মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

অনুকরণীয় বাবা-ছেলের গল্প

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২২, ২০১৯, ৯:১৯ অপরাহ্ণ


শরীফুল রুকন : এক জীবনে যা চেয়েছেন, তার চেয়ে বেশীই পেয়েছেন- অ্যাডভোকেট সুনীল বড়ুয়ার ক্ষেত্রেই কথাটা বোধ হয় সবচেয়ে ভালো খাটে। ৮ম শ্রেণীতে পড়ার সময় বাবাকে হারানোর পর অনেক কষ্টে পড়াশোনা শেষ করেন। এরপর যোগ দেন শিক্ষকতা পেশায়। ঘটনাচক্রে আইন পেশায় নাম লেখান এ মুক্তিযোদ্ধা। ক্রমান্বয়ে হয়ে উঠেন ‘সিভিলের রাজা। সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আইনজীবী সমিতিতে তিন তিনবার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন সাতকানিয়া-লোহাগাড়া বৌদ্ধ সংঘ।

সবচেয়ে বড় কথা সুনীল বড়ুয়ার দুই সন্তানই এখন মানবসম্পদে পরিণত হয়েছে। বড় ছেলে বিপ্লব বড়ুয়া বাঙালি বৌদ্ধদের মধ্যে সর্বপ্রথম এবং একমাত্র ব্রিটিশ কোয়ালিফাইড ব্যারিস্টার; বর্তমানে আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক তিনি। ছোট ছেলে ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি ছিলেন; এখন সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তিনি।

অ্যাডভোকেট সুনীল বড়ুয়ার সঙ্গে দেখা হলে যে কারও মনে হবে এক সদা কর্মচঞ্চল মানুষ। বয়স ৭৫ পেরিয়েছে। এই বয়সেও তিনি আদালতে সক্রিয়। সাতকানিয়া চৌকি আদালতে ১৯৯৬ সাল থেকে সহকারি গভর্নমেন্ট প্লিডার (এজিপি)। এরপর ২০১৭ সালে পদোন্নতি পেয়ে হয়েছেন অতিরিক্ত জিপি। চট্টগ্রাম নগরের খুলশীতে নিজের বাসায় বসে আলাপে আলাপে সুনীল বড়ুয়া জানালেন, তাঁর সংগ্রামী জীবন ও দুই ছেলের উঠে আসার গল্প।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার বড়হাতিয়া এলাকার বাসিন্দা সুনীল বড়ুয়ার বাবা লাপ্রু বড়ুয়া ছিলেন ব্রিটিশ বনবিভাগের ফরেস্টার। দাদা রাজচন্দ্র ছিলেন ওই এলাকার জমিদার। ৯ম শ্রেণীতে উঠার আগেই বাবাকে হারান সুনীল বড়ুয়া। বড়হাতিয়ার নিভৃতপল্লীতে তখন ছিল না লেখাপড়ার পরিবেশ। অধিকাংশ লোক পড়াশোনাবিমুখ। গ্রামে প্রবচন ছিল ‘হালত হন, পড়নত মরণ।’ এর মাঝেই গ্রামের মাত্র তিনজন পড়ুয়া ছিলেন। বাড়ি থেকে হেঁটে পাঁচ মাইল দূরের গোলামবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তে যেতেন সুনীল বড়ুয়া।

১৯৬২ সালে সেই স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন। এরপর ১৯৬৩ সালে সাতকানিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি। ১৯৬৫ সালে একই কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন সুনীল বড়ুয়া। এরপর যোগ দেন শিক্ষকতা পেশায়। ১৯৬৬ সাল থেকে এক বছর চন্দনাইশের সাতবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। বড়হাতিয়ায় সেনেরহাট বিজি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হন ১৯৬৮ সালে। তারপর ১৯৬৯ সাল থেকে একটানা ১৬ বছর শিক্ষকতা করেন সাতকানিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে। পড়াতেন বাংলা ও ইংরেজী।

