যে উৎক্ষেপণ করা হয়; ১২ ডিসেম্বর এটি চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করে।

এ রোবোটিক মহাকাশযানটি এইটকেন বেসিনের ভন কারমান ক্রেটার নামে একটি অংশে অনুসন্ধান চালাবে। চাঁদের সৃষ্টির শুরুর দিকেই ওই অংশটি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের। বিশাল এ কাঠামোটির ব্যাস আড়াই হাজার কিলোমিটারের বেশি, গভীরতা ১৩ কিলোমিটার। এটি সৌরজগতের অন্যতম দীর্ঘ ইম্প্যক্ট ক্রেটার এবং চাঁদের সবচেয়ে দীর্ঘ, গভীরতম ও পুরনো বেসিন,” বলেছেন যুক্তরাজ্যের সারের ইউসিএল মুলার্ড স্পেস সায়েন্স ল্যাবরেটরির পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক অ্যান্ড্রু কোটস।

একুশে/ডেস্ক/এসসি