২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, বৃহস্পতিবার

টেন্ডার ছাড়াই সরকারি উন্নয়ন কাজ করেন হাটহাজারীর ঠিকাদাররা!

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১০, ২০১৯, ১:২৫ অপরাহ্ণ


শরীফুল রুকন : সরকারি উন্নয়ন কাজের জন্য বরাদ্দ আসেনি। টেন্ডার হয়নি। কার্যাদেশও নেই। এরপরও একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করে আসছেন কিছু ঠিকাদার। এ নিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে নানা জটিলতা। ঘটনা চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হাটহাজারী উপজেলার নন গেজেটেড কোয়ার্টার মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছিল গত বছরের ৪ নভেম্বর।

বরাদ্দ পাওয়ার আগেই বিনা টেন্ডারে ছয় ভাগের এক ভাগ কাজ (নন গেজেটেড ভবন -৬) শেষ করেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তুহিন এন্টারপ্রাইজ। উক্ত কাজের বিল ধরা হয় ১১ লাখ ৪৬ হাজার ১৪৬ টাকা।

প্রায় সাড়ে ৩ মাস আগে হাটহাজারীতে যোগদান করা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুহুল আমিন বিষয়টি অনুসন্ধান করে জানার পর বিস্ময় প্রকাশ করেন।

এরইমধ্যে উক্ত বিল পরিশোধের ব্যবস্থা নিতে ইউএনও’কে অনুরোধও করেন ঠিকাদার সেকান্দার তুহিন।

তবে ঠিকাদারকে ইউএনও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রকল্পের কাজের জন্য আগে বরাদ্দ আসবে। এরপর ই-টেন্ডার হবে, কার্যাদেশ দেয়া হবে। তারপর কাজ বুঝে নিয়ে বিল প্রদান করা হবে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঠিকাদার সেকান্দার তুহিন একুশে পত্রিকাকে বলেন, এটা তো গত বছরের কাজ। আগের ইউএনও ম্যাডাম কাজটা দিয়েছেন। এটা নিয়ে একটু ঝামেলা হচ্ছে।

টেন্ডার ও কার্যাদেশ ছাড়াই কাজ করা ও বিল দাবির বিষয় তুলে ধরলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

এর আগে হাটহাজারীতে টেন্ডার ছাড়াই ৪ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ‘শেষ করে’ ২৭ লাখ ৪০ হাজার ১৯৩ টাকা উত্তোলনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকৌশল দফতরে আবেদন জানিয়েছিলেন একজন ঠিকাদার।

তবে বিনা টেন্ডারে এবং কার্যাদেশ ছাড়াই কাজ করার কারণে উক্ত টাকা দিতে রাজি হননি হাটহাজারী ইউএনও রুহুল আমিন।

জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজস্ব তহবিলের অর্থায়নে বিধিবিধান অনুসরণ করে হাটহাজারীতে চারটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আদেশ দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ।

এতে আরসিসি রাস্তার পাশে ব্রিক ওয়াল দিতে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭৯১ টাকা, সারফেস ড্রেন নির্মাণের জন্য ৮ লাখ ৮৭ হাজার ২৭৯ টাকা, ড্রেনের কালভার্ট নির্মাণের জন্য ১০ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮৯ টাকা ও কার ওয়াশ রুম নির্মাণের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ৫৩৪ টাকা সম্ভাব্য খরচ ধরা হয়।

বিনা টেন্ডারে এসব প্রকল্পের কাজ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বাস্তবায়নও করা হয়নি।

এত বড় অনিয়মের পরও ৪ প্রকল্পের পুরো অর্থ উত্তোলনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকৌশল দফতরে অভিযুক্ত ঠিকাদার মো. সেলিম আবেদন জানিয়েছেন সম্প্রতি। এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করার পাশাপাশি ওই অর্থ ছাড় দিতে অস্বীকৃতি জানান ইউএনও রুহুল আমিন।

এর আগে হাটহাজারীতে দুটি ইউনিয়নের সাতটি কাজ (ড্রেন নির্মাণ ও সড়কের উন্নয়ন) সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন না করেই অর্থ উত্তোলনের জন্য উপজেলা প্রকৌশল দফতরে আবেদন করেন ঠিকাদার আলী আজম। তবে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি কাজ সম্পন্ন না করায় টাকা না দেয়ার পাশাপাশি ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন ইউএনও।

হাটহাজারীর ইউএনও রুহুল আমিন একুশে পত্রিকাকে বলেন, দেশের সব সরকারি সংস্থার কেনাকাটা কার্যক্রম ইলেকট্রনিক পদ্ধতি ই-জিপির (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) আওতায় আনা হয়েছে অনেক আগেই। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে টেন্ডার, পরে কাজ।

তিনি আরো বলেন, কিন্তু হাটহাজারীতে দেখা যাচ্ছে বিনা টেন্ডারেই কাজ করে ফেলছেন ঠিকাদাররা। ই-জিপি বাস্তবায়ন না হওয়াতেই এরকম উল্টো নিয়ম চলছে। সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকার পরও এতদিন কেন ই-জিপি হয়নি সেটাই বিরাট রহস্য।