নিজের শিক্ষকতা জীবনের স্মৃতিচারণ করে সুনীল বড়ুয়া বলেন, ‘১২৫ টাকা বেতনে সাতকানিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগ দিই। তখন তো আমরা গুরুগিরি করেছি। শিক্ষকতা শিক্ষকতার মতো করেছি। ডেকে ডেকে ভালো ছেলেদের বিনা পয়সায় কোচিং করাতাম। ভালো করলে স্কুলের ফলাফল ভালো হবে- এ ধরনের মন-মানসিকতা আমাদের ছিল।’

এরই মধ্যে ১৯৬৭ সালে সাতকানিয়ার কলাউজানের বাসিন্দা অমিয় প্রভা বড়ুয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সুনীল বড়ুয়া। শশুর ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব। তাঁর পরামর্শে ১৯৭৮ সালে স্ত্রী অমিয় প্রভা বড়ুয়া পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি নেন। তবে স্বামীর কর্মস্থল বাঁশখালী হওয়ায় ও ছেলেদের পড়ালেখায় অসুবিধা হবে ভেবে ১৯৮৪ সালে সে চাকরি ছেড়ে দেন অমিয় প্রভা বড়ুয়া।

এর আগে বড়হাতিয়ার নিভৃত পল্লী থেকে ১৯৮০ সালে সাতকানিয়া সদরে বাসা নিয়ে ছেলেদের নিয়ে আসেন সুনীল বড়ুয়া। বিপ্লবকে রূপকানিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম এবং বিদ্যুৎকে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করেন। বাড়ন্ত অবস্থায় মূল্যবান উপদেশ দিয়ে সন্তানদের জীবনের পথ বাতলে দেন সুনীল বড়ুয়া। সে সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘তাদের একাডেমিক ফলাফল ছোট থেকেই ভালো ছিল। নিজেরাই পড়তো। ছোট যখন ছিল, মাঝে মাঝে বলতে হতো, তাগাদা দিতে হতো, গাইড করেছি। তাদেরও আগ্রহ ছিল। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত দুইজনই সরকারি মেধাবৃত্তি পেয়েছে। বৃত্তি পাওয়ায় আমার কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকেও বৃত্তি পেত। জেলা পরিষদ থেকেও বৃত্তি দিয়েছে। তারাও কষ্ট করেছে। এমনিতে তো আর হয়নি।’

এদিকে বাবার মৃত্যুর পর সুনীল বড়ুয়া কাছ থেকে দেখলেন ভূমিদস্যুরা তাদের জমি-জমা গ্রাস করে নিচ্ছে। সেই থেকে তিনি পণ করলেন বড় হয়ে আইনজীবী হবেন, বেদখল হয়ে যাওয়া বাবার সম্পত্তিগুলো উদ্ধার করবেন। হয়েছেনও তাই। ১৯৮৩ সালে বার কাউন্সিলের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সনদ লাভ করেন। সনদ পেয়েই শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে যোগ দেন আইন পেশায়। প্র্যাকটিস শুরু করেন সাতকানিয়া-লোহাগাড়া বারে। তিনি শুধু আইনজীবীই হননি, ‘সিভিলের রাজা’ হয়েছেন। নিজের বাবার রেখে যাওয়া জমি যেমন উদ্ধার করেছেন, তেমনি মানুষের বেদখল হয়ে যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধারে পাশে দাঁড়িয়েছেন, আইনী লড়াই চালিয়েছেন। এবং সেখানে সফলও হয়েছেন।

১৯৮৪ সালে এরশাদ সরকার উপজেলা ব্যবস্থা চালু করলে বাঁশখালী আদালত সাতকানিয়া থেকে বাঁশখালী উপজেলায় চলে যান সুনীল বড়ুয়া। স্মৃতি হাতড়ে তিনি বলেন, ‘তখন আমার সিনিয়র ছিলেন তৎকালীন নামকরা আইনজীবী শান্তিপ্রদ ঘোষ। তিনি বললেন, সুনীল বাবু বাঁশখালীতে মামলা বেশী, আপনি সেখানে চলে যান। এরপর ১৯৮৪ থেকে ৮৭ সাল পর্যন্ত বাঁশখালীতে ছিলাম। ৮৭ সালে বিপ্লব যখন এসএসসি পাশ করলো জলদি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে, তখন তাদের লেখাপড়া, খাওয়া-দাওয়ায় অসুবিধা হবে চিন্তা করে একই বছরের ডিসেম্বরে আমি সাতকানিয়ায় চলে আসি। এরপর সাতকানিয়া কলেজে ভর্তি হয় বিপ্লব।’

