
দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিনিধি : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে রোববার বিকেলে স্থানীয় কিম্পু ফরেন সেন্টারের হলরুমে বাংলাদেশ স্পোর্টস অ্যান্ড কালচারাল ইন কোরিয়ার উদ্যোগে হয়ে গেলো এক প্রাণবন্ত অনুষ্ঠান।
সালাউদ্দীন তারেকের সঞ্চালনায় ও কাজী শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন কিম্পুর নগরীর মেয়র জং হা ইয়ং, বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর মোহাম্মদ মাসুদ রানা চৌধুরী ও কিম্পু ফরেন সাপোর্ট সেন্টারের প্রধান চে ইয়ং ইল।
রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগানে ঢাকার রাস্তায় নেমে আসা বাঙালি ছাত্রজনতার ওপর পাকিস্তানি সরকারের নিপীড়নবাদী পুলিশের নির্বিচারে গুলিবর্ষণের কথা উল্লেখ করেন। এ সময় মাতৃভাষার অধিকার ও মর্যাদারক্ষায় বাঙালির অত্যুজ্জ্বল ত্যাগ, আত্মদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন রাষ্ট্রদূত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাথে দক্ষিণ কোরিয়ার ভাষা ও সংস্কৃতির দারুণ মেলবন্ধন রয়েছে। মাতৃভাষার জন্য যেমন আমরা রক্ত দিয়েছি, তেমনি কোরিয়ানরা কোরিয়ান হাংগলের জন্য অনেক লড়াই সংগ্রাম করেছেন। ভাষার এই মেলবন্ধনের ওপর দাঁড়িয়ে মানুষে মানুষে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব।
মেয়র জং হা ইয়ং বলেন, কোরিয়া ও বাংলাদেশ বন্ধুপ্রতীম দেশ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। নিজেদের ভাষার জন্য জীবন বলিদান করে বাঙালিরা তাদের আত্মমর্যাদা ও গৌরব অর্জন করেছে। মেয়র কিম্পুতে বসবাসরত বাংলাদেশীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
কাউন্সেলর মোহাম্মদ মাসুদ রানা চৌধুরী বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের আপামর মানুষের মহোত্তম গৌরবের দিন। দিবসটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পৃথিবীব্যাপী স্বীকৃত। দিনটি বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের মর্মন্তুদ ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত দিন।
প্রাণবন্ত আলোচনা, পারস্পরিক ভাববিনিময়, ই-৭ ফোর ভিসাপ্রাপ্ত এফ টু সিক্স ভিসাপ্রাপ্তদের সম্মাননা প্রদান, নানা পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশিরা পরস্পরকে জেনেছেন, চিনেছেন অনুষ্ঠানে। সবমিলিয়ে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের মিলনমেলা ও কোরিয়ান নাগরিকদের সাথে সেতুবন্ধনের বড় প্লাটফর্ম।
অনুষ্ঠানে কিম্পু শহরের মেয়র জং হা ইয়ং ও কিম্পু ফরেন সাপোর্ট সেন্টারের প্রধান চে ইয়ং ইলকে বাংলাদেশি উত্তরীয় পরিয়ে দেন রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম।
একুশে/ওএফএইচ/এটি