বড় ছেলে বিপ্লব বড়ুয়ার বেড়ে উঠার স্বাক্ষী সুনীল বড়ুয়া বলেন, ‘ছোটবেলায় শিশু সংগঠন চাঁদের হাটের সাথে সম্পৃক্ত ছিল বিপ্লব। নবম শ্রেণী থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল। সাতকানিয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক, সাতকানিয়া থানা ছাত্রলীগের এডহক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিল। ১৯৮৮ সালের ১২ এপ্রিল সাতকানিয়ায় জামাত-শিবিরের হামলায় গুরুতর আহত হয় বিপ্লব।’

পরে দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়ার সুযোগ পান বিপ্লব বড়য়া। ওই বিভাগের ছাত্রলীগ সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় কমিটির সদস্যও ছিলেন। ১৯৯২-১৯৯৪ রাজনৈতিক কারণে নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন উদীয়মান আওয়ামী লীগ নেতা ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। এরপর ১৯৯৪ সালে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত অবস্থায় পুলিশের হামলায় আহত হন। পরে ১৯৯৬ সালে বাংলা একাডেমির বইমেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আগমনকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন।

২০০২ সালে ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ করার অভিযোগে খালেদা জিয়ার জোট সরকার বাংলাদেশ টেলিভিশনের বার্তা বিভাগের প্রযোজক পদ থেকে বে-আইনীভাবে চাকুরিচ্যুত করে বিপ্লব বড়ুয়াকে। এরপর সরকারের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তার সহযোগিতায় ব্যারিস্টারি পড়তে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান বিপ্লব বড়ুয়া। উল্ভারহ্যাম্পটন ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। যুক্তরাজ্যের সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে বার ভোকেশনাল কোর্স (পিজিডিএল), যুক্তরাজ্যের কল টু দ্যা বার ‘দ্যা অনারেবল সোসাইটি অব গ্রেস ইন’ ডিগ্রি লাভ করেন বিপ্লব বড়ুয়া। ২০০৮ সালে অ্যাডভোকেটশিপ পান তিনি।

বিদ্যুৎ বড়ুয়ার বেড়ে উঠা প্রসঙ্গে বাবা সুনীল বড়ুয়া বলেন, ‘বিদ্যুৎ রাজধানীর রেসিডেন্সিয়াল কলেজে ভর্তি হয়। সে নটরডেমেও চান্স পেয়েছিল। কিন্তু সেখানে আবাসিক ব্যবস্থা না থাকায় ভর্তি হয়নি। নটরডেমে ভর্তি পরীক্ষার দিন সবার আগে খাতা দিয়ে বের হয়ে আসে বিদ্যুৎ। যিনি পরীক্ষা পর্যবেক্ষক ছিলেন, তিনি খাতাটা দেখে তাকে ভর্তি ফরম দিয়ে দেন। তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কোন স্কুলের ছাত্র? বিদ্যুৎ বলেছে, আমি সাতকানিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। তখন তিনি বলেছিলেন, গ্রামের স্কুলে এত ভালো ছেলে থাকে? বিদ্যুৎ সবসময় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা শেষ করে। সে কোনোদিন সেকেন্ড হয়নি।’

তখন লেখাপড়ার মান ছিল। গ্রামে ভালো লেখাপড়া হতো। রেসিডেন্সিয়ালে দিলাম, কারণ সেখানে থাকার ব্যবস্থা আছে। সেখান থেকে স্টার মার্ক নিয়ে পাশ করার পর ঢাকা মেডিকেলে সুযোগ পেল। সেখানে ছাত্রসংসদের ভিপি ছিল। ছাত্রলীগ করায় বিদ্যুৎসহ ১৫০ জনকে সে সময় সরকারি চাকরি দেয়নি বিএনপি সরকার। এরপর সুইডেন গিয়েছিল বিদ্যুৎ। সেখান থেকে ডেনমার্ক। এখন সে সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।’ যোগ করেন তিনি।

সাধারণ জ্ঞানের প্রতি দুই ছেলের আগ্রহ তৈরীর কৌশলটিও জানালেন সুনীল বড়ুয়া; ‘যায়যায়দিন, ইত্তেফাক- এসব পত্রিকা- ম্যাগাজিন ১৯৮০ সাল থেকে আমি বাসায় রাখতাম। এতে ছোটবেলা থেকে পত্রপত্রিকা পড়ার অভ্যাস হয়ে যায় তাদের। কাল সারা বিশ্বে কী ঘটেছে সেটা বিপ্লব, বিদ্যুৎ বলে দিতে পারতো। সাধারণ জ্ঞানের কোনো পরীক্ষায় তারা অংশগ্রহণ করেছে শুনলে আর কেউ অংশ নিতে চাইতো না। কারণ পত্রপত্রিকা পড়তো নিয়মিত। এটার অভ্যাস আমি করিয়েছি। তখন আট আনা দাম ছিল ইত্তেফাকের। আমি ভারত থেকে ডাকে এনে ডেইলি স্টেটসম্যান পত্রিকা পড়তাম। তাদের গ্রাহক ছিলাম। একটার জন্য এক টাকা দাম নিতো। ইংরেজির প্রতি আমার আগ্রহ ছিল।

মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া সুনীল বড়ুয়া বলেন, ‘পাকিস্তানিদের খবর সংগ্রহের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার, রসদ সরবরাহ করাই ছিল আমার কাজ। তখন আমি সাতকানিয়া মডেল হাই স্কুলের শিক্ষক।’

১৯৬৪ সাল থেকে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন সুনীল বড়ুয়া। দিয়েছেন সাংগঠনিক দক্ষতা-সক্ষমতার পরিচয়। ১৯৮৮ সালে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া বৌদ্ধ সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন, ২০০০ সাল পর্যন্ত একাধারে ১২ বছর সেই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সংগঠনটিতে এখন ৫৫ লাখ টাকার ফান্ড তৈরী হয়েছে। বছরে ৪-৫ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তি দেয়া হয়। দু:স্থ মানুষজন সহায়তা পান। দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার জন্য অনুদানও দেয়া হয়।

নিজেকে এখন সফল মানুষ ভাবেন সুনীল বড়ুয়া, ‘এই জীবনে যতটুকু চেয়েছি, মনে হয় তারও বেশী পেয়েছি। দুই ছেলে আজ স্ব নামে সুপরিচিত, প্রতিষ্ঠিত। নিজের উপার্জনে গ্রামে বাড়ি করেছি, ঢাকা ও চট্টগ্রামে ফ্ল্যাট কিনেছি। তবে কষ্ট হয়েছে। তারাও কষ্ট করেছে। কষ্ট না করলে তো সম্ভব হতো না।’

দুই ছেলে ‘ভালো মানুষ’ হিসেবে মানুষের কাছে আরো পরিচিতি পাবে- সেটাই কামনা করেন প্রবীণ এ আইনজীবী। তিনি বলেন, ‘বিপ্লব হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করলে মাসে অন্তত ১০ লাখ টাকা আয় করা কোন ব্যাপার না। তার স্ত্রী বিমান বাংলাদেশে চাকরি করে। বিদ্যুৎও বিদেশে ভালো অবস্থানে আছে। ছেলেদের বলেছি, অ পুত এত টাকার দরকার নাই। জীবন চালাতে এত টাকা লাগে না। একটা গাড়ি, একটা বাড়ি থাকলে যথেষ্ট। দিন কিন্তু চলে যাবে। টাকা বেশী আয় করো বা কম করো। শুধু ধনী হলে সুখী হওয়া যায় না।’